০৩:৪৩ পি.এম
রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সমস্যা- নগরজীবনে এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এসব সমস্যা জানাতে নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়, অভিযোগ জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, অথবা কোন বিভাগ ব্যবস্থা নেবে তা খুঁজে বের করাও অনেক সময় নাগরিকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো যায়।
‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন নাগরিকরা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যাগুলি জানাতে পারছেন। অ্যাপটি চালুর পর স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযোগের সংখ্যা ও ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া উদ্যোগটিকে আলোচনায় এনেছে।
‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপটি গত ৭ জুলাই ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
ডিএসসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপটির মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি ৬৫৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অর্থাৎ এই সময় পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের প্রায় ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশের সমাধান হয়েছে।
বাকি ২৪৬টি অভিযোগ সিটি করপোরেশনের কার্যপরিধির বাইরে অন্যান্য সরকারি দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। এসব অভিযোগের মধ্যে ওয়াসা, রাজউক, রেলওয়ে, ডিপিডিসি এবং আইন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিষ্পত্তির হার গণনার ক্ষেত্রে ওই ২৪৬টি অভিযোগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও অ্যাপটির কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ৪৩৩টি নাগরিক রিভিউ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। অ্যাপটির গড় রেটিং পাঁচের মধ্যে ৪ দশমিক ৫।
ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যা জানানোর এই ব্যবস্থায় নাগরিকদের সাড়া পাওয়ার বিষয়টি নগরসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ময়লা জমে থাকলে, বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না হলে কিংবা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। তবে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া জটিল হলে অনেকেই তা এড়িয়ে যান।
‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ থাকায় এই প্রক্রিয়াকে সহজ করার চেষ্টা করছে ডিএসসিসি।
অ্যাপটির কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, বরং অভিযোগকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা।
এতে নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোথায় পরিচ্ছন্নতাসেবা প্রয়োজন, কোন সমস্যাটি সমাধান করা জরুরি এবং কোন অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ক্লিন কেয়ার অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
নগরবাসীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসক জানান, অ্যাপটির প্রতি আস্থা রাখার জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে সিটি করপোরেশন। ভবিষ্যতে ডিএসসিসির অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই অ্যাপের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগের বাইরেও আরও কিছু সেবা একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারে। এতে নাগরিকদের একাধিক সেবা গ্রহণের জন্য পৃথক মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজন কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে ডিএসসিসি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাফল্য কেবল কতটি অভিযোগ পাওয়া গেল বা কতজন ব্যবহারকারী ইতিবাচক রেটিং দিলেন, তা দিয়ে পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগছে, একই সমস্যা আবার দেখা দিচ্ছে কি না এবং নাগরিকেরা বাস্তবে কতটা উন্নত সেবা পাচ্ছেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ৬৫৫টি অভিযোগের সমাধান এবং পরবর্তী সময়ে সেবার মান ধরে রাখা তাই উদ্যোগটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কাজ। শুধু নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান কিংবা বর্জ্য অপসারণের মধ্যেই এর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও কার্যকর সমাধান। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের তথ্য ও মতামত সিটি করপোরেশনের কাজকে আরও সুনির্দিষ্ট করার সুযোগ দিতে পারে।
‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সেবার একটি সম্ভাবনাময় দিক তুলে ধরেছে। অভিযোগের দ্রুত সমাধান, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে আরও নাগরিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, অ্যাপটি নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে পারে। নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির সমন্বয়েই এই উদ্যোগ একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রচেষ্টায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রশাসক মনে করেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন