ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ২০ জন আহত


ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহারি এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ইটবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসটি উল্টে খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে আটকে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে, মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক সড়কে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘আরজি ক্লাসিক’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাস যখন পাইকহারি এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাকের সাথে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের কারণে বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থিত বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের গেট সংলগ্ন খুঁটিতে প্রচন্ডভাবে ধাক্কা খায়।

এ ঘটনায় বাসের যাত্রী, সাথে ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কোবায়েদ হোসেন জানিয়েছেন, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনী সীমান্তে ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


ফেনী সীমান্তে ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি

ফেনী, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় আজ পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা এবং চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে অভিযানকালে বিজিবি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিস, ওষুধ, চকলেট, বিস্কুট, কসমেটিকস ও বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধী তেল জব্দ করেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, জব্দকৃত এসব মালামালের দাম আনুমানিক ৫৫ লাখ ৪০ হাজার ৮০৫ টাকা। আজ সোমবার বিজিবি’র ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার ভোরে জেলার পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিস, ওষুধ, চকলেট, বিস্কুট, কসমেটিকস ও বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধী তেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব মালামালের দাম আনুমানিক ৫৫ লাখ ৪০ হাজার ৮০৫ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে সীমান্তে মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ সহ যেকোনো অপরাধ দমনে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ-আইওএমের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ-আইওএমের উদ্যোগ

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির পোর্টালসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মানবপাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এই উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

এ উদ্দেশ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং আইওএম ২৪ মাস মেয়াদি একটি প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে সাইবারনির্ভর মানবপাচার মোকাবিলা’ শীর্ষক এই প্রকল্পটির মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ এবং মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামর্থ্য আরো জোরদার করা হবে।

আইওএম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে আইওএম বাংলাদেশ দ্বারা। এছাড়া এই কার্যক্রমে অংশীদার হিসেবে থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে সাইবারনির্ভর মানবপাচার প্রতিরোধে দেশের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য, গবেষণার ফলাফল এবং প্রশিক্ষণসামগ্রী ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান জাতীয় এবং আন্তঃসংস্থার কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে, এমন আশা করা হচ্ছে।

পাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা, প্রলুব্ধ করা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং শোষণের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত করছে।

এসব কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় প্রকল্পটি তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। এই তিনটি বিষয় হলো তথ্য এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ তৈরি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন।

চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশনপ্রধান ড. লরা টম বন্ডে। অনুষ্ঠানে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এবং জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আইওএমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. লরা টম বন্ডে বলেন, প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগের ধরন, কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা এবং বিভিন্ন সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। তবে একই প্রযুক্তি পাচারকারীদের কাছেও অপব্যবহারের শিকার হতে পারে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে প্রযুক্তি শোষণের হাতিয়ার না হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায়ে পরিণত হয়।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারের চলমান উদ্যোগকে এ প্রকল্প আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে মানব পাচার মোকাবিলায় প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারও বাড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলা। এর মাধ্যমে সাইবারনির্ভর মানবপাচারের ঝুঁকি প্রতিরোধ, মোকাবিলা এবং প্রশমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণা পৌরসভায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ও ই-সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


নেত্রকোণা পৌরসভায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ও ই-সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন

নেত্রকোণা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : নেত্রকোণা পৌরসভায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ই-পৌরসভা’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

পৌর নাগরিকদের সেবাসমূহকে অধিকতর সহজতর ও নাগরিক ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে নেত্রকোণা পৌর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ম্যানুয়াল বা কাগুজে প্রক্রিয়ায় নির্ভরতা কমিয়ে পৌর সেবাকে নাগরিকদের কাছে আরো সহজ করে পৌঁছে দেয়ার জন্য ডিজিটাল কার্যক্রমের বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও ই-সেবার মাধ্যমে পৌরসভার সকল শাখার কার্যক্রম এক প্ল্যাটফর্মে আসবে এবং তদারকি ব্যবস্থা সহজ হয়ে যাবে।

এ সময় তিনি শহরের ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেত্রকোণাকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পৌরসভা গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নতুন চালু হওয়া ই-পৌরসভা প্ল্যাটফর্মের অধীনে, পৌরবাসী অনলাইনে পৌরকর নির্ধারণ ও স্বয়ংক্রিয় নোটিশ প্রদান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পৌরকর আদায়, বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্র গ্রহণসহ পানির বিলিং সংক্রান্ত পাঁচটি মূল প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা পাবেন।

এছাড়া, ‘ই-নথি’ ব্যবহারের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ কার্যালয়ের বাইরে অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় সনদে ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রদান করতে সক্ষম হবেন। ফলে নাগরিকরা মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে সেবা গ্রহণ ও ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পাশাপাশি পৌরসভার রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে স্বনির্ভর করতে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. নুরুজ্জামান নুরু, পৌর প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা, পৌর সচিব নুরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর এবং জেলা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ।

অনুষ্ঠান শেষে, প্রধান অতিথি পৌরসভা প্রাঙ্গণে একটি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও সূচনা করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। গত অর্থবছরে এই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সে অনুযায়ী, এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রামীণ মানুষের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লি ঋণনীতি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নতুন নীতিমালার আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নতুন নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, উপ-নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কৃষি ঋণকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কৃষকবান্ধব করতে নতুন নীতিমালায় বেশ কিছু উদ্যোগ যুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করতে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নথি অথবা সরকার প্রদত্ত কৃষক কার্ডের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালার আওতায় ফসল ও ফসলসংশ্লিষ্ট খাতে কৃষি ঋণের পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সেই সঙ্গে এসব ঋণের আওতায় কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জামানত ছাড়াই সর্বাধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও দলগত গ্যারান্টির মতো বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিবেচনার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি ঋণগ্রহীতাদের পাসবই বা অনুরূপ নথি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার আওতায় ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি উন্নয়ন সাধারণ তহবিলের (বিবিএডিসিএফ) পরিচালনাগত নির্দেশিকাও সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে কৃষি অর্থায়নে আরও নমনীয়তা আসবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।

নতুন নীতিমালায় ব্যক্তি বা দলগতভাবে মাছ চাষ ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত কৃষক ও উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মধু উৎপাদন, মাশরুম চাষ, লবণসহিষ্ণু ফসল উৎপাদন এবং কৃষির নতুন ও সম্ভাবনাময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহায়তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা ও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়গুলোও নীতিমালার সারসংক্ষেপে যুক্ত করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিঋণগ্রহীতাদের জন্য বীমা সুবিধা চালুর বিষয়টিও নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংক এবং গ্রাহকের সম্পর্ক ও ঋণের শর্তের ভিত্তিতে এ সুবিধা প্রদান করা হবে।

এছাড়া নিমপাতা, ছাই, মিশ্র শস্য, ধানের কুড়া, পাটকাঠি, গাছের পাতা, কলার খোসা ও ডিমের খোসার মতো উপকরণ থেকে উৎপাদিত জৈব সারের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফসল উৎপাদন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ঋণ পরিশোধের বিষয়েও নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে।

মরিচ, বিভিন্ন ধরনের সবজি, কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচুর মতো ফসলের জন্য ঋণ বিতরণ, ফসল কাটার সময় নির্ধারণ এবং ফসল সংগ্রহের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কৃষি ও পল্লি ঋণ কর্মসূচির তদারকি জোরদার এবং নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ওয়েবভিত্তিক কৃষিঋণ ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থা (এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস) সফটওয়্যারও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকার টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের আয় বাড়ানোর সরকারি লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন এ নীতিমালার প্রণয়ন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, কৃষি ও পল্লি খাতে সময়মতো এবং পর্যাপ্ত ঋণ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%