১০:২৬ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ একর ৯১ শতক জমির মালিকানা দাবি করে মোবারক আলী হাওলাদার গং পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের যুবক মাদ্রাসা শিক্ষক আবু তালেব ইভান মাতুব্বর। এই দাবি তিনি শনিবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়র তৌহীদুর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে করেন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের তৎকালীন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তমতে মোবারক আলী হাওলাদারকে এই জমি হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও আজ অবধি এই জমি স্কুল কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেয়নি। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে এই বিরোধীয় জমির বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ আইন-কানুনের তোয়াক্কা না কওে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো তাঁদের অসংখ্য ওয়ারিশদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এখন বিষয়টি কলাপাড়ার আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইভান দাবি করেন, স্কুলের অগণিত টাকা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খরচ করে আদালত উপেক্ষা করে জরিপ বিভাগের যোগসাজশে নিজেদের নামে করে নেয়। এমনকি এই জমির একটি অংশ সিক্সলেন সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। যার ক্ষতিপূরণের ৬৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে উত্তোলন করে বর্তমান প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আত্মসাৎ করেছেন।
ইভান মাতুব্বর আরও বলেন, ‘তার নানা মোবারক আলী হাওলাদার টিয়াখালী ইউনিয়নের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৫০ সালের পরে এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট এন্ড ফিনান্স কর্পোরেশন (এডিএফসি) ব্যাংকের কাছে রজপাড়া মৌজার এসএ ৬৩, ৬৪, ১৪১, ১৪৩ ও ১৬৯ খতিয়ানের বিভিন্ন অংশের নিজের মালিকানা ৩৪ একর ৭৬ শতক জমি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। ওই অনাদায়ের জন্য ওই জমি নিলামে ওঠে। তখন খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯৫৯ সালে পাঁচ হাজার ৮০০ টাকায় নিলামে কিনে নেয়। বিষয়টি মোবারক আলী হাওলাদারের ওয়ারিশগণ জানতে পেরে বরিশাল সাবজজ আদালতে ১৬২/৬৭ মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পরবর্তীতে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ১৯৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মোবারক আলীর ওয়ারিশদের মধ্যে একটি যৌথ সভা বসে। সেখানে ১০ হাজার টাকায় ওই জমি ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তের চুক্তিমতে ১৯৭৭ সালের ২৮ মার্চ তিন হাজার ১৫০ টাকার বিনিময়ে প্রথম দফায় ১৫ একর ৮৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি দলিল করে বুঝিয়ে দেয়া হয়। চুক্তির মধ্যে বাকি ১৮ একর ৯১ শতক জমি ছয় হাজার ৮৫০ টাকা ১৩৯১ সনের মধ্যে পরিশোধ করলে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিলেও তারা জমি ফেরত দেয়নি এবং আজ-কাল বলে তালবাহানা করছিল। পরবর্তীতে ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে জমি ফেরত পাওয়ার জন্য টাইটেল মামলা করেন (৯৪/১৯৯৫)। ওই মামলা খারিজ হলে রায়ের বিরুদ্ধে টাইটেল আপীল মামলা দাওয়া হয় (২৪৮/৯৯)। বিজ্ঞ আদালত মামলার মূলে ১৮ একর ৯১ শতক জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আদেশ প্রদান করেন।
এখানেই শেষ নয়, ইভান বলেন, ‘উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন (৫২৩৮/২০০২) মামলা করেন। তাও হাইকোর্ট বিভাগ খারিজ করে দেন এবং পটুয়াখালী সাব জজ (প্রথম) আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। এরপরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিভিল রিভিশন (৫২৩৮/২০০২) এর আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল লিভ টু আপিল (২৫৯৭/২০১৯) দায়ের করেন। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লিভ টু আপিল মামলাটিও ২০২৫ সালের ২২ জুন হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে খারিজ করে দেন। ফলে ১৮ একর ৯১ শতক জমির মালিক এখন মোবারক আলী হাওলাদার গং।
এত কিছুর পরও সকল মামলায় পরাজিত হয়ে আদালতের ইতিপূর্বেকার সকল আদেশ গোপন করে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফৌজদারী কার্যধারায় নির্বাহী আদালতে একটি বানোয়াট (এমপি কেস নং ৪৮/২০২৫) মামলা করেন বলে ইভানের দাবি। পরবর্তীতে ওই মামলা বেইজলেস ও ফলবিহীন হওয়ায় ২০২৬ সালের ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ স্টে অর্ডার দেন ও তাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।
ইভান ও তার ওয়ারিশরা দাবি করেন, শুধুমাত্র গায়ের জোরে এখন তাঁদের প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ একর ৯১ শতক জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা আরও জানান, বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের ওয়ারিশদের হয়রাণি করার চক্রান্ত চলছে। বর্তমানে এই বিষয়টি কলাপাড়ার আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সব মিথ্যা। অধিগ্রহণের সমুদয় টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জমি তাঁদের (বিদ্যালয়ের) দখলে রয়েছে। মোবারক আলী হাওলাদারের ওয়ারিশরা জবরদখল করে স্কুলের জমি নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তার। তবে তিনি এও বলেন যে, আদালতের দেয়া নির্দেশনা তারা যথাযথভাবে পালন করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন