ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন জামালপুরে সম্পন্ন


ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন জামালপুরে সম্পন্ন

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামালপুর সদর উপজেলায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয় পারিবারিক কবরস্থানে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার মধ্যরাতে নিহতদের মরদেহ জামালপুরে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

শনিবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০) ও তার মা রাশিদা বেগমের (৭০) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ইউনিয়নের গোড়ারকান্দা গ্রামে নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবুর মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনা বেগম (২৫) ও মর্জিনা বেগমের শিশু সন্তান মিনানের (৫) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

একই দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজিচালক সুজন আলীর (৪৪) মরদেহ গতকাল শুক্রবার রাতে বাড়িতে আনা হলে রাতেই তার জানাজা গোবিন্দবাড়ি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে তাদের প্রত্যেকের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে, সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে আক্রাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগমের (৩৯) জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার দুপুরে মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু। জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সিএনজিতে এবং পরে সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন ও সিএনজিচালকসহ মোট সাতজন নিহত হন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

পরে বাসটির চালক বাসটি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল গভীর রাতে মরদেহগুলো জামালপুরে আনা হয়। এই দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা-জামালপুর রুটে রাজীব পরিবহনের সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামীর পরকীয়া জানার পরও ১২ বছর সংসার, বিচ্ছেদ চাননি জিনাত আমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


স্বামীর পরকীয়া জানার পরও ১২ বছর সংসার, বিচ্ছেদ চাননি জিনাত আমান

বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় ও সাহসী অভিনেত্রী জিনাত আমানের ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে অভিনেতা মাজহার খানের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনের নানা টানাপোড়েন আজও কৌতূহল সৃষ্টি করে।

স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পরেও বিচ্ছেদের পথে হাঁটেননি জিনাত। বরং, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তাদের সংসারকে ১২ বছর ধরে টিকিয়ে রেখেছিলেন।

সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে এক পুরনো সাক্ষাৎকারে, জিনাত তার দাম্পত্য জীবনের অজানা দিকগুলো তুলে ধরেছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, বিয়ের মাত্র এক বছরের মধ্যে তার মনে হয়েছিল, মাজহারকে বিয়ে করা সিদ্ধান্তটি হয়তো ভুল ছিল। সেই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

এদিকে, মাজহারের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের খবর ‘স্টারডাস্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জিনাতের জন্য অজানা ছিল না। কিন্তু স্বামীর পরকীয়ার খবর জানার পরও তিনি সংসার ভেঙে বেরিয়ে আসেননি।

জিনাতের ব্যক্তিগত জীবনেও একটি কারণ ছিল। তিনি পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে মাজহারকে বিয়ে করেছিলেন। তাই সম্পর্কের জটিলতা সত্ত্বেও, দাম্পত্য জীবন ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে তা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্কের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মাজহার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, স্বামীর চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন জিনাত। পরবর্তী প্রায় পাঁচ বছর তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসার জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সবকিছুতেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

এমনকি, স্বামীর পরিচর্যার জন্য বাড়িতে নানা কাজ শিখে নিয়েছিলেন জিনাত। দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত কষ্ট ও জটিলতার মধ্যেও অসুস্থ মাজহারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন এই অভিনেত্রী। প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে হয়েছিল তাকে।

জিনাত ও মাজহারের দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ১২ বছর। সম্পর্কের শুরু থেকেই নানা টানাপোড়েন থাকলেও, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেননি অভিনেত্রী। বরং, স্বামীর জীবনের শেষ কঠিন সময়ে তার চিকিৎসা ও সেবাযত্নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

১৯৯৮ সালে মাজহার খান মারা যান। তার মৃত্যুর পরও, জিনাত আমানের দাম্পত্য জীবনের এই অধ্যায় বলিউডের আলোচিত ব্যক্তিগত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে রয়েছে। পর্দায় আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত জিনাতের জীবনের এই অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত জীবনের এক জটিল ও আবেগঘন দিক তুলে ধরে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানায় ৮ চোরের সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রেপ্তার আরও ২ চোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


থানায় ৮ চোরের সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রেপ্তার আরও ২ চোর

বগুড়ার ধুনটে চুরির মামলায় আটজন আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে থানায় আসার পর আরও দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোহাম্মাদ মোস্তফা (৪০) এবং বাবুল চৌধুরী (৪৮)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার, ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলা সদরের ইছামতী ডিজিটাল কমপ্লেক্স মার্কেটের প্রথম তলায় অবস্থিত ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চুরির প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফোনগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় দোকানের মালিক মাসুদ রানা বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার আটজন হলেন চট্টগ্রামের আল আমিন (৩০), আক্কাস আলী (৩৫) ও হৃদয় (৩৪), নরসিংদীর ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াছিন আরাফাত (৩৮) এবং কুমিল্লার রবিউল ইসলাম (৩৩), আলা উদ্দিন (২৫) ও ইস্রাফিল রহমান (২৭)। পুলিশের দাবি, তারা আন্তজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। বর্তমানে তারা পুলিশ রিমান্ডে থানার হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের সঙ্গে দেখা করতে ধুনট থানায় আসেন মোহাম্মাদ মোস্তফা ও বাবুল। তাদের থানায় আসার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, মোহাম্মাদ মোস্তফা ও বাবুলের সঙ্গে গ্রেপ্তার আটজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে ৭৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, চাঁচড়া বর্মণপাড়া মন্দিরে ১০১ প্রতিমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


যশোরে ৭৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, চাঁচড়া বর্মণপাড়া মন্দিরে ১০১ প্রতিমা

যশোরের আট উপজেলায় এবারের দুর্গাপূজা ৭৩৭টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা ২৮টি বেড়ে গেছে। সদর উপজেলার চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে এই প্রথমবারের মতো ১০১টি প্রতিমা নিয়ে বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সূত্রে জানা গেছে, এবারে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৭৩৭ মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হবে। মূল পূজা ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হবে।

বিভিন্ন মণ্ডপে বর্তমানে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। খড়, ছন ও মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে রঙের কাজ শুরু হবে।

যশোর শহরের বেজপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দিরের ভাস্কর শংকর মন্ডল জানিয়েছেন, তিনি এবারে ৩৭টি প্রতিমা তৈরি করছেন। সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি রাত-দিন কাজ করছেন।

বর্মণপাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল বর্মণ বলেন, প্রতিবছর এখানে পূজা হয়, কিন্তু এবারে ১০১টি প্রতিমা বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে। তিনি আশা করছেন, দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন।

চাঁচড়া সর্বজনীন মন্দিরের সভাপতি তাপস বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। পুরোহিত ও ঢাকী ঠিক করা হয়েছে এবং প্যান্ডেলের গেট ও মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে।

এদিকে, জেলার মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, শঙ্কাহীন পরিবেশে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন জানিয়েছেন, কোনো মণ্ডপে ডিজে না বাজিয়ে ভক্তিগীতি বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিটি মন্দিরের জন্য হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিপসি রোজের সঙ্গী কেন উরকারের মৃত্যু, ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


জিপসি রোজের সঙ্গী কেন উরকারের মৃত্যু, ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিজ বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে জিপসি রোজ ব্ল্যানচার্ডের সঙ্গী কেন উরকারকে। তার বয়স ছিল ৩৪ বছর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক অতিরিক্ত গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে লাফোরশ শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা রেসল্যান্ড এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে উরকারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উরকারের বাড়িতে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি ও উরকারের কর্মস্থলের কর্মকর্তা একটি খোলা জানালা দিয়ে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীর স্পর্শ করে ঠান্ডা অনুভূত হয়।

বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কর্মকর্তারা একটি বাথরুমে সিরিঞ্জ ও একটি চামচসহ মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম পান। এর পাশে বাদামি রঙের গুঁড়ো জাতীয় একটি পদার্থও পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিছানার পাশে থাকা টেবিলে একটি সিরিঞ্জ, খাপসহ একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুটি পানীয়ের গ্লাস ছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, উরকার সেখানে বেশ কিছু সময় ধরে অবস্থান করছিলেন।

যে ব্যক্তি উরকারকে প্রথম দেখতে পান, তিনি কর্মকর্তাদের জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি ও তার স্ত্রী উরকারের সঙ্গে গির্জায় গিয়েছিলেন। সেখানে উরকার হতাশা ও মন খারাপের কথা বলেছিলেন।

ওই ব্যক্তি আরও জানান, উরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নীরব ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তাকে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। তার আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে এবং তিনি কাজে না আসায় তারা তার খোঁজ নিতে বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জিপসি রোজ ব্ল্যানচার্ড গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উরকার অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ করেছিলেন। তার মৃত্যুতে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। তিনি বলেন, এতটাই ভেঙে পড়েছেন যে ঠিকমতো চিন্তাও করতে পারছেন না এবং কান্না করতে করতে তার গলা ব্যথা হয়ে গেছে।

উরকারের মৃত্যু তার ৩৪তম জন্মদিনেই ঘটেছে বলে জানা গেছে।

জিপসি রোজ ও উরকারের পরিচয় হয়েছিল চিঠির মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার একটি কর্মসূচিতে। তখন জিপসি রোজ তার মাকে হত্যার ঘটনায় কারাগারে ছিলেন। ২০১৫ সালে তার মা ক্লডিন ‘ডি ডি’ ব্ল্যানচার্ডকে হত্যার ঘটনায় জিপসি রোজ দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

জিপসি রোজ জানিয়েছিলেন, তার মা বছরের পর বছর তাকে নির্যাতন করেছেন এবং গুরুতর অসুস্থতার ভান করতে বাধ্য করেছিলেন। এ ঘটনার পর তার মায়ের হত্যাকাণ্ড ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

হত্যাকাণ্ডে জিপসি রোজের তৎকালীন প্রেমিক নিকোলাস গোডজনও জড়িত ছিলেন। তিনি তার মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এবং পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান।

এই ঘটনা নিয়ে ২০১৭ সালে একটি তথ্যচিত্র এবং ২০১৯ সালে একটি ধারাবাহিক নির্মিত হয়। ২০২৩ সালে জিপসি রোজকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়।

জিপসি রোজ ও উরকারের সম্পর্কের মধ্যে একসময় বিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে তারা আবার একসঙ্গে হন। একই বছর তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

জিপসি রোজ বলেন, তাদের সম্পর্কের সময় উরকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উরকারের প্রতি যে মাত্রায় আক্রমণ ও হয়রানি করা হয়েছে, তা কোনো মানুষেরই সহ্য করা উচিত নয়।

তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের এই চাপ ও হয়রানি উরকারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার মৃত্যু যেন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—পর্দার আড়ালে থাকা প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি খবর ও প্রতিটি মন্তব্যের পেছনে একজন বাস্তব মানুষ আছেন।

জিপসি রোজ আরও বলেন, তিনি চান তাদের মেয়ে বড় হয়ে জানুক, তার বাবা তাকে কতটা ভালোবাসতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষের মন্তব্যের বাইরে তিনি আসলে কেমন মানুষ ছিলেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%