০৩:৪৫ পি.এম
শরীয়তপুরে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক মো. বাদশা আকনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তিন নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ দাবি করেছে, ওই বাসা থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় অংশ নিতে শরীয়তপুরে আসেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নামিয়ে দেওয়ার পর সরকারি গাড়িটি নিয়ে পাকার মাথা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান গাড়িচালক মো. বাদশা আকন। সেখানে তিন নারী ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তারা ওই বাসায় গিয়ে গাড়িচালক বাদশা সরদারসহ তিন নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। এ সময় বাসার ভেতর থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
স্থানীয় রুদয় হাওলাদার, মোনায়ম খানসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত শুরু হয়। গাড়িচালক বাদশা সরদারকেও বিভিন্ন সময় ওই বাসায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
বাসাটির কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, গাড়িচালক বাদশা সরদার ওই তিন নারীকে নিজের খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া দেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
আটক হওয়া নারীদের একজন বলেছেন, "বাদশা আমার ভাই হয় সেই হিসেবেই আমাদের বাসায় আসছিল। পরে স্থানীয় কিছু লোকজন দরজা খুলে ভেতরে এসে আমাদের কাছে টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় তারা মাদক খাওয়ায় ওইসব ঘরের ভেতরে রেখে পুলিশ খবর দেয়।"
গাড়িচালক বাদশা জানিয়েছেন, এই নারীরা তার কোনো আত্মীয় নয়, তাদের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তিনি বলেন, "তারা অনেকদিন বলছিল একটি বাসা ঠিক করে দিতে। পরে আমি বলছি আজকে আমি মিটিংয়ে আসব, তখন এসে কথা বলব। সেই সুবাদেই ইউএনও স্যারকে নামিয়ে দিয়ে এখানে আসি। আসার পরেই কিছু লোকজন এসে দরজা নক করে। পরে দরজা খোলার পরে বলে এখানে অনেক অনৈতিক কাজ হয়। আমি আসলে এসবের কিছুই জানি না।"
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শুকুর বলেন, "এখানে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষ অনৈতিক কাজ করছে এবং নিয়মিত মাদক সেবন করা হয় এমন খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। পরে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জামসহ তিনজন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ইউএনও সালাউদ্দীন আইয়ুবী বলেন, "বিষয়টি জানার পরে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও আমার দপ্তর থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন