প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে দুই বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করা রিজার্ভের বৃদ্ধি ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর, দুই বছর পর, এটি বেড়ে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থাৎ, দুই বছরে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার বেড়েছে। একই সময়ে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ১ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১৫৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবে, দুই বছরে রিজার্ভের বৃদ্ধি প্রায় ১ হাজার ১৬৭ কোটি ডলার।
২০২৪ সালের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছিল, কিন্তু রিজার্ভের এই বৃদ্ধি সেই পরিস্থিতি থেকে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত প্রদান করছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ ও তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং আমদানি চাহিদার তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার ক্রয় করেছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা এসেছে।
তবে আমদানি বিল পরিশোধ ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় মেটানোর কারণে বিভিন্ন সময়ে রিজার্ভে ওঠানামা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে গত দুই বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪৩ কোটি ডলারে। একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার।
চলতি বছরের জুনের শেষে গ্রস রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ওই সময় বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৯৩ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাসস-কে জানিয়েছেন, বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতির উন্নতির কারণে দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এর মাধ্যমে আগের বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছে।
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী মন্তব্য করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসার জন্য ইতিবাচক।
তিনি বলেন, শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে আস্থা বৃদ্ধি করে।
তিনি আরও বলেন, ‘রিজার্ভ বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। এতে বোঝা যায়, ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন দায় পরিশোধে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপও কিছুটা কমেছে।’
তবে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে সতর্ক ও বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন