প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সংসার, সন্তান, কর্মক্ষেত্র—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেকের জীবন ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তায় ভরে যায়। প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজের চাপ ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে এলোমেলো করে দিতে পারে। কিন্তু জীবনকে কিছুটা সহজ করে তুললে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।
বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই মানসিক চাপ কমানো এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা সম্ভব। জীবনযাপনের ধরন বদলাতে পারে, ফিরে আসতে পারে ভালো লাগা।
প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শিখুন
অনেকে মনে করেন, কারও অনুরোধে সরাসরি ‘না’ বলা ঠিক নয়। আবার কিছু মানুষ কাউকে কষ্ট দেওয়ার ভয়ে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সবকিছুতে সম্মতি দেন।
কিন্তু যে কাজ করার মতো সময় বা সামর্থ্য নেই, সেখানে সম্মতি দেওয়া মানে নিজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা। তাই অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলা শেখা জরুরি।
অযথা ভাবনা কমান
কাজের বার্তা, বৈদ্যুতিন চিঠি বা বিভিন্ন বার্তা বারবার দেখার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখা যায়। প্রতিটি বার্তার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়াতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাজের বার্তা বা দলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে অপ্রয়োজনীয় বার্তা ও যোগাযোগ কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নিজের কাজেও মন দেওয়া সহজ হবে।
পছন্দের কাজে সময় দিন
নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। পাশাপাশি অকারণে মুঠোফোনের ওপর নির্ভরশীলতা কমতে পারে।
ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শোনা কিংবা পছন্দের কোনো শরীরচর্চা—যে কাজটি করতে ভালো লাগে, সেটির জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখা যেতে পারে। এতে ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের হবে এবং বর্তমান সময়টাকে উপভোগ করা সহজ হবে।
ঘর গোছানো রাখুন
অগোছালো ঘর শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, এর প্রভাব মনের ওপরও পড়তে পারে। দিনের শেষে পরিপাটি ঘর, সুন্দরভাবে সাজানো ঘরের কোনো অংশ কিংবা ঘরের মধ্যে সবুজের উপস্থিতি মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
তাহলে একসঙ্গে পুরো ঘর পরিষ্কার করার চাপ না নিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে ঘরও পরিচ্ছন্ন থাকবে, নিজের মনও কিছুটা হালকা লাগবে।
পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন
বাইরে যাওয়ার সময় কী পরবেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রাখা আছে—এসব নিয়ে শেষ মুহূর্তে খোঁজাখুঁজি করলে অযথা চাপ বাড়ে।
আলমারিতে যেসব পোশাক পরতে ভালো লাগে না বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো আলাদা করে রাখা যেতে পারে। নিয়মিত পরা পোশাকগুলো সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে গুছিয়ে রাখলে প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার সময় ঝক্কি অনেকটাই কমে।
জীবনকে সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজ করতে হয় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে নিজের সময়, মন এবং চারপাশকে কিছুটা গুছিয়ে নিলেই ব্যস্ত জীবনে স্বস্তির জায়গা তৈরি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন