বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৩ পি.এম
মার্কিন ডলারের দরপতন এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে, আরেকটি মূল্যবান ধাতু রুপার দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
প্রতিবেদনে এই তথ্যটি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো মন্তব্য করেন, তুলনামূলক দুর্বল ডলারের কারণে এবং মার্কিন সুদের হার কিছুটা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে আশার সঞ্চার ঘটেছে। ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে কোনও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না দেওয়ায়, সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ক্রিস্টোফার ওয়ালার বলেন, যদি আসন্ন তথ্য থেকে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে তিনি যুক্তি দেবেন যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, প্ল্যাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭৭ দশমিক ৩৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৬৭ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে তখন দিনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছিল। স্পিকার টেবিলের নথিপত্র দেখে তারকাচিহ্নিত প্রশ্নটি উত্থাপনের জন্য সাংসদের নাম ধরে ডাকলেন। কিন্তু নির্ধারিত আসনে কাউকে না পেয়ে কিছুটা কৌতুক মেশানো কণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘জিএম তো নেই!’ স্পিকারের এমন প্রতিক্রিয়া ও মুচকি হাসিতে এক মুহূর্তের জন্য গমগম করে উঠল পুরো সংসদ কক্ষ। উপস্থিত অন্য সাংসদরা হেসে উঠলেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে এই ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম (গাজী নজরুল ইসলাম) অনুপস্থিত থাকায় সংসদ কক্ষে উত্থাপিত হতে পারেনি তার নির্ধারিত লিখিত প্রশ্নটি।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রশ্নোত্তর পর্বে জি এম নজরুল ইসলামের ডাক পড়লে তিনি অনুপস্থিত থাকায় স্পিকার রসিকতা করে মন্তব্যটি করেন। স্পিকার জানান, সংসদ সদস্য কক্ষে উপস্থিত না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী তার প্রশ্নটি সংসদে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে উত্থাপিত বলে গণ্য হচ্ছে না।
সাংবাদিকদের হাতে আসা প্রশ্নোত্তরের লিখিত কপি থেকে জানা যায়, সংসদ সদস্য জি এম নজরুলের লিখিত প্রশ্নটি ছিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল—দেশে বর্তমানে শ্রম আদালতের সংখ্যা কত, এগুলো কোথায় অবস্থিত এবং বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে মন্ত্রী উত্তরটি মৌখিকভাবে পাঠ করার সুযোগ না পেলেও কপির তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বর্তমানে দেশে একটি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং ১৪টি শ্রম আদালতসহ মোট ১৫টি আদালত কার্যকর রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ছড়িয়ে রয়েছে এই বিচারিক কাঠামো।
অধিবেশনের সাধারণ রুটিনকাজের মধ্যে হঠাৎ এই অনভিপ্রেত ঘটনা কিছুটা সময় হাল্কা পরিবেশ এনে দেয় সংসদ কক্ষে। বৈঠক শেষে সংসদ সদস্যের উপস্থিত না থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিম জনগণের স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় পুনরায় অস্বীকার করেছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পুরনো অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ এবং সহযোগী দেশগুলোর সহায়তায় যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুত রয়েছে। তবে তারা একইসাথে জোর দিয়ে দাবি করে, 'রোহিঙ্গা' নামে কোনো জাতিগত সত্তার অস্তিত্ব ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারে কখনো ছিল না। এ ছাড়া, বিভিন্ন দেশে পালিত 'রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস'-এর তীব্র নিন্দা জানায় জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই অবস্থায় প্রত্যাবাসিতদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, যেখানে মূল পরিচয়ই অস্বীকৃত, সেখানে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা নতুন করে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই’ প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে অনুপস্থিত। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও আশ্বস্ত করেছেন, জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও এই বিশাল জনগণের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনও ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বা এমইভি সুবিধা সীমিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে, যারা এ সুবিধার আওতার বাইরে পড়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রযোজ্য হবে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ সেসব দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা বাতিল করে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রবর্তন করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে Multiple Entry Visa (MEV) আর ঢালাওভাবে সব দেশের নাগরিকদের জন্য প্রদান করা হবে না।
নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হবে। এসব উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।
তবে উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এই নতুন ঘোষণা ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটির সঙ্গে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংক্রান্ত ভিসার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই নীতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মাদ আমিন উর রশিদ নোংরা টয়লেট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, "সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করি। যদি আমি পারি, তাহলে আপনার কাছে জানতে চাইব—আপনি কেন পারলেন না?"
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কৃষিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একটি ৫০ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে মন্ত্রী রোগীদের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা দেখে কৃষিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তিনি পরিচালককে বলেন, "সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব। টাইলসের ওপর কালো দাগ থাকার কথা নয়। হারপিক ব্যবহার করলে এসব দাগ পরিষ্কার হয়ে যায়।" এরপর তিনি হাসপাতালের টয়লেটের পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী টয়লেটগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বলেন, "জঘন্য অবস্থা। সব ফ্লোরে ছয়টি টয়লেট আছে, এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। অন্তত টয়লেটটা তো আপনারা ঠিক রাখবেন।"
তিনি আরও বলেন, "আই ওয়ান্ট ক্লিন রাইট নাও।"
শুধু টয়লেটের অপরিচ্ছন্নতাই নয়, হাসপাতালের বৈদ্যুতিক পাখাগুলোর নাজুক অবস্থাও মন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন, দ্রুত নষ্ট পাখাগুলো মেরামত করার জন্য।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১১৭টি টয়লেট সচল আছে এবং ৩০টি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাথরুগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ১ হাজার ৩৪৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। এসব রোগীর সাথে তাদের একাধিক স্বজনও রয়েছে। এই অবস্থায় হাসপাতালের জনবল সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মীর ১৬৫ পদের মধ্যে ১০২টি পদ খালি রয়েছে। ফলে জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ