০৮:২৩ পি.এম
দেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্মেলন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের অনুরূপ। ৫ শতাধিক ইউএনও সরাসরি সরকারপ্রধান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন। মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউএনওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় মাঠ প্রশাসন আরও উজ্জীবিত হবে। একই সঙ্গে, উপজেলা উন্নয়নে বিভিন্ন বাধা দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সম্মেলন এক দিনের হবে।
আরো পড়ুন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ।
আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধনে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজনের রেওয়াজ রয়েছে। ডিসিরা সরকারের মন্ত্রী-সচিবদের সামনে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। ইউএনওরা যদি সরকারের কাছে মাঠ প্রশাসনের সমস্যা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধাগুলোর কথা তুলে ধরেন, তাহলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই কারণেই ডিসি সম্মেলনের আদলে ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরো পড়ুন
যে কারণে আপনি সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেবেন।
গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সারা দেশের ইউএনওদের নিয়ে এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের মতো ইউএনওদের নিয়ে সম্মেলন করার প্রস্তাব দেন। সেই সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: বিএআরসির সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার
উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক সেবা প্রদান করার ক্ষেত্রে ইউএনওরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আরো পড়ুন
ঢাকায় মাদকের ১৮ ‘ঘুণ্টিঘর’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ ডিসেম্বর ডিসি সম্মেলনের আদলে আয়োজিত এ সম্মেলন হতে পারে। সম্মেলনটি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সময়ও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউএনও সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর এটি হবে, এমন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে জানতে চাইলে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এখনো ভেন্যু নির্ধারণ হয়নি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বিবেচনায় আছে, এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ওসমানী উদ্যান রয়েছে। সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু
আরো পড়ুন
লিগ্যাল এইডে এডিআর-এ নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ লাখ।
সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ অগ্রাধিকার বিষয় আলোচনা গুরুত্ব পাবে। গ্রামগঞ্জে যারা প্রবাসে আছেন তারা যেন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান, এজন্য প্রবাসী কার্ড নিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে ওই সম্মেলনে। বৃক্ষরোপণ যেন সত্যিকারের উপকারে আসে, সে বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা আসবে। সরকারের খাল খনন নিয়ে কী বাধা, কী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, এসব বিষয় জানতে চাওয়া হতে পারে। এছাড়া, সম্মেলনে উপজেলার উন্নয়ন কার্যাবলির সমন্বয় ছাড়াও সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিসঞ্চার, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হবে।
সভায় এলাকার উন্নয়নে ইউএনওদের কাছ থেকে সরাসরি নানা বিষয়ে শুনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ইউএনওদের সরাসরি সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কারণে প্রান্তিক উন্নয়ন, সমস্যা বা এলাকার রাজনীতির হস্তক্ষেপ থাকলেও সেটি তুলে ধরার সুযোগ হবে ইউএনওদের।
আরও পড়ুন: বিরোধীরা আবোল-তাবোল বলছে: খোকন তালুকদার এমপি
আরো পড়ুন
উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত শক্তির প্রতিফলন : আনসার মহাপরিচালক।
এছাড়া, মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনকালে ইউএনওদের যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়, সে বিষয়ে সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, এটি সরকারের খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে কর্মকর্তারা উজ্জীবিত হন। কাজেও গতি আসে। মাঠের সমস্যা সরাসরি বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীও লিখিত তথ্যের চেয়ে বিষয়গুলো সরাসরি শুনতে পারেন।
আরও পড়ুন: বাংলাফ্যাক্ট রাষ্ট্রপতির নামে বানোয়াট মন্তব্য ছড়ানো শনাক্ত করেছে
আরো পড়ুন
চট্টগ্রামের জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি আরো বলেন, এরশাদ শাসনামলে এটি হয়েছিল, তবে সব ইউএনওকে নিয়ে একত্রে নয়, বিভাগ অনুযায়ী। আমি মনে করি, সব ইউএনওকে নিয়ে আলোচনা করলে জনসভার মতো হতে পারে, সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকটা কয়েকটা জেলা বা বিভাগওয়ারি হলে আরো কার্যকর হবে। সরকারপ্রধান এবং ইউএনওদের যোগাযোগ কার্যকর হবে বেশি।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
আরও পড়ুন: এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ২৯ অক্টোবর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন