রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৭ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন।
তিনি রোববার(৬ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের সফরে নিজ শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে বিশেষ সাজসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক, আইল্যান্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নতুন করে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, শহরে নানারকম তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনও শোভা পাচ্ছে।
আজ সকালে রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও পৌঁছানোর কথা রয়েছে সফরের প্রথম দিনে। জন্মভূমিতে পা রেখে তিনি প্রথমে শহরের গোয়ালপাড়া সেনুয়া কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেলে জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিকেলে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। শপথ নেওয়ার পর এটি তার প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।
রাষ্ট্রপতির আগমন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তবে, তাদের মাঝে রয়েছে একগুচ্ছ নাগরিক দাবি ও প্রত্যাশা। জেলার অবহেলিত শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে রাষ্ট্রপতি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই সাধারণ মানুষের আশা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির জানান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে বরণ করতে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিকেলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, ৫ সেপ্টেম্বর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে আজ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস প্রদান করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে, দুপুরের মধ্যে ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার জন্য দেওয়া ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার আকাশ আংশিক থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিনের সার্বিক তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
এদিকে, আগামী ৫ দিনের জন্য প্রদত্ত আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়েছে, আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে এবং তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের নিকটবর্তী একটি বিমান প্রদর্শনী চলাকালীন মহড়ার সময় একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) একটি বিমানঘাঁটিতে কসরত প্রদর্শনের সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গ্রিসের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এএনএ জানায়, উড্ডয়নরত এফ-৪ ফ্যান্টম মডেলের যুদ্ধবিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানঘাঁটির রানওয়ের পাশে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার ঠিক আগে পাইলটেরা জরুরি নির্গমন (ইজেক্ট) ব্যবস্থা ব্যবহার করে বের হতে পারেননি। ফলে ককপিটের ভেতরেই আগুনে দগ্ধ হয়ে দুজন মারা যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন দর্শকের মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি আকাশে বিপজ্জনক গতিতে নানামুখী কসরত প্রদর্শন করছিল। এক পর্যায়ে বিমানটি দ্রুত উঁচু থেকে নিচে নেমে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে বিশাল দর্শকসারি থেকে বেশ কিছুটা দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটায় বড় ধরনের হাতাহাতি বা বেসামরিক প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর চলমান বিমান প্রদর্শনীটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস দেনদিয়াস তার নির্ধারিত বিদেশ সফর স্থগিত করে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে দুই বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করা রিজার্ভের বৃদ্ধি ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর, দুই বছর পর, এটি বেড়ে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থাৎ, দুই বছরে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার বেড়েছে। একই সময়ে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ১ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১৫৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবে, দুই বছরে রিজার্ভের বৃদ্ধি প্রায় ১ হাজার ১৬৭ কোটি ডলার।
২০২৪ সালের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছিল, কিন্তু রিজার্ভের এই বৃদ্ধি সেই পরিস্থিতি থেকে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত প্রদান করছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ ও তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং আমদানি চাহিদার তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার ক্রয় করেছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা এসেছে।
তবে আমদানি বিল পরিশোধ ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় মেটানোর কারণে বিভিন্ন সময়ে রিজার্ভে ওঠানামা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে গত দুই বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪৩ কোটি ডলারে। একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার।
চলতি বছরের জুনের শেষে গ্রস রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ওই সময় বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৯৩ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাসস-কে জানিয়েছেন, বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতির উন্নতির কারণে দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এর মাধ্যমে আগের বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছে।
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী মন্তব্য করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসার জন্য ইতিবাচক।
তিনি বলেন, শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে আস্থা বৃদ্ধি করে।
তিনি আরও বলেন, ‘রিজার্ভ বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। এতে বোঝা যায়, ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন দায় পরিশোধে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপও কিছুটা কমেছে।’
তবে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে সতর্ক ও বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশিত হয়।
এর আগে ২৪ আগস্ট, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও কে এম রাশেদুজ্জামান রাজের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম (২০)।
যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
খালাসপ্রাপ্ত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং তৎকালীন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, এই রায়টি ১৬ জন নিম্ন আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে ২ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বহাল রেখেছে। তারা হলেন মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। আদালত ৪ জনের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা আদালতের দৃষ্টিতে দণ্ড বহাল থাকা উচিত নয় মর্মে তাদেরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন কামরুন নাহার মনি (যিনি ঘটনার সময় গর্ভবতী ছিলেন), হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম ২, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবসার উদ্দিন এবং মাকসুদ কাউন্সিলর। এই ১০ জনের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এই রায়ের পর আদালত নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। মামলার নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ সম্পর্কে আদালত মন্তব্য করেছেন যে, "একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রদানটা এটা অনেকটা মাইন্ডলেস সেন্টেন্স।" অর্থাৎ আদালত বলেছেন যে, বিচারক তার বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিচারিক মাইন্ড রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এছাড়া, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচারক মামুনুর রশিদকে অবিলম্বে পেনাল এবং সেন্টেন্সিং থেকে সরিয়ে আনার জন্য আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আখতার। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তারপর, অধ্যক্ষের অনুগত কিছু ক্যাডার জনমত গঠন করে সিরাজকে জেল থেকে বের করে আনার জন্য। ৩ এপ্রিল খুনিরা সিরাজের সঙ্গে কারাগারে পরামর্শ করে এসে ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে খুন করার পরিকল্পনা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ