বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৩ পি.এম
দিনাজপুরের বিরামপুরে, বাড়ির সামনে আঙিনায় খেলার সময় দুই শিশু ডোবার পানিতে পড়ে মারা গেছে। নিহত শিশুদের নাম মালিহা জান্নাত (২) এবং তাহিয়া জান্নাত (৩) বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বিরামপুর উপজেলার ২নং কাটলা ইউনিয়নের উত্তর কাটলা গ্রামে ঘটে।
নিহত মালিহা জান্নাত (২) ওই গ্রামের হুমায়ন কবিরের কন্যা। অপরদিকে, তাহিয়া জান্নাত (৩) একই গ্রামের তারিকুল ইসলামের কন্যা। তারা প্রতিবেশী।
নিহত শিশুদের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলাম জানান, সকালে মালিহা জান্নাত ও তাহিয়া জান্নাত তাদের বাড়ির সামনের আঙিনায় খেলছিল। এ সময় তাদের বাবা-মা গৃহস্থালি কাজে এবং বাবা বাড়ির বাহিরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খেলার একপর্যায়ে দুই শিশু বাড়ির সামনের ডোবার দিকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর, ওই বাড়ির সামনে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ডোবার পানিতে একটি শিশুকে ভেসে থাকতে দেখতে পায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তাদের শিক্ষককে জানায়।
শিক্ষকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তারা মালিহা জান্নাতকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই হাত দূরে পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায় তাহিয়া জান্নাতকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাহিয়া জান্নাতকে তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক এ বিষয়ে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংসার, সন্তান, কর্মক্ষেত্র—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেকের জীবন ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তায় ভরে যায়। প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজের চাপ ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে এলোমেলো করে দিতে পারে। কিন্তু জীবনকে কিছুটা সহজ করে তুললে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।
বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই মানসিক চাপ কমানো এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা সম্ভব। জীবনযাপনের ধরন বদলাতে পারে, ফিরে আসতে পারে ভালো লাগা।
প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শিখুন
অনেকে মনে করেন, কারও অনুরোধে সরাসরি ‘না’ বলা ঠিক নয়। আবার কিছু মানুষ কাউকে কষ্ট দেওয়ার ভয়ে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সবকিছুতে সম্মতি দেন।
কিন্তু যে কাজ করার মতো সময় বা সামর্থ্য নেই, সেখানে সম্মতি দেওয়া মানে নিজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা। তাই অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলা শেখা জরুরি।
অযথা ভাবনা কমান
কাজের বার্তা, বৈদ্যুতিন চিঠি বা বিভিন্ন বার্তা বারবার দেখার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখা যায়। প্রতিটি বার্তার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়াতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাজের বার্তা বা দলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে অপ্রয়োজনীয় বার্তা ও যোগাযোগ কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নিজের কাজেও মন দেওয়া সহজ হবে।
পছন্দের কাজে সময় দিন
নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। পাশাপাশি অকারণে মুঠোফোনের ওপর নির্ভরশীলতা কমতে পারে।
ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শোনা কিংবা পছন্দের কোনো শরীরচর্চা—যে কাজটি করতে ভালো লাগে, সেটির জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখা যেতে পারে। এতে ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের হবে এবং বর্তমান সময়টাকে উপভোগ করা সহজ হবে।
ঘর গোছানো রাখুন
অগোছালো ঘর শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, এর প্রভাব মনের ওপরও পড়তে পারে। দিনের শেষে পরিপাটি ঘর, সুন্দরভাবে সাজানো ঘরের কোনো অংশ কিংবা ঘরের মধ্যে সবুজের উপস্থিতি মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
তাহলে একসঙ্গে পুরো ঘর পরিষ্কার করার চাপ না নিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে ঘরও পরিচ্ছন্ন থাকবে, নিজের মনও কিছুটা হালকা লাগবে।
পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন
বাইরে যাওয়ার সময় কী পরবেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রাখা আছে—এসব নিয়ে শেষ মুহূর্তে খোঁজাখুঁজি করলে অযথা চাপ বাড়ে।
আলমারিতে যেসব পোশাক পরতে ভালো লাগে না বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো আলাদা করে রাখা যেতে পারে। নিয়মিত পরা পোশাকগুলো সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে গুছিয়ে রাখলে প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার সময় ঝক্কি অনেকটাই কমে।
জীবনকে সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজ করতে হয় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে নিজের সময়, মন এবং চারপাশকে কিছুটা গুছিয়ে নিলেই ব্যস্ত জীবনে স্বস্তির জায়গা তৈরি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ১৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া, হাই স্কুল পর্যায়ে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০০টি দাবা বোর্ড বিতরণ করা হয় এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে এক বছরের জন্য বই ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমার সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী, প্রাথমিক পর্যায়ে জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা প্রমুখ।
পরে প্রধান অতিথি উজেলার আয়োজনে সাঁতার প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেন। সাঁতার প্রশিক্ষণে ১৫ জন কিশোর-কিশোরী অংশ নেয়। একই সঙ্গে তিনি সদর উপজেলা প্রসঙ্গে বৃক্ষ রোপণ করেন।
এ সময় ইউএনও এসএমএন জামিউল হিকমা, উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল হাসান ফয়সালসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, "শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতি বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় আঙ্গিককে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়ানোয় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের উদ্দেশে একটি বার্তা প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা প্রকাশ করেন।
বার্তায় জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, রাতের অন্ধকারে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় সরকার ও সরকারি দল অবশেষে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, এত বড় অপকর্মের জন্য শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "দেশবাসী দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায়।"
ডা. শফিকুর রহমান এও উল্লেখ করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব সরকারের পালন করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণের পথ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা সেমিনারে দেশের জ্বালানি খাতে গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং গ্রিন ট্রানজিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম বিজ্ঞান ভবনের ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যালারি রুমে ‘দ্য ক্লিন এনার্জি হরাইজন: অ্যাডভান্সিং পাওয়ার ইনোভেশন অ্যান্ড গ্রিন টেকনোলজিস’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইপিআরসির চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা। স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক।
আয়োজকরা জানান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও গ্রিন টেকনোলজির অগ্রগতি, বিদ্যুৎ খাতে উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যেই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের টেকনিক্যাল সেশনে দেশের জ্বালানি খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিইপিআরসির পরিচালক (ইনোভেশন) ড. হাসান মাহমুদ কাউন্সিলের পরিচিতি ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সালমা সুলতানা বাংলাদেশের গ্যাস খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও টেকসই জ্বালানিতে উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের এনার্জি সিকিউরিটি, এক্সপ্লোরেশন ও গ্রিন ট্রানজিশন নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ওপেন ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিইপিআরসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। ভালো গবেষণার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না। কিছু প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফান্ড দেয়, যা বড় পরিসরের গবেষণার জন্য যথেষ্ট নয়। বিইপিআরসি বর্তমানে প্রাথমিকভাবে গবেষণার জন্য ৪ কোটি টাকা ফান্ড করছে। গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু মানসম্মত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করা নয়; বরং গবেষণার ফল দেশের ও জনগণের কী উপকারে আসবে, সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতীতে নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও চুক্তির প্রভাব আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবিত নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োগের পাশাপাশি বাজারজাত করার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি সহায়তা ও অনুদানের মাধ্যমে এসব উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে।
আইকিউসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। তেল, গ্যাস ও এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দেশের ভবনগুলোর ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে বিদ্যুতের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতাও বাড়বে।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ