বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১১ এম
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশিত হয়।
এর আগে ২৪ আগস্ট, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও কে এম রাশেদুজ্জামান রাজের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম (২০)।
যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
খালাসপ্রাপ্ত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং তৎকালীন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, এই রায়টি ১৬ জন নিম্ন আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে ২ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বহাল রেখেছে। তারা হলেন মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। আদালত ৪ জনের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা আদালতের দৃষ্টিতে দণ্ড বহাল থাকা উচিত নয় মর্মে তাদেরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন কামরুন নাহার মনি (যিনি ঘটনার সময় গর্ভবতী ছিলেন), হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম ২, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবসার উদ্দিন এবং মাকসুদ কাউন্সিলর। এই ১০ জনের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এই রায়ের পর আদালত নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। মামলার নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ সম্পর্কে আদালত মন্তব্য করেছেন যে, "একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রদানটা এটা অনেকটা মাইন্ডলেস সেন্টেন্স।" অর্থাৎ আদালত বলেছেন যে, বিচারক তার বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিচারিক মাইন্ড রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এছাড়া, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচারক মামুনুর রশিদকে অবিলম্বে পেনাল এবং সেন্টেন্সিং থেকে সরিয়ে আনার জন্য আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আখতার। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তারপর, অধ্যক্ষের অনুগত কিছু ক্যাডার জনমত গঠন করে সিরাজকে জেল থেকে বের করে আনার জন্য। ৩ এপ্রিল খুনিরা সিরাজের সঙ্গে কারাগারে পরামর্শ করে এসে ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে খুন করার পরিকল্পনা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যূৎ সমিতি (পবিস) কর্তৃক পূর্বে স্থাপিত সঞ্চালন লাইনের পাশেই বাংলাদেশ বিদ্যূৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্যারালাল লাইন নির্মাণের কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে দুই সঞ্চালন সংস্থার কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই, ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
দায়িত্বশীল বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, বিদ্যুৎ সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সরকার পিডিবি থেকে আলাদা করে পল্লী বিদ্যূৎ সমিতি নামে একটি ভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে ৮০-এর দশকের শেষ দিকে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে পল্লী বিদ্যূৎ সমিতি (পবিস) সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগ্রহী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে থাকে। এর ফলে, হাটহাজারীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় বিউবো কর্তৃক সঞ্চালন লাইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিউবো বোর্ড পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে বিউবো ও পবিস নিজেদের ভৌগোলিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। हाल ही में, হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা, ভবানীপুর, ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে পল্লী বিদ্যূতের সঞ্চালন লাইনের পাশাপাশি বিউবো প্যারালাল লাইন নির্মাণ করে গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে সরোজমিনে কথা বলে জানা গেছে, শুধু প্যারালাল লাইনই নয়, একই ভবনে পবিস ও বিউবো দুই সংস্থার মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানান, নিয়ম লঙ্ঘন করে পবিস খুঁটি ব্যবহার করে বিউবো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। চবি দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে সংযোগ প্রদানের জন্য পিডিবি পবিসের খুঁটি ব্যবহার করছে। স্থানীয় বাসার ম্যানসনে, অনুরূপভাবে পবিসের দুটি খুঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নুর ফাতেমা ভিলায় পবিসের ৮টি মিটার সংযোগ পূর্বে থেকে ছিল, কিন্তু সেখানে বিউবো ৬ ডুপ্লেক্স তার দিয়ে পবিসের দুটি খুঁটি ব্যবহার করে নতুনভাবে ৪টি মিটার সংযোগ প্রদান করেছে। শ্যামল ছায়া ভবনে পবিসের ৪টি মিটারে সংযোগ থাকা সত্ত্বেও পিডিবি নতুনভাবে একটি মিটারে সংযোগ প্রদান করেছে। নিরিবিলি ভবনে পবিসের ৫টি মিটারে সংযোগ থাকা সত্ত্বেও পিডিবি নতুনভাবে ১টি মিটারে একই ভবনে সংযোগ প্রদান করেছে। এইভাবে প্যারালাল লাইন ও সংযোগ প্রদানের কারণে দুই সঞ্চালন সংস্থার কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, দুই সংস্থা একই সাথে লোডশেডিং করে না। এক সংস্থার লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক থাকলে অন্য সংস্থার গ্রাহকেরা পিডিবি কিংবা পবিস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে বিদ্যুৎ কর্মীরা ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে গ্রাহকদের অজ্ঞাতার কারণে হামলার শিকার হওয়া অমূলক নয় বলে সচেতন মহল মত প্রকাশ করেন।
হাটহাজারী পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ খায়রুল বাসার ভূঞা জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেমের বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য সকল সংস্থা/কোম্পানিকে তাদের নিজ নিজ ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে থাকার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের সময় বিতরণকারী সংস্থা/কোম্পানির মধ্যে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য সরকারের ৩নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান/লাইন নির্মাণের সময় নির্ধারিত ভৌগোলিক সীমানায় অনুপ্রবেশ করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রুদ্র পল্লী রোডে অবস্থিত হাজী আমিন ম্যানসন হতে এম এম ম্যানসন (ইকরা তাহফিজুল কুরান মডেল মাদ্রাসা) সহ বিভিন্ন স্থানে পিডিবি প্যারালাল লাইন নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হাটহাজারীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং/৩১ আগস্ট পর পর পত্র প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে বিউবো হাটহাজারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাইনুদ্দিন জুয়েলের কাছে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিউবো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। তাছাড়া পবিস বিউবো থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করছে। বিউবো নিজে উদ্যোগী হয়ে পবিসের ভৌগোলিক সীমানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সুযোগ নেই। পবিস খুঁটি ব্যবহার করে সংযোগ প্রদান এবং সমিতির মিটার সংযুক্ত একই ভবনে পিডিবি মিটার স্থাপনের বিষয় তিনি গ্রাহকদের চাহিদার কথা বলেন। প্যারালাল লাইনের কারণে কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে তিনি একমত প্রকাশ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্ণীপুরে দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আটক সাকিবকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় এবং সন্ত্রাসী বিরোধী আইন অনুযায়ী দুই মামলায় বুধবার বিকালে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার সকালে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম সদর থানায় সন্ত্রাসী সাকিবসহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ। তিনি জানান, এসব মামলার পাশাপাশি সাকিবের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার বিবরণে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্ণীপুর শহরের স্কুল থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় পৌঁছালে সাকিব বাহিনী প্রধান ও তার কয়েকজন সহযোগী তাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ সময় সাংবাদিকের দিকে গুলি ছোড়া হয়। সন্ত্রাসী সাকিব প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাকিবকে ঘেরাও করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। মাদক ব্যবসা এবং সাকিবের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী সাকিব হোসেন সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকার সেলিম ড্রাইভারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতা। সাকিবের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে এবং তিনি সেই বাহিনীর প্রধান। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত। বৈষম্যবিরোধী চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ছিলেন সাকিব। কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থী হত্যা এবং মাদক আইনের মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে সাকিব ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতার পেশার সাথেও জড়িত জাহাঙ্গীর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসুর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মসহ নানা ধরনের দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ খামারিদের তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে, সদ্য বদলি হওয়া এই কর্মকর্তা শেষ কর্মদিবসে পুলিশ পাহারায় তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এলাকার খামারিরা ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ডা. জয়িতা বসুর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে দপ্তরে একটি ঘরোয়া বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পূর্ব থেকে আন্দোলনরত খামারিরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তিনি একটি গাড়িতে করে দপ্তর ত্যাগ করার সময় আন্দোলনকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে "চোর চোর" স্লোগান দেন।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, ডা. জয়িতা বসু ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে এবং ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে রাউজানে যোগদান করেন। তবে চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে খামারিরা তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রণোদনা ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। একই বিষয়ে গত ১৫ আগস্ট সাংবাদিক সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলস্বরূপ, গত ২৩ আগস্ট এক অফিস আদেশে তাঁকে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বদলি করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদপুর আসিফ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুর রহমান আসিফ জানান, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও দপ্তরের সরকারি সরঞ্জাম বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "কদলপুরের এক ব্যক্তির কাছে প্রতিটি ৩০০ টাকা দরে ৫০টি সরকারি চেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া, ১৫ হাজার টাকায় একটি ঘাস কাটার যন্ত্র বিক্রি এবং দুধ দোহনের মেশিন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি দপ্তরের এসি পর্যন্ত তিনি খুলে নিয়ে গেছেন।"
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে অন্যান্য খামারি সালাউদ্দিন, আলমগীর, রত্না মুহুরী, মনছুরুল হাসান চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলী আকবর অভিযোগ করেন যে, অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তাঁদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। খামারিরা অবিলম্বে এসব দুর্নীতির বিভাগীয় ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তবে, ডা. জয়িতা বসু নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, "সমস্ত কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করা হয়েছে। আমি কোন দুর্নীতি-অনিয়ম করি নি।" তিনি আরও বলেন, "কোন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ে এসি নেই। আমার কার্যালয়ে কোনো সরকারি এসি ছিল না, আমি নিজের কেনা এসি ব্যবহার করতাম, যা বদলি সূত্রে নিয়ে যাচ্ছি। কিছু অসাধু লোক অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মকর্তার অনুরোধে কার্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।" এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম জানান, "অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর চারঘাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠানের হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. শামসুল হক।
এ বছর চারঘাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১২২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ২১ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে এ ধরনের সাফল্য অর্জন করা এবং সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যেও ২১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. শামসুল হক বলেন, মাত্র দুইটি শ্রেণিকক্ষ নিয়ে পাঁচ বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি আজকের মতো বড় ছিল না এবং সুযোগ-সুবিধাও সীমিত ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিল। সেই ছোট্ট পরিসর থেকে আজকের এই অর্জন সত্যিই আনন্দের এবং গর্বের।
সভাপতির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ২১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। মাত্র পাঁচ বছরের শিক্ষা কার্যক্রমে এমন ফলাফল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এজন্য তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক ও অভিভাবককে অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও বলেন, ভালো ফলাফল অর্জন করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং এই ফলাফল আগামী দিনের জন্য আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা। শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, কোথায় আরও উন্নতির প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করবে এবং ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ