বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪২ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অডিটোরিয়ামে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ এবং ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় নির্বাচন, পূজা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জাতীয় অনুষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও তারা সক্রিয়। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধ, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, বৃক্ষরোপণ এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও জনসেবায় অবদান রাখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার হবে।
তিনি আরও জানান, তেজগাঁওয়ে ৩.৪২৮ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া আধুনিক সদর দপ্তর কেবল একটি নতুন অবকাঠামো নয়, বরং বাহিনীর ব্যাপক সংস্কার, আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নির্মিতব্য এই বহুতল ভবন আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং, কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার আধুনিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।
মন্ত্রী বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দর্শনের বিকাশ ঘটে, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়। তার সরকারের সময়ে ১৯৯৫ সালে আনসার বাহিনী আইন, ব্যাটালিয়ন আনসার আইন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদান করেন, যা বাহিনীর গৌরবময় অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। সেই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য নতুন সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নারীদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে নারীদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশন এ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এসব উদ্যোগ নারীসহ বাহিনীর সব সদস্যের দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম ও জননিরাপত্তায় একটি দক্ষ, সংগঠিত ও কার্যকর স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এ উদ্যোগ দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও জোরদার করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি’র সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর ‘মহুয়া-কহুয়া’ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে জেলার পশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মহুরী ব্রিজ এলাকায় উক্ত প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন তিনি।
উদ্বোধনী ফলকে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প।
ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এর আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ফেনী-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, মহিলা সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ জেলা নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাছ খাওয়ার সময় গলায় কাঁটা ফুটে যাওয়ার ঘটনা শিশুদের মধ্যে বেশ পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা খাইয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গলার টিস্যুতে আটকে যেতে পারে। এর ফলে পরবর্তীতে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
অতএব, শিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভাত-পাউরুটি-কলা দিয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা নয়
গলায় কাঁটা ফুটলে প্রথমেই ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা খাইয়ে কাঁটা নিচে নামানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। খাবার জোর করে গিলালে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গলার টিস্যুতে আটকে যেতে পারে।
এতে গলার ভেতরে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই শিশুকে জোর করে কোনো খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
লেবু বা ভিনেগারেও ভরসা নয়
অনেকে মনে করেন লেবুর রস বা ভিনেগার খেলে মাছের কাঁটা গলে যায়। কিন্তু এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এসব খাওয়ানোর চেষ্টা করে অযথা সময় নষ্ট না করাই ভালো।
আঙুল বা চামচ দিয়ে কাঁটা খোঁচাবেন না
কাঁটা বের করার জন্য শিশুর গলার ভেতরে আঙুল, চামচ বা কোনো সরঞ্জাম ঢুকিয়ে খোঁচাখুঁচি করা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে কাঁটা আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে এবং গলার ভেতরে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।
তাহলে কাঁটা ফুটলে কী করবেন?
কাঁটা ফুটে যাওয়ার পর শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা না হলে এবং সে স্বাভাবিকভাবে কাশতে পারলে তাকে কয়েকবার স্বাভাবিকভাবে কাশতে দেওয়া যেতে পারে। কাশির মাধ্যমে কখনো কখনো আটকে থাকা কাঁটা বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে খুব জোরে কাশতে বাধ্য করা উচিত নয়। শিশুর অস্বস্তি বেশি হলে বা কাঁটা বের না হলে ঘরোয়া উপায়ে বারবার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি সবসময় কাঁটার কারণে নয়
কখনো কাঁটা নিচে নেমে যাওয়ার পরও গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে। কারণ কাঁটা যাওয়ার সময় গলার ভেতরের টিস্যুতে সামান্য আঁচড় বা ক্ষত তৈরি হতে পারে।
তাহলে কাঁটা বের হয়ে যাওয়ার পরও কিছু সময় অস্বস্তি থাকতে পারে। উপসর্গ ধীরে ধীরে কমছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় কোনো ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ না করাই ভালো।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
গলায় কাঁটা ফুটে গেলে শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অপেক্ষা করা যাবে না। একইভাবে মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লালা পড়া, গলা বা ঘাড় ফুলে যাওয়া কিংবা অস্বস্তি বাড়তে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
কাঁটা ফুটে যাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অস্বস্তি না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশু হলে গলায় কাঁটা আটকে আছে বলে সন্দেহ থাকলে নিজে থেকে বের করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।
শিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে ভয়ে তাড়াহুড়ো করে খাবার গিলিয়ে দেওয়া বা গলার ভেতর কিছু ঢুকিয়ে কাঁটা বের করার চেষ্টা না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুরে, বাড়ির সামনে আঙিনায় খেলার সময় দুই শিশু ডোবার পানিতে পড়ে মারা গেছে। নিহত শিশুদের নাম মালিহা জান্নাত (২) এবং তাহিয়া জান্নাত (৩) বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বিরামপুর উপজেলার ২নং কাটলা ইউনিয়নের উত্তর কাটলা গ্রামে ঘটে।
নিহত মালিহা জান্নাত (২) ওই গ্রামের হুমায়ন কবিরের কন্যা। অপরদিকে, তাহিয়া জান্নাত (৩) একই গ্রামের তারিকুল ইসলামের কন্যা। তারা প্রতিবেশী।
নিহত শিশুদের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলাম জানান, সকালে মালিহা জান্নাত ও তাহিয়া জান্নাত তাদের বাড়ির সামনের আঙিনায় খেলছিল। এ সময় তাদের বাবা-মা গৃহস্থালি কাজে এবং বাবা বাড়ির বাহিরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খেলার একপর্যায়ে দুই শিশু বাড়ির সামনের ডোবার দিকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর, ওই বাড়ির সামনে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ডোবার পানিতে একটি শিশুকে ভেসে থাকতে দেখতে পায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তাদের শিক্ষককে জানায়।
শিক্ষকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তারা মালিহা জান্নাতকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই হাত দূরে পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায় তাহিয়া জান্নাতকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাহিয়া জান্নাতকে তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক এ বিষয়ে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংসার, সন্তান, কর্মক্ষেত্র—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেকের জীবন ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তায় ভরে যায়। প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজের চাপ ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে এলোমেলো করে দিতে পারে। কিন্তু জীবনকে কিছুটা সহজ করে তুললে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।
বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই মানসিক চাপ কমানো এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা সম্ভব। জীবনযাপনের ধরন বদলাতে পারে, ফিরে আসতে পারে ভালো লাগা।
প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শিখুন
অনেকে মনে করেন, কারও অনুরোধে সরাসরি ‘না’ বলা ঠিক নয়। আবার কিছু মানুষ কাউকে কষ্ট দেওয়ার ভয়ে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সবকিছুতে সম্মতি দেন।
কিন্তু যে কাজ করার মতো সময় বা সামর্থ্য নেই, সেখানে সম্মতি দেওয়া মানে নিজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা। তাই অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলা শেখা জরুরি।
অযথা ভাবনা কমান
কাজের বার্তা, বৈদ্যুতিন চিঠি বা বিভিন্ন বার্তা বারবার দেখার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখা যায়। প্রতিটি বার্তার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়াতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাজের বার্তা বা দলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে অপ্রয়োজনীয় বার্তা ও যোগাযোগ কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নিজের কাজেও মন দেওয়া সহজ হবে।
পছন্দের কাজে সময় দিন
নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। পাশাপাশি অকারণে মুঠোফোনের ওপর নির্ভরশীলতা কমতে পারে।
ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শোনা কিংবা পছন্দের কোনো শরীরচর্চা—যে কাজটি করতে ভালো লাগে, সেটির জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখা যেতে পারে। এতে ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের হবে এবং বর্তমান সময়টাকে উপভোগ করা সহজ হবে।
ঘর গোছানো রাখুন
অগোছালো ঘর শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, এর প্রভাব মনের ওপরও পড়তে পারে। দিনের শেষে পরিপাটি ঘর, সুন্দরভাবে সাজানো ঘরের কোনো অংশ কিংবা ঘরের মধ্যে সবুজের উপস্থিতি মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
তাহলে একসঙ্গে পুরো ঘর পরিষ্কার করার চাপ না নিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে ঘরও পরিচ্ছন্ন থাকবে, নিজের মনও কিছুটা হালকা লাগবে।
পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন
বাইরে যাওয়ার সময় কী পরবেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রাখা আছে—এসব নিয়ে শেষ মুহূর্তে খোঁজাখুঁজি করলে অযথা চাপ বাড়ে।
আলমারিতে যেসব পোশাক পরতে ভালো লাগে না বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো আলাদা করে রাখা যেতে পারে। নিয়মিত পরা পোশাকগুলো সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে গুছিয়ে রাখলে প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার সময় ঝক্কি অনেকটাই কমে।
জীবনকে সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজ করতে হয় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে নিজের সময়, মন এবং চারপাশকে কিছুটা গুছিয়ে নিলেই ব্যস্ত জীবনে স্বস্তির জায়গা তৈরি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ