ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজবাড়ীর সফল উদ্যোক্তা হোসেন আলী কৃষকের বন্ধু


রাজবাড়ীর সফল উদ্যোক্তা হোসেন আলী কৃষকের বন্ধু

দারিদ্র্য, অভাব আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে জীবনের পথচলা শুরু করেছিলেন হোসেন আলী। তবে তিনি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে সেই সংগ্রামকে সাফল্যে পরিণত করেছেন। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা হোসেন আলী (৩৫) শুধুই নিজেকে আত্মনির্ভর করেছেন না, কৃষকদের জন্যও তৈরি করেছেন সময়োপযোগী বেশ কয়েকটি কৃষি যন্ত্র।

পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের স্বর্ণলতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হোসেন আলী, যিনি অত্যন্ত অসচ্ছল একটি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা আমীর আলী এবং মা রাবেয়া বেগমের ৮ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। ফলে তিনি পড়ালেখা বন্ধ করে জীবিকার সন্ধানে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। পাংশা শহরের একটি ওয়ার্কশপে কুষ্টিয়ার অভিজ্ঞ মিস্ত্রি জামাত আলীর কাছে কাজ করার সুযোগ পান হোসেন আলী। প্রাথমিকভাবে তাকে মজুরি হিসেবে শুধুমাত্র খাবারের ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছিল।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় তিনি কৃষি যন্ত্রের গঠন, ব্যবহার এবং মেরামতের কৌশল রপ্ত করতে সক্ষম হন। একসময় তাঁর ওস্তাদ জামাত আলী হৃদরোগে মারা গেলে, ওয়ার্কশপের দায়িত্ব হোসেন আলীর কাঁধে অর্পিত হয়। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

পরে পাংশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় তিনি গাজীপুরের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘সিমিট বাংলাদেশ’ থেকেও আধুনিক কৃষি যন্ত্র তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। এসব প্রশিক্ষণ তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

পাংশা অঞ্চলে প্রতিবছরই প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণে সমস্যা থাকায় কৃষকদের কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। এ সমস্যার সমাধানে হোসেন আলী তৈরি করেন স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের উপযোগী এয়ার ফ্লো পেঁয়াজ সংরক্ষণ মেশিন, যা একসঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০ মণ পেঁয়াজ দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এরপর তিনি উদ্ভাবন করেন পেঁয়াজ গ্রেডিং মেশিন, যা ছোট-বড় পেঁয়াজ আলাদা করতে সক্ষম।

এই বিষয়ে পাংশা বাগদুলি গ্রামের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সোহান আলী বাসস’কে জানান, ‘‘আমি পেঁয়াজের ব্যবসা করি। অল্প সময়ে পেঁয়াজ বেছে বাজারে বিক্রি করা এখন আমার জন্য খুব সহজ হয়েছে। হোসেন আলীর তৈরি পেঁয়াজ গ্রেডিং মেশিন কিনে আমি খুব উপকৃত হয়েছি।’’ পাশাপাশি তিনি ঘাস কাটার মেশিন এবং সর্বশেষ কাঁচা পাটের আঁশ ছাড়ানোর মেশিন তৈরি করে কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

হোসেন আলী বাসস’কে বলেন, ‘‘তার উদ্ভাবিত পাটের আঁশ ছাড়ানোর মেশিন এক ঘণ্টায় প্রায় ১০০ আঁটি কাঁচা পাটের আঁশ ছাড়াতে সক্ষম। এতে শ্রমিকের প্রয়োজন অনেক কমে যায়। মেশিনে আঁশ দ্রুত ছাড়িয়ে শুধু পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া যায় উজ্জ্বল সোনালি আঁশ।’’

চাঁদপুর থেকে আসা কৃষক কাউসার আহমেদ বাসস’কে বলেন, ‘‘আমি বাণিজ্যিকভাবে পাট চাষ করি। এত পাটের আঁশ শ্রমিক দিয়ে ছাড়াতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। বর্তমানে অধিক মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই হোসেন আলীর তৈরি মেশিনটি কাজ সহজ করবে বলে কিনেছি।’’

বর্তমানে হোসেন আলীর ওয়ার্কশপে পাঁচজন কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। মাসে তার মেশিন বিক্রি ও কর্মচারীর বেতন দিয়ে আয় হয় ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা। এতে তিনি খুব খুশি। বিভিন্ন জেলার কৃষকরাও তার তৈরি যন্ত্র কিনতে আসছেন। স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও তার উদ্ভাবিত কৃষিযন্ত্রের চাহিদা বাড়ছে।

জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভেসে যান হোসেন আলী। চোখে জল আসলে তিনি বলেন, ‘‘এক সময় পেটের ভাতের জন্য কাজ করেছি। আজ আমার তৈরি মেশিন কৃষকের কাজে লাগছে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সামনে আরও আধুনিক কৃষিযন্ত্র তৈরি করে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে চাই।’’

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

হোসেন আলীর জীবনগাথা প্রমাণ করে যে, দারিদ্র্য কখনো সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। অধ্যবসায়, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় ঘটালে একজন সাধারণ মানুষও সমাজে পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। তার সাফল্য শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন বাসস’কে বলেন, ‘‘হোসেন আলীর মধ্যে প্রযুক্তির উদ্ভাবনী গুণ রয়েছে দেখে আমরা উনাকে গাজীপুর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। তার কর্মদক্ষতা ও একাগ্রতা দেখে আমরা সব সময় তার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় সুনাম অর্জন করেছে হোসেন আলী। সম্প্রতি পাংশায় অনুষ্ঠিত কৃষি মেলায় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন তার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দেখে তাকে অনেক সাহস জুগিয়েছেন। কোন সমস্যা দেখা দিলে জেলা প্রশাসককে জানানোর জন্য বলেছেন।"

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খানসামা ও বিজিবি পাড়ায় বন্যাদুর্গত শতাধিক পরিবারের পাশে বিজিবির ত্রাণ সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


খানসামা ও বিজিবি পাড়ায় বন্যাদুর্গত শতাধিক পরিবারের পাশে বিজিবির ত্রাণ সহায়তা

টানা ভারী বর্ষণের ফলস্বরূপ সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বান্দরবানের খানসামা পাড়া ও বিজিবি পাড়া। এই অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র ১শ’টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার, বান্দরবান বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিম রানা এবং সুবেদার হাফিজুর রহমান। ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে বিতরণ করা হয় চাল, ডাল, তেল এবং আলু।

বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার সাথে সাথে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে তারা। চলমান বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বান্দরবান সেক্টরের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গত দু’দিনে ১২২ পরিবারকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বাসস’কে জানিয়েছেন, যারা বন্যা দুর্গত অবস্থায় আছেন এবং পানিতে আটকা পড়েছেন, তাদেরকে উদ্ধার করে স্কুলগুলোতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবারই দেশবাসীর পাশে আছি এবং সামনেও থাকব। পরিবারের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা আমরা করেছি।

এসময় আরও জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা ও খাদ্যসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান এবং সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সিনেটর ম্যাককনেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সিনেটর ম্যাককনেল

যুক্তরাষ্ট্রের ৮৪ বছর বয়সী সিনেটর এবং সাবেক রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল রোববার জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে তার হাসপাতালে থাকার কারণ হলো অচেতন হয়ে পড়া এবং পরে তিনি নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।

কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের এই প্রবীণ সিনেটরের কয়েক সপ্তাহের অনুপস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনে বিভিন্ন জল্পনা তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি, সিনেটে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকা তার দলের জন্যও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপির।

গত ১৪ জুন ম্যাককনেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকেই তার কার্যালয় থেকে বারবার জানানো হয়েছিল যে তিনি ‘চিকিৎসা সেবা’ পাচ্ছেন।

রোববার এক বিবৃতিতে ম্যাককনেল স্বীকার করেন, তার অনুপস্থিতি নিয়ে ‘প্রশ্ন’ উঠেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘শৈশবে পোলিও থেকে বেঁচে যাওয়ার কারণে সারা জীবনই আমাকে চলাফেরার সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা সহজ হয়নি। গত মাসে আমি পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম।’

তিনি জানান, চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে তার কোনো হাড় ভাঙেনি এবং মাথায় আঘাত বা মস্তিষ্কের সমস্যা হয়নি। ম্যাককনেল বলেন, ‘আমার হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি। শরীরে কোনো টিউমার বা রক্তক্ষরণও নেই। তবে আমি কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েছিলাম এবং আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে থাকার সময় তিনি ‘নিউমোনিয়ায়’ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে কবে তিনি কংগ্রেসে ফিরবেন, সে বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট সময় জানাননি ম্যাককনেল। জুনের শুরুর পর থেকে তিনি আর কোনো ভোটে অংশ নেননি।

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এখনই সিনেটে ফিরে ভোট দেওয়ার মতো অবস্থায় আমি নেই।’ বর্তমানে তাকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

ম্যাককনেলের বিবৃতির সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। ছবিতে তাকে চিকিৎসা শয্যায় বসে রোববারের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা তার হাতে দেখা যায়। ওই ছবিতে তার স্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পরিবহনমন্ত্রী এলেইন চাওও উপস্থিত দেখা গেছে।

বছরের পর বছর ধরে ম্যাককনেলের স্বাস্থ্য নিয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে পড় গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত বছর আরেকবার পড়ে গিয়ে তার কবজিতে আঘাত লাগে এবং চলতি বছরের শুরুতে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি হাসপাতালে ছিলেন।

ম্যাককনেল আগামী নির্বাচনে আর প্রার্থী হচ্ছেন না এবং জানুয়ারিতে তার অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তাহলে কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিশেষ নির্বাচন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার সরাসরি কোনো অস্থায়ী উত্তরসূরি নিয়োগ করতে পারবেন না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ১১

ইউক্রেন রাশিয়ায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় নিহত চার জন এবং আহত সাত জন হয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার ইউক্রেন মস্কোর বেশিরভাগ অঞ্চলে এসব হামলা চালানোর কাজ করেছে।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা হামলার জবাবে কিয়েভ রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু, বিশেষত জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে।

এই খবর প্রধানত বার্তা সংস্থা এএফপি কর্তৃক প্রকাশিত।

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ইস্ত্রা এলাকার পিওনেরস্কি বসতিতে এক ড্রোন হামলায় তিন জন নিহত এবং আরও তিন জন আহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওই অঞ্চলের অন্য একটি স্থানে আরও দুই জন আহত হয়েছেন।

ভোরোবিয়ভ বলেছেন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর আকাশে ইউক্রেনের ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

বেলগোরোদ অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের বেরেজোভকা শহরে ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হয়েছে। এছাড়া ক্রিনিচনয়ে এলাকায় দুই ব্যক্তি আহত হন।

এদিকে, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় স্তাভরোপোল অঞ্চলেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি শিল্প এলাকায় আগুন ধরে যাওয়ার খবর এসেছে, যা ওই অঞ্চলের গভর্নর ভøাদিমির ভøাদিমিরভ নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, শপাকভস্কি জেলার ভিয়াজনিকি এলাকায় শিল্প অঞ্চলে হামলা হওয়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনাস্থলে জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণকারী দল সক্রিয় আছে, এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গভর্নর আরও জানান, পুরো অঞ্চলে ড্রোন হামলার আশঙ্কা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি সবাইকে সতর্ক ও সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ২শ’ মেগাওয়াট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ২শ’ মেগাওয়াট

গত কয়েকদিন ধরে চলা টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধির ফলে, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২শ’ মেগাওয়াট।

বিষয়টি নিশ্চিত করে, আজ সোমবার বেলা ১১ টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বাসস’কে জানান, গতকাল রোববার পর্যন্ত লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল এর নীচে অবস্থান করছিল। কিন্তু, আজ সোমবার সকালে লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। এটির ফলে, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২শ’ মেগাওয়াটের ঊর্ধ্বে চলে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ছিল ১০০.৬০ ফুট মিন সি লেভেল। যেখানে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯.১৫ ফুট মিন সি লেভেল।

এছাড়া, তিনি জানান, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২শ’ ৬ মেগাওয়াট। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা বাসস’কে জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১, ৩, ৪ এবং ৫ নং ইউনিটের প্রতিটি ইউনিট ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১শ’ ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। অন্যদিকে, ২ নং ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের কারণে কাপ্তাই লেকে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বেড়েছে। পানি সংকটের কারণে, দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সচল থাকলেও কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট একসাথে চালু করা সম্ভব হয়নি।

তবে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন অনেক বেশি হবে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এসময় রুলকার্ভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকার পরিমাণ ৯০ দশমিক ৩১ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল) হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে পানি আছে ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট এমএসএল। লেকে সর্বোচ্চ পানি ধারণের ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল থাকে। কাপ্তাই লেকে পানি বেড়ে গেলে যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট একসাথে চালু থাকে, তাহলে ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%