প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির পোর্টালসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মানবপাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এই উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
এ উদ্দেশ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং আইওএম ২৪ মাস মেয়াদি একটি প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে সাইবারনির্ভর মানবপাচার মোকাবিলা’ শীর্ষক এই প্রকল্পটির মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ এবং মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামর্থ্য আরো জোরদার করা হবে।
আইওএম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে আইওএম বাংলাদেশ দ্বারা। এছাড়া এই কার্যক্রমে অংশীদার হিসেবে থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে সাইবারনির্ভর মানবপাচার প্রতিরোধে দেশের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য, গবেষণার ফলাফল এবং প্রশিক্ষণসামগ্রী ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান জাতীয় এবং আন্তঃসংস্থার কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে, এমন আশা করা হচ্ছে।
পাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা, প্রলুব্ধ করা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং শোষণের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত করছে।
এসব কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় প্রকল্পটি তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। এই তিনটি বিষয় হলো তথ্য এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ তৈরি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন।
চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশনপ্রধান ড. লরা টম বন্ডে। অনুষ্ঠানে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এবং জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আইওএমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. লরা টম বন্ডে বলেন, প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগের ধরন, কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা এবং বিভিন্ন সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। তবে একই প্রযুক্তি পাচারকারীদের কাছেও অপব্যবহারের শিকার হতে পারে।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে প্রযুক্তি শোষণের হাতিয়ার না হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায়ে পরিণত হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারের চলমান উদ্যোগকে এ প্রকল্প আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে মানব পাচার মোকাবিলায় প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারও বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলা। এর মাধ্যমে সাইবারনির্ভর মানবপাচারের ঝুঁকি প্রতিরোধ, মোকাবিলা এবং প্রশমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন