শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৭ পি.এম
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অংশে সড়কের উপর গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টা ও ভোর ৫টার সময় উপজেলার হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার বিপরীত পাশে পশ্চিম পাশের সার্ভিস লেনে এই ঘটনা সংঘটিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ দল সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটে সার্ভিস লেনে ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান এবং দুটি সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে চালক, সহকারী ও যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
এরপর ভোর ৫টার দিকে একই স্থানে একই কায়দায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে ওই এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রাতের বেলায় এক্সপ্রেসওয়ের ওই অংশ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছিল। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় ডাকাতরা ডাকাতি করতে পারেনি।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালক গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রাণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি। আদালত এমিলির বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এই ঘটনার মামলায়।
২০২৩ সালের ওই মৃত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নিরাপত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে বমি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনিরাপদ ও বেআইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন।
ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অবহেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না।
সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতীম হত্যার ক্লু শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এ ঘটনার তদন্তে ননস্টপ কাজ করে যাবেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য প্রয়োজন কিছুটা সময়। তিনি বলেন, "ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।"
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতীমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি নির্দোষও হতে পারেন, আবার জড়িতও হতে পারেন। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিন বিকেল ৩টার দিকে তদন্তের স্বার্থে তুহিন নামের এক সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় নির্ধারিত ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের সম্মিলিতভাবে মোট ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি-নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে নতুন আসন বরাদ্দের পাশাপাশি, পূর্ববর্তী ধাপে নির্বাচিত ৫৬ হাজার ৮০৪ জন শিক্ষার্থী মাইগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের কলেজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে মোট ৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি আবেদন জমা পড়েছে। তবে, আবেদন করার পরও ১৪ হাজার ১৪ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি। তাদের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থীও রয়েছে।
ভর্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কলেজ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পছন্দক্রম, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদনের চাপ এবং আসনসংখ্যার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কলেজে সুযোগ পাননি। বিশেষ করে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আসন না পাওয়ার কারণে পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ, পাস করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ একাদশে ভর্তির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলেও তারা অনলাইনে আবেদন করেননি।
দেশের ৮ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন রয়েছে ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, মোট আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মতো আসনে শিক্ষার্থী নিশ্চিত হলেও বিপুলসংখ্যক আসন এখনো খালি রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরে মশাল মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের নেতাকর্মীরা, যা পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে জেলা শহরের চালাপাড়া পাইলিং রোডে ঝটিকা মশাল মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী মশাল হাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে বানিয়া বাজার ব্রিজপাড় এলাকার দিক থেকে চালাপাড়া এলাকা হয়ে ফৌজদারি মোড়ের দিকে আসতে থাকে।
মিছিলের সামনে একটি ব্যানার দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল, অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের ফরমায়েশি রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। আয়োজনে জামালপুর জেলা যুবলীগ।
মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। রাত দেড়টার দিকে মিছিলটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিকভাবে মিছিলে অংশগ্রহণকারী কারও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মিছিলের পর পুলিশ অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে। এর আগেও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকবার বিক্ষোভ মিছিল বের করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ