শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৭ পি.এম
আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একটি ডিভোর্সী নারীকে বিয়ে করার কারণে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রতন সরদারের (৪৫) জন্য কাল একটি কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ার পরও তথাকথিত সালিশ বৈঠকে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মাতব্বররা শুধু জরিমানা করেই থেমে থাকেনি; রামদা, ছেনদা ও লোহার রড হাতে নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কারণে রাতের আঁধারে নদী পার হয়ে গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন এই ভুক্তভোগী।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে জাজিরা উপজেলার মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রতন সরদারের বন্ধু রুবেল শিকদারের সাথে তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের অক্টোবরে রুবেল আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রী রুবিনাকে ডিভোর্স দেন। বিচ্ছেদের প্রায় ১০ মাস পরে রুবিনাকে বিয়ে করেন রতন সরদার। রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগমেরও এই বিয়েতে পূর্ণ সম্মতি ছিল। তবে রুবেল ও এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল এই বৈধ ও আইনি বিয়ে মেনে নিতে পারেনি।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাতব্বররা মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক (ক্যাঙ্গারু কোর্ট) আয়োজন করে। প্রায় পাঁচশ মানুষের উপস্থিতিতে বিচার বসানো হলেও রতন বা রুবিনার বিরুদ্ধে কোনো পরকীয়া বা অনৈতিক কাজের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কেউ। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও জুরি ভোটের অজুহাতে জোরপূর্বক রতনকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সূর্য ওঠার আগেই গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে একটি 'আপোষনামা' জোর করে তৈরি করা হয়। নথির হিসাব অনুযায়ী, নগদ ১০ হাজার টাকা ও বন্দকি জমির ১ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার পরও প্রভাবশালী সমাজপতিরা শান্ত হয়নি। বাকি টাকা আদায়ের জন্য একের পর এক কিস্তির তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অত্যাচারের মাত্রা এখানেই শেষ হয়নি। সালিশের পর রামদা ও লোহার রড নিয়ে রতনের বসতবাড়িতে হামলা ও তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করে প্রভাবশালীরা। উপায় না পেয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে রাতের আঁধারে নদী পার হয়ে আত্মগোপনে যান রতন।
রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, রতনের সাথে তার সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী রুবিনা আক্তার বলেন, "আগের স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আইনি উপায়েই বিচ্ছেদ হয়েছিল। কোনো পরকীয়া নয়, পরিবারের সম্মতিতে স্বেচ্ছায় রতনকে বিয়ে করেছি।"
এদিকে সালিশ বৈঠকে জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সমাজপতিরা। তবে তারা কোন আইনের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়ানো রতন সরদার জাজিরা থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, "আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর হাজারীবাগের ঝাউচর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে ১১ বছর বয়সী আবদুল্লাহ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজ আবদুল্লাহর বাবার নাম টিপু এবং মায়ের নাম মিমি। হারিয়ে যাওয়ার সময় তার পরনে ছিল কমলা রঙের গেঞ্জি ও প্যান্ট।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে ঝাউচর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা বলে আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
আবদুল্লাহর স্থায়ী ঠিকানা হলো, ভিশন শোরুম বিল্ডিং, ঝাউচর বাজার, হাজারীবাগ, ঢাকা।
কোনো সহৃদয় ব্যক্তি আবদুল্লাহর সন্ধান পেলে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যোগাযোগের নম্বর: ০১৮৮৬৮২০৭৩৩।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণের পরিমাণ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অনেক পরিবার এখন দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের টেড রসম্যান মন্তব্য করেন যে, ঋণসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের শুরুতে তুলনা করলে আর্থিক পরামর্শ নেওয়ার সেশনের সংখ্যা ১৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
রসম্যানের মতে, এই আর্থিক চাপের প্রধান কারণ হলো প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বৃদ্ধি। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ এখন প্রায় সবকিছুর জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।
শুধু খাদ্য নয়, গাড়ি, জ্বালানি, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং শিশুদের দেখাশোনার খরচও মহামারির পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে জানান রসম্যান। এর ফলে অনেক পরিবারকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে এবং কোন বিল আগে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তবে ঋণের কারণে অনেকে লজ্জায় সাহায্য চাইতে চান না। রসম্যান বলেন, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক সংকোচ কাজ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতাদের কাছে অনেকেই জানতে চান, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি কি সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ।
রসম্যানের মতে, এই লজ্জা দূরে রাখা উচিত, কারণ একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন লাখো মানুষ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকই প্রতি মাসে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না এবং এক মাসের ঋণ পরের মাসে বহন করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা শহরে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনাছ নামের একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে। আটক করা আনাছকে বর্তমানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।
মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে আনাছের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর আনাছকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সূত্র জানায়, এসআরবি এবং ডিবি পুলিশ এই ঘটনার সাথে জড়িত আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে সানন্দা এলাকায় একটি টিলা থেকে অপ্রতীমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। এই হত্যাকাণ্ডের কারণে দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়ে যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় জমির বিরোধের কারণে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আহত মমতাজ বেগম রাসু (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই মামলায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন, উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নজির বেপারী বাড়ির বাসিন্দা, মামলার এক নম্বর আসামি মো. কাশেম (৫৫) এবং দুই নম্বর আসামি কাশেমের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৫০)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিহত মমতাজ বেগমের মেয়ে রুবিনা বেগম ৫ জনকে আসামি করে দৌলতখান থানায় হত্যা মামলা করেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভোলার আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে মমতাজ বেগমকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বসতঘরে তার মৃত্যু ঘটে।
মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মমতাজ বেগমের দেবর বজলু বেপারীর ছেলে মাইনুদ্দিন জমি-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে পাশের বাড়ির কাশেম, তার ছেলে ইকবাল, স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও নিহতের দেবর বজলুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় রাসু বেগম সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে গেলে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে রাত ২টার দিকে আহত অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় কাশেম ও তার স্ত্রী রাজিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে নিহতের বড় মেয়ে ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার এক ও দুই নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, মামলাটির তদন্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ