ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আ.লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী


আ.লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, যদি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় বিরোধিতা করতে গিয়ে, তাহলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' এবং ’ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিরোধীদল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ করে না বলেই আজ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেয়নি।" তিনি বলেন, বিরোধীদল পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, "সব ব্যাপারে একমত না হতে পারলেও দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৭১ এবং ২৪ এর জুলাই আন্দোলন। দুই আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল একই।"

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮১৩ জন শহীদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "এসব শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।"

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দলকে বেছে নিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যারা আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে।"

বিরোধীদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "এডিস মশা সরকারি কিংবা বিরোধীদল চেনে না।" তাই তিনি ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে অভিযোগ থেকে সমাধান, নিষ্পত্তির হার ৭৪.৪৫ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে অভিযোগ থেকে সমাধান, নিষ্পত্তির হার ৭৪.৪৫ শতাংশ

রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সমস্যা- নগরজীবনে এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এসব সমস্যা জানাতে নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়, অভিযোগ জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, অথবা কোন বিভাগ ব্যবস্থা নেবে তা খুঁজে বের করাও অনেক সময় নাগরিকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো যায়।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন নাগরিকরা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যাগুলি জানাতে পারছেন। অ্যাপটি চালুর পর স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযোগের সংখ্যা ও ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া উদ্যোগটিকে আলোচনায় এনেছে।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপটি গত ৭ জুলাই ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম।

ডিএসসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপটির মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি ৬৫৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অর্থাৎ এই সময় পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের প্রায় ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশের সমাধান হয়েছে।

বাকি ২৪৬টি অভিযোগ সিটি করপোরেশনের কার্যপরিধির বাইরে অন্যান্য সরকারি দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। এসব অভিযোগের মধ্যে ওয়াসা, রাজউক, রেলওয়ে, ডিপিডিসি এবং আইন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিষ্পত্তির হার গণনার ক্ষেত্রে ওই ২৪৬টি অভিযোগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও অ্যাপটির কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ৪৩৩টি নাগরিক রিভিউ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। অ্যাপটির গড় রেটিং পাঁচের মধ্যে ৪ দশমিক ৫।

ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যা জানানোর এই ব্যবস্থায় নাগরিকদের সাড়া পাওয়ার বিষয়টি নগরসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ময়লা জমে থাকলে, বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না হলে কিংবা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। তবে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া জটিল হলে অনেকেই তা এড়িয়ে যান।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ থাকায় এই প্রক্রিয়াকে সহজ করার চেষ্টা করছে ডিএসসিসি।

অ্যাপটির কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, বরং অভিযোগকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা।

এতে নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোথায় পরিচ্ছন্নতাসেবা প্রয়োজন, কোন সমস্যাটি সমাধান করা জরুরি এবং কোন অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ক্লিন কেয়ার অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

নগরবাসীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসক জানান, অ্যাপটির প্রতি আস্থা রাখার জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে সিটি করপোরেশন। ভবিষ্যতে ডিএসসিসির অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই অ্যাপের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগের বাইরেও আরও কিছু সেবা একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারে। এতে নাগরিকদের একাধিক সেবা গ্রহণের জন্য পৃথক মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজন কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে ডিএসসিসি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাফল্য কেবল কতটি অভিযোগ পাওয়া গেল বা কতজন ব্যবহারকারী ইতিবাচক রেটিং দিলেন, তা দিয়ে পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগছে, একই সমস্যা আবার দেখা দিচ্ছে কি না এবং নাগরিকেরা বাস্তবে কতটা উন্নত সেবা পাচ্ছেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ৬৫৫টি অভিযোগের সমাধান এবং পরবর্তী সময়ে সেবার মান ধরে রাখা তাই উদ্যোগটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কাজ। শুধু নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান কিংবা বর্জ্য অপসারণের মধ্যেই এর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও কার্যকর সমাধান। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের তথ্য ও মতামত সিটি করপোরেশনের কাজকে আরও সুনির্দিষ্ট করার সুযোগ দিতে পারে।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সেবার একটি সম্ভাবনাময় দিক তুলে ধরেছে। অভিযোগের দ্রুত সমাধান, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে আরও নাগরিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, অ্যাপটি নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে পারে। নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির সমন্বয়েই এই উদ্যোগ একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রচেষ্টায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রশাসক মনে করেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

ইলিশের চড়া দাম এবং বাজারে চাহিদার সুযোগ নিয়ে আসল ইলিশের পরিবর্তে চন্দনা ও সুরমা মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দেখতে কিছুটা মিল থাকায় অনেক ক্রেতা এই মাছগুলোকে ইলিশ ভেবে কিনছেন। বিশেষ করে হোটেলে রান্না করা মাছ পরিবেশনের সময় আসল ইলিশ এবং অন্যান্য মাছের মধ্যে পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দনা ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতির মাছ হলেও এটি আসল ইলিশ নয়। অন্যদিকে, সুরমা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারের মাছ। তাই মাছের গঠন, রং এবং গায়ের দাগ দেখে ক্রেতারা এদের মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করতে পারেন।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। এই মাছটি মূলত সাগরে বসবাস করে, তবে প্রজননের জন্য নদীতে আসে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশের বিচরণ রয়েছে। ২০১৭ সালে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

চন্দনার বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa toli। উপকূলীয় এলাকা, মোহনা এবং জোয়ার-ভাটার নদীতে এ মাছের দেখা মেলে। সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে এটি ‘চন্দনা ইলিশ’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামে মাছটিকে ‘ফুইট্টা ইলিশ’ বলা হয়। ইংরেজিতে এর নাম টোলি শ্যাড।

চন্দনার গায়ের রং রুপালি, যাতে হলদে আভা থাকতে পারে। ফুলকার পেছনে অস্পষ্ট কালচে ছাপ দেখা যায়। ওপরের চোয়ালের মাঝখানেও ছোট খাঁজ রয়েছে। সাধারণত এটি ইলিশের তুলনায় ছোট হয়। তবে শুধুমাত্র আকার দেখে চন্দনা এবং ইলিশের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা সঠিক নয়।

চন্দনা নামটি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। Sardinella melanura নামের আরেকটি সামুদ্রিক মাছকেও কোথাও কোথাও চন্দনা ইলিশ বলা হয়। এই মাছটি ‘ব্ল্যাকটিপ সার্ডিনেলা’ নামে পরিচিত। বাংলায় একে ‘কালটিপ তাকিয়া’ও বলা হয়। এর লেজের ডগায় কালো রং থাকে, ফলে স্থানীয় নামের ওপর নির্ভর করে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে, সুরমা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Scomberomorus commerson। এটি ম্যাকেরেল পরিবারের মাছ, যার ইংরেজি নাম কিং ম্যাকেরেল। অঞ্চলভেদে মাছটি ‘ডোরা মাইট্টা’ বা ‘চম্পা’ নামেও পরিচিত।

সুরমার দেহ লম্বাটে এবং দুই পাশ চাপা। পিঠ নীলচে রুপালি এবং পেট সাদাটে। শরীরে সারি সারি কালচে খাড়া দাগ থাকে। এর চোয়ালে শক্ত দাঁত রয়েছে, যেগুলোর কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। এসব বৈশিষ্ট্য আসল ইলিশ থেকে সুরমাকে আলাদা করতে সহায়তা করে।

ইলিশের উচ্চমূল্যও এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চাঁদপুরের মাছঘাটে এ বছর প্রতি কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গেছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার সুযোগে অসাধু বিক্রেতারা অন্য মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সার্ডিন, চৌক্কা, চন্দনা, চকোরি এবং টাকিয়াসহ বিভিন্ন মাছকে ইলিশ নামে বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে। আস্ত মাছ দেখে অভিজ্ঞ ক্রেতারা কিছুটা পার্থক্য বুঝতে পারলেও কাটা বা রান্না করা মাছের ক্ষেত্রে তা কঠিন।

এ ক্ষেত্রে জাটকা নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। জাটকা হলো ইলিশের কিশোর পর্যায়ের মাছ, আলাদা কোনো প্রজাতি নয়। অন্যদিকে, চন্দনা স্বতন্ত্র প্রজাতির মাছ। তাই ছোট মাছ দেখেই সেটিকে চন্দনা বা জাটকা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ব্যবহারের অন্যতম কারণ হলো স্থানীয় নামের বিভ্রান্তি দূর করা। একই মাছ অঞ্চলভেদে ভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে। আবার একই স্থানীয় নামে একাধিক প্রজাতির মাছও পরিচিত হতে পারে।

আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে

মাছ কেনার সময় সম্ভব হলে আস্ত মাছ বেছে নেওয়া ভালো। মাছের দেহের গঠন, রং এবং গায়ের দাগ খেয়াল করতে হবে। চন্দনা সাধারণত ইলিশের চেয়ে ছোট হয়, আর সুরমার শরীরে স্পষ্ট খাড়া কালচে দাগ থাকে। তবে একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

হোটেলে ইলিশের অর্ডার দেওয়ার আগে মাছটির পরিচয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যেতে পারে। দাম অস্বাভাবিক কম হলে অথবা বিক্রেতা মাছের পরিচয় স্পষ্ট করতে না চাইলে সতর্ক থাকা দরকার।

ইলিশ বাংলাদেশের নদী, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চন্দনা এবং সুরমার নিজস্ব পরিচয় থাকলেও সেগুলোকে ইলিশ বলে বিক্রি করা ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই মাছের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩ নারীসহ মাদকের আসর জমান ইউএনওর গাড়িচালক বাদশা আকন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


৩ নারীসহ মাদকের আসর জমান ইউএনওর গাড়িচালক বাদশা আকন আটক

শরীয়তপুরে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক মো. বাদশা আকনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তিন নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ দাবি করেছে, ওই বাসা থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় অংশ নিতে শরীয়তপুরে আসেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নামিয়ে দেওয়ার পর সরকারি গাড়িটি নিয়ে পাকার মাথা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান গাড়িচালক মো. বাদশা আকন। সেখানে তিন নারী ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তারা ওই বাসায় গিয়ে গাড়িচালক বাদশা সরদারসহ তিন নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। এ সময় বাসার ভেতর থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় রুদয় হাওলাদার, মোনায়ম খানসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত শুরু হয়। গাড়িচালক বাদশা সরদারকেও বিভিন্ন সময় ওই বাসায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

বাসাটির কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, গাড়িচালক বাদশা সরদার ওই তিন নারীকে নিজের খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া দেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।

আটক হওয়া নারীদের একজন বলেছেন, "বাদশা আমার ভাই হয় সেই হিসেবেই আমাদের বাসায় আসছিল। পরে স্থানীয় কিছু লোকজন দরজা খুলে ভেতরে এসে আমাদের কাছে টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় তারা মাদক খাওয়ায় ওইসব ঘরের ভেতরে রেখে পুলিশ খবর দেয়।"

গাড়িচালক বাদশা জানিয়েছেন, এই নারীরা তার কোনো আত্মীয় নয়, তাদের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তিনি বলেন, "তারা অনেকদিন বলছিল একটি বাসা ঠিক করে দিতে। পরে আমি বলছি আজকে আমি মিটিংয়ে আসব, তখন এসে কথা বলব। সেই সুবাদেই ইউএনও স্যারকে নামিয়ে দিয়ে এখানে আসি। আসার পরেই কিছু লোকজন এসে দরজা নক করে। পরে দরজা খোলার পরে বলে এখানে অনেক অনৈতিক কাজ হয়। আমি আসলে এসবের কিছুই জানি না।"

পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শুকুর বলেন, "এখানে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষ অনৈতিক কাজ করছে এবং নিয়মিত মাদক সেবন করা হয় এমন খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। পরে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জামসহ তিনজন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ইউএনও সালাউদ্দীন আইয়ুবী বলেন, "বিষয়টি জানার পরে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও আমার দপ্তর থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলবার থেকে ৫ দিনের সরকারি ছুটি, জরুরি পরিষেবা থাকবে চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


মঙ্গলবার থেকে ৫ দিনের সরকারি ছুটি, জরুরি পরিষেবা থাকবে চালু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে, যা চলবে টানা পাঁচ দিন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ছুটি ভোগ করবেন আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত। তবে জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা এবং অত্যাবশ্যকীয় কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস। ছুটির কারণে সরকারি অফিসের পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার এবং আদালতের কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা চালু থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুসারে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন।

ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যারা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কিছু জরুরি পরিষেবা এবং প্রতিষ্ঠান ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. জরুরি পরিষেবা: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং ডাকসেবায় নিয়োজিত কর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

২. হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: হাসপাতাল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকবেন।

৩. চিকিৎসক ও ওষুধ সরবরাহ: চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীদের পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

৪. জরুরি দাপ্তরিক কাজ: জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম চালু রাখবে।

৫. ব্যাংক ও আদালত: ছুটির সময়ে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

৬. বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা: বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

কেন টানা পাঁচ দিনের ছুটি?

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত ছিল। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এ ছাড়া ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।

এর আগে ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ থাকায় অনেকেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%