১০:৫৮ এম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বর্তমানে একটি বিরল প্রজাতির মৃত সামুদ্রিক মাছের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ বা ‘ফাইলফিশ’ নামে পরিচিত মাছটি দেখা যায় রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলের দিকে কুয়াকাটার চর গঙ্গামতি সৈকতে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা এটি দেখতে পান। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মাছটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল তার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, মোটরসাইকেলে করে চর গঙ্গামতি এলাকায় যাওয়ার সময় সৈকতের বালুচরে তিনি অস্বাভাবিক আকৃতির একটি মৃত মাছ পড়ে থাকতে লক্ষ্য করেন। মাছটি গভীর সমুদ্র থেকে রাতের জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে।
স্থানীয় পর্যটন ও পরিবেশকর্মী কে এম বাচ্চু মন্তব্য করেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন মাছ দেখা যায়নি। সম্ভবত এটি গভীর সমুদ্র থেকে জোয়ারের পানিতে উপকূলে চলে এসেছে। এটি আসলেই একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ব্লু-অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান মাছটিকে ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ বা ‘ফাইলফিশ’ হিসেবে শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, এটি একটি বিরল প্রজাতির মাছ, যা গভীর সমুদ্রে বসবাস করে। পরিবেশগত পরিবর্তন, ঝড়ো আবহাওয়া, সাগরের স্রোতের অস্বাভাবিকতা কিংবা অসুস্থতার কারণে মাঝে মাঝে এ ধরনের মাছ উপকূলে মৃত অবস্থায় ভেসে আসতে পারে। তবে এমন ঘটনা সত্যিই বিরল।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম হল Aluterus monoceros। এর শরীর চ্যাপ্টা, চামড়া মোটা ও খসখসে হওয়ায় একে ‘লেদারজ্যাকেট’ বলে অভিহিত করা হয়। মাথার ওপর একটি সরু কাঁটা রয়েছে, যা এই প্রজাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রবাল ও পাথুরে এলাকার বাসিন্দা হিসেবে এদের পরিচিতি রয়েছে। এরা খাদ্য হিসেবে শৈবাল, স্পঞ্জ, জেলিফিশ, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, চিংড়ি, শামুক এবং অন্যান্য তলদেশীয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে থাকে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, মাছটি ফাইলফিশ প্রজাতির। উপকূলে এ ধরনের বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসলে তা সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা দরকার।
সম্প্রতি কুয়াকাটা উপকূলে একের পর এক বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছের ভেসে আসার ঘটনা গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, স্রোতের পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার বৈরী প্রভাবের সঙ্গে এসব ঘটনার সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন