বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪২ এম
সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতে গিয়ে মেশিনের দ্বারা কাটা পড়ে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায়।
নিহত যুবকের নাম মো. নাদিম হোসেন (২৭), তিনি কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে নাদিম প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য এবং বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।
স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় নাদিম একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করতে গেলে তিনি মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সে সময়ে, বাইরের কয়েকজন সহকর্মী মেশিনটি চালু করে ফেলে। ফলে, তিনি মেশিনের ভেতরে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নাদিমের মৃত্যুর খবর যদুপুর গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানকার পরিবেশ শোকে ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক আবহ তৈরি হয়েছে।
নিহতের বাবা সামাদ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমি সন্দেহ করছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে আইনগতভাবে দ্রুত আমার পুত্রের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন মন্তব্য করেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। প্রবাসে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুবিধা রয়েছে। পরিবার এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করলে প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের প্রায় সকল নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতের সময় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার নিচু এলাকায় দেখা গেছে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও বুধবার (১৫ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে বরিশাল অঞ্চলে এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু অমাবস্যা ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া বিভাগের আমতলী উপজেলায় বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জে তেঁতুলিয়া, উজিরপুরে সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ায় লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। মো. জাবেদ ইকবাল আরও জানান, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীটির বিপৎসীমা ২ দশমিক ১০ মিটার, কিন্তু পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ১২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা-সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি ১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী-খাকদন নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ০৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল। এ দিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর অবিচারক মিলন হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয় অর্জন করে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর, কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি ব্যক্ত করেছেন, এই জয় তিনি ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করছেন। সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজকের জয়টি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। তার জন্য আজকের দিনটি বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে তিনি ভালো লাগছেন। এটাও ম্যারাডোনার জন্য একটি উপহার বলে মনে করেন তিনি।
৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। ঐ ম্যাচে তার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং পরবর্তী অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ ঘিরে সেই স্মৃতিগুলি নতুন করে উন্মোচিত হয়। যদিও গোল করেননি, মেসি আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তার নেতৃত্বের জন্যই নাটকীয় লড়াই শেষে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচ শেষে জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগঘন পরিবেশ সম্পর্কে মেসি আলোকপাত করেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংগীতের সময় তিনি বিশেষ কিছু অনুভব করেছেন। দর্শকদের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছিলাম, এটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, আর সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধের স্মৃতি এবং ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের ফলস্বরূপ, এই দ্বৈরথ বরাবরই বাড়তি আবেগের সৃষ্টি করে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার' লেখা ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।
এদিকে, এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে মেসি আরও কয়েকটি রেকর্ডের সামনে পৌঁছে গেছেন। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামলে এটি হবে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে আসবে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগের পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে তার।
এখন ফুটবল বিশ্বের নজর রোববারের ফাইনালে। ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে দুজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ৮টার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের ছলিম প্রামাণিকের স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) এবং অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রাজ মিয়া (২৬)। আপাতত রাজের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
পাবনা মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেয়া খাতুন নামের একটি ছোট শিশুর মৃত্যু ঘটে। তিনি জানান, তার আত্মীয়-স্বজনরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহটি রাজশাহী থেকে পাবনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন অ্যাম্বুলেন্সটি পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গি এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রাজ এবং শিশুর নানি বুলু খাতুন ঘটনাস্থলে মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার নিচে ১০ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকার পর ২ গরু চোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালাতে গিয়েছিল। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নাটোরের সিংড়া থানার চৌগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বেতাকুড়-আতারামপুর এলাকার হাবিবুর রহমান (৪২) এবং জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার মইপুর গোপালপুর এলাকার ফেরদৌস (২৬)।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানিয়েছেন, গত ১০ জুলাই ওই থানা এলাকায় গরুচুরির মামলা হয়। ওই মামলায়, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নওগাঁর আত্রাই থানার কাশিয়াড়ী এলাকার আসলাম দেওয়ানকে (৪৩) আটক করে র্যাব। এরপর আসলাম দেওয়ানের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৫টার দিকে সিংড়া চৌগ্রাম এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায় রানীনগর থানার পুলিশ।
এ সময় আসলাম দেওয়ানের গ্রুপের আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের ৫-৬ জন সদস্য একটি মিনিট্রাকে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ পরে, তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌগ্রাম-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এই সময় চোর চক্রের ওই দুজন রাস্তার পাশের কচুরিপানাপূর্ণ খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে লুকিয়ে যায়।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, "ওরা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এলাকাবাসী খাল ঘিরে রাখায় শেষ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়।"
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, "আটক দুইজনকে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।"
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানিয়েছেন, আটক ২ চোরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আটক চোরদের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা হবে। আবার রানীনগর থানা পুলিশও তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখাবে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ওই চোরদের আদালতে চালান দেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ