বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৪ পি.এম
বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিম জনগণের স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় পুনরায় অস্বীকার করেছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পুরনো অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ এবং সহযোগী দেশগুলোর সহায়তায় যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুত রয়েছে। তবে তারা একইসাথে জোর দিয়ে দাবি করে, 'রোহিঙ্গা' নামে কোনো জাতিগত সত্তার অস্তিত্ব ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারে কখনো ছিল না। এ ছাড়া, বিভিন্ন দেশে পালিত 'রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস'-এর তীব্র নিন্দা জানায় জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই অবস্থায় প্রত্যাবাসিতদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, যেখানে মূল পরিচয়ই অস্বীকৃত, সেখানে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা নতুন করে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই’ প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে অনুপস্থিত। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও আশ্বস্ত করেছেন, জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও এই বিশাল জনগণের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনও ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বা এমইভি সুবিধা সীমিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে, যারা এ সুবিধার আওতার বাইরে পড়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রযোজ্য হবে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ সেসব দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা বাতিল করে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রবর্তন করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে Multiple Entry Visa (MEV) আর ঢালাওভাবে সব দেশের নাগরিকদের জন্য প্রদান করা হবে না।
নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হবে। এসব উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।
তবে উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এই নতুন ঘোষণা ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটির সঙ্গে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংক্রান্ত ভিসার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই নীতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মাদ আমিন উর রশিদ নোংরা টয়লেট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, "সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করি। যদি আমি পারি, তাহলে আপনার কাছে জানতে চাইব—আপনি কেন পারলেন না?"
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কৃষিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একটি ৫০ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে মন্ত্রী রোগীদের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা দেখে কৃষিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তিনি পরিচালককে বলেন, "সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব। টাইলসের ওপর কালো দাগ থাকার কথা নয়। হারপিক ব্যবহার করলে এসব দাগ পরিষ্কার হয়ে যায়।" এরপর তিনি হাসপাতালের টয়লেটের পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী টয়লেটগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বলেন, "জঘন্য অবস্থা। সব ফ্লোরে ছয়টি টয়লেট আছে, এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। অন্তত টয়লেটটা তো আপনারা ঠিক রাখবেন।"
তিনি আরও বলেন, "আই ওয়ান্ট ক্লিন রাইট নাও।"
শুধু টয়লেটের অপরিচ্ছন্নতাই নয়, হাসপাতালের বৈদ্যুতিক পাখাগুলোর নাজুক অবস্থাও মন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন, দ্রুত নষ্ট পাখাগুলো মেরামত করার জন্য।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১১৭টি টয়লেট সচল আছে এবং ৩০টি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাথরুগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ১ হাজার ৩৪৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। এসব রোগীর সাথে তাদের একাধিক স্বজনও রয়েছে। এই অবস্থায় হাসপাতালের জনবল সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মীর ১৬৫ পদের মধ্যে ১০২টি পদ খালি রয়েছে। ফলে জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বতসোয়ানা সরকার জানিয়েছে, মাদক পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তাদের এক নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন। এর ফলে তার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একটি বিবৃতিতে বতসোয়ানার সরকার জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী লেসেদি মোলাপিসি ২০২২ সালে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। বতসোয়ানা কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ডুমা বোকোর করা একটি আবেদনের পর তার মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এএফপিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনিও বুতালে বলেছেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) লেসেদির দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।
লেসেদি মোলাপিসি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসেন। সেই সময় তার কাছে হেরোইন পাওয়া যায়। এই অপরাধের জন্য ২০২৪ সালে তার মৃত্যুদণ্ড হয়।
বতসোয়ানা জানিয়েছে, প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলো মামলাটি নিয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২ হাজারের বেশি ছিল। ওই বছর নতুন করে ১৮৫টি মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান (৫) নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুরে উপজেলার সিডস্টোর-আওলাতলী আঞ্চলিক সড়কের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলার মাদ্রাসার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার উত্তরখাম গ্রামের প্রবাসী মোবারক হোসেন মোল্লার ছেলে। কিছুদিন আগে আব্দুর রহমানের পরিবার ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকায় জমি কিনে একটি নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করে। সেই বাড়িতে সে তার মায়ের সাথে বসবাস করতো এবং স্থানীয় ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলার মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।
জানা গেছে, দুপুরে খাবারের জন্য মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আব্দুর রহমানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়, কিন্তু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলার মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, "আব্দুর রহমান আমাদের মাদ্রাসার অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছাত্র ছিল। দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য আমি নিজেই তার হাত ধরে রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রাস্তা পারাপারের সময় একটি বেপরোয়া গতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং সে গুরুতর আহত হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে মমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ