ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে দফায় দফায় মার্কিন হা মলা, তেহরানের তীব্র প্রতিরোধ


ইরানে দফায় দফায় মার্কিন হা মলা, তেহরানের তীব্র প্রতিরোধ

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। কয়েকদিন ধরে টানা এই হামলার ফলে অন্তত ৩৫ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাগুলি বন্দর আব্বাস, চাবাহারসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করা হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরান ও তাদের মিত্ররা। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা ইরানের ২০টিরও বেশি ড্রোন এবং চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এর পাশাপাশি, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ও সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সংঘাত বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা দুবাই, রিয়াদ, বৈরুত ও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখন সমঝোতায় আগ্রহী। তবে, এই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তেহরানকে সংযত আচরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে ইরানও কোনো সমঝোতা চুক্তি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা অনুভব করবে না।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হল, ইরান যাতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে না পারে। ফলে ইরান, রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার কিছু ব্যক্তি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা জানাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা জানাল

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। ফলে যোগ্য নাগরিকদের হাতে রয়েছে মাত্র ১৫ দিনের সুযোগ।

বুধবার (১৫ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী এবং যারা এখনও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

নির্ধারিত সময়ের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকাটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে।

খসড়া তালিকায় কারও নাম বাদ পড়লে বা ব্যক্তিগত তথ্যে কোনো ভুল থাকলে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ভোটার অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ আগস্ট নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আপত্তি নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা হলো ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৬ জুলাই: আবু সাঈদ-ওয়াসিমসহ নিহত হন ৬ জন, আন্দোলন নতুন মোড় নেয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


১৬ জুলাই: আবু সাঈদ-ওয়াসিমসহ নিহত হন ৬ জন, আন্দোলন নতুন মোড় নেয়

১৬ জুলাই বাংলাদেশে আন্দোলন শুরু হয় এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে। ওইদিন পুলিশের গুলি লেগে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। গুলির সামনে দুই হাত প্রসারিত করে যে দৃশ্য আবু সাঈদের মৃত্যু ঘটেছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ছাত্রনেতাদের মতে, ১৬ জুলাই থেকেই আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেদিন সারাদেশে ছাত্রলীগ এবং পুলিশের হামলায় ৬ জন নিহত হন, এবং কয়েকশ শিক্ষার্থী আহত হন। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যে ছাত্র সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিনি বলেন, 'রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন। যে রাজাকার নাতিপুতিরা সবকিছু পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।' উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে রাত থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। একপর্যায়ে মধ্যরাতে হলের গেট ভেঙে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন। ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে মেয়েরা হলের তালা ভেঙে আন্দোলনে যুক্ত হন। শেখ হাসিনার সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসজুড়ে স্লোগান ওঠে। সেদিনই প্রথম রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহার করা হয় এবং শেখ হাসিনাকে 'স্বৈরাচার' আখ্যা দেয় শিক্ষার্থী সমাজ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি দলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল একটি স্লোগান তৈরি করার জন্য, যাতে শেখ হাসিনাকে 'স্বৈরাচার' হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে। তৎকালীন জিয়া হল ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমন্বয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক রিজভী আলম রাজু প্রথম স্লোগান দেন-‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার।’ এরপর আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিতে শুরু করে আওয়ামী লীগ। ১৫ জুলাই সকালে ছাত্রলীগ ও সরকারের মন্ত্রীরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছিলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকার যারা হতে যাবে, তাদের কোনো দাবি মানা হবে না।' সেদিন দুপুর থেকে ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের খুঁজতে থাকে। বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্থানে গুলিও ছোড়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানান, হাসপাতালে হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রতিরোধের পরিকল্পনা হয়েছে। সে অনুসারে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ১৫ জুলাই রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়ে ওঠে। ওই রাতেই বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, সেদিন থেকেই আন্দোলন নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর সব বাধা ভেঙে যায়। ওই রাতেই প্রতিটি হলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্রলীগকে হলগুলো থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করা হয়। ১৬ জুলাই সকালে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু হয়। অধিকার আদায়ের দাবিতে বুক উঁচু করে দাঁড়িয়ে যান রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ। বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আবু সাঈদ। একই দিনে চট্টগ্রামে নিহত হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় আবারও হামলা করে ছাত্রলীগ। মূলত ১৬ জুলাই আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। সেদিনই সারাদেশে ৬ জন নিহত হন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলেন, আবু সাঈদ এবং ওয়াসিম আকরামের মৃত্যু আন্দোলনে নতুন গতি আনে। এরপর আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ এবং দুই হাত প্রসারিত করে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আন্দোলনের একটি প্রতীকী মুহূর্তে পরিণত হয়। এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশিদ বলেন, আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুর খবর একসঙ্গে পাওয়ার পর তারা বুঝতে পারি, আন্দোলন আর শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সামনে আরও বড় পরিসরে ভাবতে হবে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনার ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই থেকেই মূল গণঅভ্যুত্থানের গতি শুরু হয়। এদিকে, ১৬ জুলাই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি প্রজ্ঞাপনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির একটি কারখানার মেশিনে কাটা পড়ে বাংলাদেশি যুবক নি হ ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


সৌদির একটি কারখানার মেশিনে কাটা পড়ে বাংলাদেশি যুবক নি হ ত

সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতে গিয়ে মেশিনের দ্বারা কাটা পড়ে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায়।

নিহত যুবকের নাম মো. নাদিম হোসেন (২৭), তিনি কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে নাদিম প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য এবং বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় নাদিম একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করতে গেলে তিনি মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সে সময়ে, বাইরের কয়েকজন সহকর্মী মেশিনটি চালু করে ফেলে। ফলে, তিনি মেশিনের ভেতরে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নাদিমের মৃত্যুর খবর যদুপুর গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানকার পরিবেশ শোকে ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক আবহ তৈরি হয়েছে।

নিহতের বাবা সামাদ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমি সন্দেহ করছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে আইনগতভাবে দ্রুত আমার পুত্রের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন মন্তব্য করেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। প্রবাসে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুবিধা রয়েছে। পরিবার এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করলে প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৮ নদ-নদীর পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


বরিশালে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৮ নদ-নদীর পানি

অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের প্রায় সকল নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতের সময় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার নিচু এলাকায় দেখা গেছে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও বুধবার (১৫ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে বরিশাল অঞ্চলে এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু অমাবস্যা ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া বিভাগের আমতলী উপজেলায় বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জে তেঁতুলিয়া, উজিরপুরে সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ায় লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। মো. জাবেদ ইকবাল আরও জানান, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীটির বিপৎসীমা ২ দশমিক ১০ মিটার, কিন্তু পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ১২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা-সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি ১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী-খাকদন নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ০৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল। এ দিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর অবিচারক মিলন হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%