প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একটি ডিভোর্সী নারীকে বিয়ে করার কারণে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রতন সরদারের (৪৫) জন্য কাল একটি কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ার পরও তথাকথিত সালিশ বৈঠকে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মাতব্বররা শুধু জরিমানা করেই থেমে থাকেনি; রামদা, ছেনদা ও লোহার রড হাতে নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কারণে রাতের আঁধারে নদী পার হয়ে গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন এই ভুক্তভোগী।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে জাজিরা উপজেলার মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রতন সরদারের বন্ধু রুবেল শিকদারের সাথে তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের অক্টোবরে রুবেল আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রী রুবিনাকে ডিভোর্স দেন। বিচ্ছেদের প্রায় ১০ মাস পরে রুবিনাকে বিয়ে করেন রতন সরদার। রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগমেরও এই বিয়েতে পূর্ণ সম্মতি ছিল। তবে রুবেল ও এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল এই বৈধ ও আইনি বিয়ে মেনে নিতে পারেনি।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাতব্বররা মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক (ক্যাঙ্গারু কোর্ট) আয়োজন করে। প্রায় পাঁচশ মানুষের উপস্থিতিতে বিচার বসানো হলেও রতন বা রুবিনার বিরুদ্ধে কোনো পরকীয়া বা অনৈতিক কাজের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কেউ। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও জুরি ভোটের অজুহাতে জোরপূর্বক রতনকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সূর্য ওঠার আগেই গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে একটি 'আপোষনামা' জোর করে তৈরি করা হয়। নথির হিসাব অনুযায়ী, নগদ ১০ হাজার টাকা ও বন্দকি জমির ১ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার পরও প্রভাবশালী সমাজপতিরা শান্ত হয়নি। বাকি টাকা আদায়ের জন্য একের পর এক কিস্তির তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অত্যাচারের মাত্রা এখানেই শেষ হয়নি। সালিশের পর রামদা ও লোহার রড নিয়ে রতনের বসতবাড়িতে হামলা ও তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করে প্রভাবশালীরা। উপায় না পেয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে রাতের আঁধারে নদী পার হয়ে আত্মগোপনে যান রতন।
রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, রতনের সাথে তার সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী রুবিনা আক্তার বলেন, "আগের স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আইনি উপায়েই বিচ্ছেদ হয়েছিল। কোনো পরকীয়া নয়, পরিবারের সম্মতিতে স্বেচ্ছায় রতনকে বিয়ে করেছি।"
এদিকে সালিশ বৈঠকে জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সমাজপতিরা। তবে তারা কোন আইনের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়ানো রতন সরদার জাজিরা থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, "আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন