প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিম জনগণের স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় পুনরায় অস্বীকার করেছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পুরনো অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ এবং সহযোগী দেশগুলোর সহায়তায় যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুত রয়েছে। তবে তারা একইসাথে জোর দিয়ে দাবি করে, 'রোহিঙ্গা' নামে কোনো জাতিগত সত্তার অস্তিত্ব ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারে কখনো ছিল না। এ ছাড়া, বিভিন্ন দেশে পালিত 'রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস'-এর তীব্র নিন্দা জানায় জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই অবস্থায় প্রত্যাবাসিতদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, যেখানে মূল পরিচয়ই অস্বীকৃত, সেখানে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা নতুন করে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই’ প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে অনুপস্থিত। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও আশ্বস্ত করেছেন, জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও এই বিশাল জনগণের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনও ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন