০৩:৫৭ এম
চট্টগ্রাম নগরবাসী ৪২ বছর পর গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত উপভোগ করেছে। এটি ১৯৮৩ সালের পরের সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। আগে রেকর্ড করা বৃষ্টিপাত ছিল ৫১১ মিলিমিটার। অতিভারী এই বৃষ্টিপাতের কারণে নগরের নিচু এলাকায় প্লাবন দেখা দিয়েছে। রিং রোডের একটি অংশ ভেঙে গেছে। একই সময়ে পাঁচলাইশ এলাকায় পাহাড়ধসে একজন যুবক মারা গেছে, আহত হয়েছে আরও তিনজন।
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, যদি এমন বৃষ্টি অমাবস্যা অথবা পূর্ণিমার সময় হতো, তাহলে সম্ভবত জোয়ারের উচ্চতা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারতো। এর ফলে চট্টগ্রামবাসী বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারতো। তবে আরও তিন দিন এ ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) একদিনের ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে নগরী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পতেঙ্গার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা জানাচ্ছেন, সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার। জোয়ার শুরু হয়েছে সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে এবং এটি থাকবে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। জোয়ারের উচ্চতা সর্বাধিক ৪ দশমিক ৫৬ মিটার।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সুমন সাহা আরও জানাচ্ছেন, আগামী ১৪ জুলাই পূর্ণিমা। এই সময়ে পূর্ণিমা জোয়ারের উচ্চতা ৫ থেকে সাড়ে ৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এবং যদি অতিভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে জোয়ারের পানি বেড়ে যায় এবং পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হতে পারে। স্বাভাবিক জোয়ারের সময় বৃষ্টির পানি যোগ হলে পানি নেমে যেতে সময় লাগে এবং ততক্ষণে নগর ডুবে যেতে পারে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সারাদিনের বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানির কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং তা সরতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বাধিক ১০০ মিলিমিটার। আরও ২ থেকে ৩ দিন এই ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের জন্যও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
বিকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতার পানি ধীরে ধীরে সরছে। নালা আর্বজনায় ভর্তি থাকায় পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
সকালে নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, পাঠানটুলী, চৌমুহনী, হালিশহর, বাকলিয়া, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মোহরা ও পতেঙ্গা এলাকাসহ বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে। অনেক স্থানে সড়ক ও নালা একাকার হয়ে যাওয়ায় গাড়ি ধীরগতিতে চলাচল করছিল।
আগ্রবাদের অধিকাংশ এলাকায় বিকেল ৫টার পরও পানিবন্দি দেখা গেছে। বেপারিপাড়া, হাজীপাড়া, এক্সেস রোডসহ পুরনো এলাকা পানিতে ডুবে ছিল। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এই অবস্থার ফলে রিকশা ও অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বৃষ্টির কারণে তিনটি ফ্লাইট নামতে না পেরে ঢাকায় অবতরণ করেছে। এছাড়া নগরের পতেঙ্গা রিং রোডে মাটি সরে গিয়ে রাস্তা ধসে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন