প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইউরোপের তিনটি দেশ থেকে ৩৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ জন ইতালি থেকে, ১০ জন গ্রিস থেকে এবং ৬ জন সাইপ্রাস থেকে এসেছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সহায়তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তাঁরা দেশে ফিরে নতুন করে জীবিকা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দেশে ফেরার পর তাঁদের জরুরি সহায়তা ও কাউন্সেলিং প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ঝুঁকি নিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাত্রা নিরুৎসাহিত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরিতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া সহজ করতে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।
অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি, মানবপাচার ও জীবনহানির ঝুঁকিতে পড়েন। এ কারণে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বৈধ পথ অনুসরণ, ভিসা ও কাজের অনুমতিপত্র যাচাই এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন