শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩০ পি.এম
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন মন্তব্য করেছেন যে, পরিবারের সকল সদস্যের যত্ন নিলেও নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেন না। লজ্জাবোধের কারণে অনেক নারী স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা সমস্যা দেখা দিলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হন। তাই পরিবারের প্রতিটি নারী সদস্যকে নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা এবং স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড়ে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন উল্লেখ করেন, এই গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা মূলত ঢাকা শহরকেন্দ্রিক ছিল। তবে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ২০২০ সালের পর থেকে ঢাকার বাইরেও এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্তন ক্যানসার সচেতনতার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাঙালি নারীরা পরিবারের সবার প্রতি যত্নবান হলেও অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে অবহেলা করেন। আবার লজ্জাবোধের কারণে অনেকে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিলে তা গোপন রাখেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নারীদের নিজের শরীরের প্রতি সচেতন হতে হবে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্তন ক্যানসার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে বরিশাল অভিমুখে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’ শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশসহ স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করা অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গোলাপি রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বাসে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষজ্ঞ সার্জন, ক্যানসারজয়ী ব্যক্তি, সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এ অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
প্রথম দিনের কর্মসূচিতে শ্রীনগর, ভাঙ্গা, টেকেরহাট, রাজৈর, কালকিনি, টরকী বন্দর, গৌরনদী, বাটাজোর, শিকারপুর ও উজিরপুর হয়ে বরিশালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে শোভাযাত্রাটির। নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের বরিশালে রাত্রিযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে বরিশাল থেকে যাত্রা শুরু করে নলছিটি, ঝালকাঠি, দুর্গাসাগর, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, রহমতপুর, মস্তফাপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও নড়িয়াসহ প্রায় ৪০টি ছোট-বড় জনপদে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও প্রচারপত্র বিতরণ শেষে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় ফিরে আসবে।
শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও ক্যানসার রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ের জন্য ৬,৬০৮.১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবটি পুলিশের দীর্ঘদিনের যানবাহন সংকট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশের আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমকে জোরদার করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।
এই প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে ৪,৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে ৪,৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ে এবং ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা খরচ হবে ১,০০১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য। উভয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময়সীমা অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে।
পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান যানবাহনের ঘাটতি এবং তাদের কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে প্রায় ১,৪৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১,২৩৭টি যানবাহন রয়েছে।
প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুইটিরও কম যানবাহন রয়েছে এবং বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় পুলিশকে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মী মোতায়েন করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ফলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে সক্ষম হবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে। আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই জলযানগুলো নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে। যানবাহন কেনার পাশাপাশি প্রকল্প দুটিতে সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের অধীনে, ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীর জন্য ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনের জন্য মেকানিক্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির জন্য দেড় কোটি টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত সম্মিলিত ব্যয় ২,০৮০.৯৪ কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,৮৬৭.৫৫ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১,৬৬০.৫৮ কোটি টাকা। উভয় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে হকস বে। এর প্রতিটি অর্থনৈতিক মূল্যায়নে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১.০৫ উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ব্যবহৃত অনুমান অনুযায়ী প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা আনুমানিক ব্যয়কে সামান্যভাবে ছাড়িয়ে যায়।
কার্যকরী যানবাহন প্রকল্পের জন্য আনুমানিক নীট বর্তমান মূল্য ১৯.২২ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের জন্য ১৭৬.০৯৬ কোটি টাকা, যেখানে দ্বিতীয়টি ১২ শতাংশ বাট্টার হার ব্যবহার করে গণনা করা হয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে একটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণ বাদ দেওয়া হয় এবং প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গণপ্রশিক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের প্রবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য সংশোধন করা হয়।
এটি নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি আলাদাভাবে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটির কোনটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন একনেকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অনুমোদন পেলে প্রকল্প দুটি দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এ বিনিয়োগের ফলে জননিরাপত্তা কতটা উন্নত হবে, তা কার্যকর ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজনভিত্তিক যানবাহন বণ্টন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাড়তি চলাচল সক্ষমতাকে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার জুড়ে আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং প্রাইভেটকার। অন্য পাশের লেন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও অবরোধের কারণে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত অটোরিকশা চালক তাদের অটোরিকশা রাস্তার মাঝে আড়াআড়ি করে রেখে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যাত্রী, নারীরা, শিশু এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান এবং উত্তেজিত শ্রমিকদের মাঝে গিয়ে মানবিক ও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন।
ওসি বলেন, "এভাবে রাস্তা বন্ধ করা ঠিক না। এটা প্রতিবাদ করার সঠিক নিয়ম না। আপনারা গরিব মানুষ, আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। এই বিষয়টা আমি সরকারের কাছে, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজে-কলমে লিখে জানিয়ে দেব। সরকার একটা ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের দায়িত্ব আমি নিলাম। এই এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের খোঁজ খবর নেবে। দয়া করে বাবারা, আপনারা রাস্তাটা ছেড়ে দিন। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।" তাঁর এই মানবিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।
এসময় উপস্থিত স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান বলেন, "আমাদের ওসি সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি মানবিক কারণে আপনাদের গরিব মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরকম ওসির প্রয়োজন, এরকম পুলিশের প্রয়োজন। আপনারা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ওসি সাহেবের কথার উপর ভরসা করে রাস্তা ক্লিয়ার করে দেন।"
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানি, অটোরিকশা আটক এবং অযথা টাকা আদায়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের দাবি, মহাসড়কে চলাচলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে হবে।
একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গরিব, দিন আনি দিন খাই। আমাদেরকে যদি প্রতিদিন আটক করা হয়, তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?"
পরে ওসি মোঃ শহিদুল ইসলামের আশ্বাস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর চালকরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় চাম্পির তাণ্ডবে পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যার মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, জাপান এবং ফিলিপাইন, চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। তাইওয়ানে এই ঝড়ের আঘাতে লিউকিউ দ্বীপে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৯৪ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই জরুরি ব্রিফিংয়ে জনসাধারণকে সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ঝড়টির গতিবেগ ছিল ১৮৫ মাইল (২৯৮ কিলোমিটার), যা ৫ হারিকেন ক্যাটাগরির কাছাকাছি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিবিসির লাইভে জানানো হয়েছে, তাইওয়ান ও জাপানে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাইওয়ানের ২২টি কাউন্টি ও শহরের প্রায় সবকটিতে স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও, দেশটির বিশ্বখ্যাত স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার তাইওয়ানে সব ধরনের ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ট্রেনের সময়সূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং বেশ কিছু মহাসড়ক বন্ধ করে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাপানে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও জাপান এয়ারলাইন্সসহ চার প্রধান বিমান সংস্থার ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অন্তত ১১ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। ওকিনাওয়া অঞ্চলে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি পরিবার। প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি জনগণকে ঝোড়ো হাওয়া, পাহাড় ধস ও বন্যা সম্পর্কে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় বাতানেস দ্বীপেও ঝড়টি প্রচণ্ড বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। চীনের আবহাওয়া সংস্থা চাম্পির সতর্কতায় নীল সংকেত জারি করেছে এবং পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে কমলা সংকেত দেওয়া হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবের কারণে অঞ্চলটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানান।
তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই এবং সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান লু কুও-চেন জনগণকে সমুদ্র সৈকত ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছেন। জাতীয় ফায়ার এজেন্সির চিয়াং চি-চিয়াং সতর্ক করে জানিয়েছেন, হুয়ালিয়েনের ওয়ানলি ক্রিক ভূমিধস বাঁধে গচ্ছিত ৫০ লাখ মেট্রিক টন পানির ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছয় বছর আগে খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়েছিল। এরপর থেকে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোই পাঁচ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পার হচ্ছে, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও বয়স্করা চলাচল করছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নিতেও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২নং কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু না থাকায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও যেতে হলে বাঁশের সাঁকোর ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধান হলেই খালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বছরের পর বছর এভাবে চলাচল করলেও সেতু নির্মাণের জন্য কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। ২০২০ সালে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। সেটিই এখন ২নং কয়রা, ওড়াতলা, গোবরা, হরিণখোলা ও পূর্বচকসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।
ওড়াতলা গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা রিপন আহম্মেদ বলেন, ‘সেতু খালে পড়ে আছে, পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়, মানুষ বাজারে যায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই খালে পড়ে যাওয়ার ভয়। ছয় বছর ধরে এমন কষ্ট করছি, কিন্তু সেতু আর হলো না।’
এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারাও একই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সেতুর অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে একটি বাঁশের সাঁকো। সেটি দিয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্কুলগামী শিশুরা ভয়ে ভয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। বয়স্কদের কেউ কেউ অন্যের সহায়তা নিয়ে পার হচ্ছেন। পাশেই পড়ে আছে ভাঙা সেতুর অবশিষ্টাংশ। সেতুটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেতু না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ভ্যান, ইজিবাইক ও পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
২ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা গফুর সানা বলেন, সাঁকো পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পিছলে পড়ে যায়। তাদের বই-খাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হয়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। রাতে কোনো রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে স্বজনদের বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাঁচ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। বছরের পর বছর বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে একটি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা চলতে পারে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি ও বয়স্কদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সভায় বারবার বিষয়টি তুলে ধরলেও সমাধান মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি।’
কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ভাঙা সেতুর কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ছয় বছর ধরে সেতু না থাকায় পাঁচ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন, যা উদ্বেগজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, সমস্যাটির বাস্তবসম্মত সমাধানে কী করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ