শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৮ পি.এম
ইউরোপের তিনটি দেশ থেকে ৩৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ জন ইতালি থেকে, ১০ জন গ্রিস থেকে এবং ৬ জন সাইপ্রাস থেকে এসেছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সহায়তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তাঁরা দেশে ফিরে নতুন করে জীবিকা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দেশে ফেরার পর তাঁদের জরুরি সহায়তা ও কাউন্সেলিং প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ঝুঁকি নিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাত্রা নিরুৎসাহিত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরিতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া সহজ করতে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।
অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি, মানবপাচার ও জীবনহানির ঝুঁকিতে পড়েন। এ কারণে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বৈধ পথ অনুসরণ, ভিসা ও কাজের অনুমতিপত্র যাচাই এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হারুন অর রশিদ মোল্লা আজ দুপুর ৩টায় সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে সস্ত্রীক পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য যাত্রা করবেন।
হারুন অর রশিদ মোল্লার প্রতিষ্ঠিত হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় সহায়তা প্রদান, দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, মসজিদ-মাদ্রাসায় সহযোগিতা এবং ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের অসচ্ছল মানুষের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।
মানবিক এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় হারুন অর রশিদ মোল্লা সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর এই পবিত্র সফর উপলক্ষে বাবুগঞ্জ উপজেলার সকল স্তরের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
তিনি ও তাঁর স্ত্রী যেন নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে নির্বিঘ্নে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে পারেন এবং ইবাদত শেষে সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য এলাকাবাসীসহ সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁদের পবিত্র ওমরাহ কবুল করেন, সফর নিরাপদ ও বরকতময় করেন এবং সুস্থতার সঙ্গে ইবাদত সম্পন্ন করে দেশে ফেরার তৌফিক দান করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে সামরিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান যৌথভাবে নির্ধারণ এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
শুক্রবার, দুই দেশের মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) বিস্ফোরণের কারণে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটার পর এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়।
এটি সম্পর্কে খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিবিষয়ক উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম হং-চল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছি, যার উদ্দেশ্য হলো স্থলসীমান্তের সামরিক বিভাজনরেখার (এমডিএল) সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা করা এবং সীমান্ত এলাকায় অনাকাক্সিক্ষত সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা।”
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে, যাতে জাতিসংঘ কমান্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কিম আরও বলেন, “পানমুনজমের মাধ্যমে বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সিউল উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবে।
গত মাসে, দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানকে উপহাসের সঙ্গে নাকচ করেছে।
১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ডিএমজেড দুই কোরিয়াকে পৃথক করে রেখেছে। এটি একটি ভারী মাইন পোঁতা বাফার অঞ্চল, যেখানে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন মন্তব্য করেছেন যে, পরিবারের সকল সদস্যের যত্ন নিলেও নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেন না। লজ্জাবোধের কারণে অনেক নারী স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা সমস্যা দেখা দিলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হন। তাই পরিবারের প্রতিটি নারী সদস্যকে নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা এবং স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড়ে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন উল্লেখ করেন, এই গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা মূলত ঢাকা শহরকেন্দ্রিক ছিল। তবে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ২০২০ সালের পর থেকে ঢাকার বাইরেও এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্তন ক্যানসার সচেতনতার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাঙালি নারীরা পরিবারের সবার প্রতি যত্নবান হলেও অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে অবহেলা করেন। আবার লজ্জাবোধের কারণে অনেকে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিলে তা গোপন রাখেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নারীদের নিজের শরীরের প্রতি সচেতন হতে হবে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্তন ক্যানসার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে বরিশাল অভিমুখে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’ শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশসহ স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করা অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গোলাপি রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বাসে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষজ্ঞ সার্জন, ক্যানসারজয়ী ব্যক্তি, সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এ অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
প্রথম দিনের কর্মসূচিতে শ্রীনগর, ভাঙ্গা, টেকেরহাট, রাজৈর, কালকিনি, টরকী বন্দর, গৌরনদী, বাটাজোর, শিকারপুর ও উজিরপুর হয়ে বরিশালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে শোভাযাত্রাটির। নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের বরিশালে রাত্রিযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে বরিশাল থেকে যাত্রা শুরু করে নলছিটি, ঝালকাঠি, দুর্গাসাগর, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, রহমতপুর, মস্তফাপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও নড়িয়াসহ প্রায় ৪০টি ছোট-বড় জনপদে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও প্রচারপত্র বিতরণ শেষে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় ফিরে আসবে।
শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও ক্যানসার রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ের জন্য ৬,৬০৮.১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবটি পুলিশের দীর্ঘদিনের যানবাহন সংকট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশের আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমকে জোরদার করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।
এই প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে ৪,৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে ৪,৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ে এবং ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা খরচ হবে ১,০০১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য। উভয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময়সীমা অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে।
পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান যানবাহনের ঘাটতি এবং তাদের কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে প্রায় ১,৪৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১,২৩৭টি যানবাহন রয়েছে।
প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুইটিরও কম যানবাহন রয়েছে এবং বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় পুলিশকে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মী মোতায়েন করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ফলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে সক্ষম হবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে। আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই জলযানগুলো নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে। যানবাহন কেনার পাশাপাশি প্রকল্প দুটিতে সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের অধীনে, ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীর জন্য ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনের জন্য মেকানিক্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির জন্য দেড় কোটি টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত সম্মিলিত ব্যয় ২,০৮০.৯৪ কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,৮৬৭.৫৫ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১,৬৬০.৫৮ কোটি টাকা। উভয় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে হকস বে। এর প্রতিটি অর্থনৈতিক মূল্যায়নে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১.০৫ উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ব্যবহৃত অনুমান অনুযায়ী প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা আনুমানিক ব্যয়কে সামান্যভাবে ছাড়িয়ে যায়।
কার্যকরী যানবাহন প্রকল্পের জন্য আনুমানিক নীট বর্তমান মূল্য ১৯.২২ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের জন্য ১৭৬.০৯৬ কোটি টাকা, যেখানে দ্বিতীয়টি ১২ শতাংশ বাট্টার হার ব্যবহার করে গণনা করা হয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে একটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণ বাদ দেওয়া হয় এবং প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গণপ্রশিক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের প্রবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য সংশোধন করা হয়।
এটি নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি আলাদাভাবে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটির কোনটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন একনেকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অনুমোদন পেলে প্রকল্প দুটি দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এ বিনিয়োগের ফলে জননিরাপত্তা কতটা উন্নত হবে, তা কার্যকর ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজনভিত্তিক যানবাহন বণ্টন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাড়তি চলাচল সক্ষমতাকে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ