১১:১৬ এম
মুক্তবাংলা কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সীমান্তবর্তী তাজের ভোমরা গ্রামে। ২২ বছর পরেও প্রতিষ্ঠানটিতে একটি পাকা ভবন নেই, হয়নি এমপিওভুক্তও। নানা সমস্যায় ধুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কারণে তিনশো শিক্ষার্থী থেকে কমে এখন এটি দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্কুল জানাচ্ছে, কুমিল্লার লালমাই, নাঙ্গলকোট ও লাকসামের সীমান্তবর্তী তাজের ভোমরা গ্রামে ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সৈয়দ খোরশেদ আলম। ৩৫ শতক জমি দান করেছেন গ্রামের দানবীর মাওলানা ওসমান গনি। আরেক দানবীর আবদুল হালিম মজুমদার পরবর্তীতে আরো ১৪ শতক জমি দান করেন। স্কুলটির আশপাশে চার কিলোমিটার অঞ্চলে কোন উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় সৈয়দ খোরশেদ আলম এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। তবে, স্কুলটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। প্রধান শিক্ষক বিনা বেতনে স্কুলটি ধরে রেখেছেন।মাত্র নামমাত্র বেতনে কয়েকজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ভবন না থাকার কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল মাঠে পানি জমে আছে। শিক্ষার্থীরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে প্রবেশ করছেন। স্কুলটির টিনের দোচালা ভবন রয়েছে। ঘর ও বারান্দার চাল থেকে পানি পড়ছে। বারান্দাও পানিতে ডুবে রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে ইটের ওপর দিয়ে হাঁটছেন। ক্লাসের ভেতরে পানি পড়ায় বই ও খাতা ভিজে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত লাইট না থাকায় অন্ধকার কক্ষে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন। পানি পড়ে কক্ষের মেঝে যেন ধানের চাষের জমি হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রধান শিক্ষক সৈয়দ খোরশেদ আলম বলেন, টিনের ঘরে মোট ৫টি কক্ষ রয়েছে। একটি কক্ষে আমরা শিক্ষকরা বসি। বাকি চারটি কক্ষে ৫টি শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে। এক কক্ষে দুইটি শ্রেণিকে একসাথে বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
লালমাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদুল্লাহ বলেন, আমাদের উপজেলায় আর কোনো কারিগরি স্কুল নেই। স্কুলটি এমপিওভুক্ত হলে এবং ভবন হলে শিক্ষার মান আরো উন্নত হবে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন