বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৭ পি.এম
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. আলম শেখ (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে শিশু চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১১টার সময় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া এই তথ্য জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার রাতে আলম শেখ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনেরা তাঁকে শিশু চোর মনে করে। তাঁরা আলমের হাসপাতলে আসার কারণ জানতে চান। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। এক পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
আরো পড়ুন
গুজরাটের জেল থেকে লরেন্স বিষ্ণোইকে কেন নিতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ
এসআই রিমন মিয়া বলেন, ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হয়। পরে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলম শেখের মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, আঙুলের ছাপের মাধ্যমে আলম শেখের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তিনি রাজধানীর রূপনগরের টিনশেড এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আলম শেখ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং তিনি মস্তিষ্কে স্ট্রোকেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ বুঝে নিতে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে পেরুতে জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় কয়েকশ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) জানায়, মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই কৃষক। দাবানল নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আহত হন এবং পরে তাদের মৃত্যু ঘটে।
লিমা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।
দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুতে সেখানে ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচুর নিকটবর্তী একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পেরুতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে মন্তব্য করেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’
কৃষকেরা ফসল ফলানোর জন্য জমি পরিষ্কার করতে প্রায়ই ঝোপঝাড়ে আগুন দেন। এই আগুন থেকেই অনেক সময় দাবানলের সূত্রপাত ঘটে। দাবানলে এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ১০০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া ১২ হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক উদ্ভিদও আগুনে পুড়ে গেছে।
সিওইএন জানায়, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা ও পেরুর আমাজন অঞ্চলে সাতটি দাবানল জ্বলছিল।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এতে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে।
চলতি বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এরই মধ্যে মধ্য আমেরিকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। খরার কারণে সেখানে প্রাণীও মারা যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪শ’ একর কৃষি জমি দখল করে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে আজ একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকার সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানের সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করে পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষি জমি দখল করেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এসব জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। জমির মালিকদের বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।
জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। তবে, একটি চক্র ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করছে। অন্য এক জমির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, মুখদ্দি এলাকায় তার পৈতৃক ২২ একর জমি রয়েছে এবং সেখানে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বাসস’কে বলেন, প্রায় ৪শ’ একর জমিতে একটি চক্র পুকুর খনন করে আসছিল। এর আগে প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বাসস’কে বলেন, নদীর ওপার থেকে এসে একটি চক্র আবাদি ও সরকারি খাস জমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষে তারা আবারও একই কাজে ফিরে আসে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি জমি কমে যাবে। তিনি বলেন, জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরও জানান, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অভিযানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, যুবদলের নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী এবং চট্টগ্রামের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম।
মীর শাহে আলম বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দু ধর্মের ভাইদের পকেটের লোক মনে করেছিল। কিন্তু তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে এবং আমাদের বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসের ফলস্বরূপ সারা বাংলাদেশে প্রায় ১২০০ অতিরিক্ত পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে এবং সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য তারেক রহমানের জনগণের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আমরা দিতে সক্ষম হয়েছি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসন এবং বিএনপির সদস্যরা একত্রে পূজামণ্ডপগুলোকে পাহারা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই বড় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাতটি ইসলামী দল একত্রে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়ে ‘সমমনা ইসলামী জোট’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন।
এই জোটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, সমমনা ইসলামী দল’ প্লাটফর্মে সাতটি ইসলামী দল একত্রে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। যেসব দল অন্য জোটে রয়েছে, তারা সেই জোট ত্যাগ করে সমমনা ইসলামী দল রাজনৈতিক প্লাটফর্মে আসার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
সাজিদুর রহমান আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম দেশের, জাতির এবং ইসলামের স্বার্থে সমমনা ইসলামী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ভূমিকা পালন করছে। তবে নিজেদের নির্দলীয় অবস্থান বজায় থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ