প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় ও সাহসী অভিনেত্রী জিনাত আমানের ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে অভিনেতা মাজহার খানের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনের নানা টানাপোড়েন আজও কৌতূহল সৃষ্টি করে।
স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পরেও বিচ্ছেদের পথে হাঁটেননি জিনাত। বরং, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তাদের সংসারকে ১২ বছর ধরে টিকিয়ে রেখেছিলেন।
সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে এক পুরনো সাক্ষাৎকারে, জিনাত তার দাম্পত্য জীবনের অজানা দিকগুলো তুলে ধরেছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, বিয়ের মাত্র এক বছরের মধ্যে তার মনে হয়েছিল, মাজহারকে বিয়ে করা সিদ্ধান্তটি হয়তো ভুল ছিল। সেই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
এদিকে, মাজহারের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের খবর ‘স্টারডাস্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জিনাতের জন্য অজানা ছিল না। কিন্তু স্বামীর পরকীয়ার খবর জানার পরও তিনি সংসার ভেঙে বেরিয়ে আসেননি।
জিনাতের ব্যক্তিগত জীবনেও একটি কারণ ছিল। তিনি পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে মাজহারকে বিয়ে করেছিলেন। তাই সম্পর্কের জটিলতা সত্ত্বেও, দাম্পত্য জীবন ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে তা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্কের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মাজহার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, স্বামীর চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন জিনাত। পরবর্তী প্রায় পাঁচ বছর তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসার জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সবকিছুতেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
এমনকি, স্বামীর পরিচর্যার জন্য বাড়িতে নানা কাজ শিখে নিয়েছিলেন জিনাত। দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত কষ্ট ও জটিলতার মধ্যেও অসুস্থ মাজহারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন এই অভিনেত্রী। প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে হয়েছিল তাকে।
জিনাত ও মাজহারের দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ১২ বছর। সম্পর্কের শুরু থেকেই নানা টানাপোড়েন থাকলেও, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেননি অভিনেত্রী। বরং, স্বামীর জীবনের শেষ কঠিন সময়ে তার চিকিৎসা ও সেবাযত্নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
১৯৯৮ সালে মাজহার খান মারা যান। তার মৃত্যুর পরও, জিনাত আমানের দাম্পত্য জীবনের এই অধ্যায় বলিউডের আলোচিত ব্যক্তিগত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে রয়েছে। পর্দায় আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত জিনাতের জীবনের এই অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত জীবনের এক জটিল ও আবেগঘন দিক তুলে ধরে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন