প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ১৯ শতকের ঐতিহাসিক টাউন হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ৩৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে ভবনটিতে আগুন লাগে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে টাউন হলের ছাদ ও ঘড়ির টাওয়ারের বড় অংশ ধসে পড়ে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উগ্র বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ তাকে আগে থেকেই চেনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ফ্রান্সের জাতীয় নিরাপত্তা নজরদারি তালিকাতেও ছিলেন। তবে অগ্নিকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
লিমোজ শহরের টাউন হলের আগুনের ঘটনা দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের সময় ঘটে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষের কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিবাদী গোষ্ঠী যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। তবে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এদিকে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁসহ কয়েকটি শহরের কিছু এলাকায় রাতের কারফিউও জারি বা বহাল রাখা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এর আগে স্বীকার করেছেন, সপ্তাহান্তের সহিংসতার সময় কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ওই সহিংসতায় দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, অস্থিরতা শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভের আয়োজকেরা আগামী শনিবার আবারও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া ফরাসি শ্রমিক সংগঠন সিজিটি আগামী ৫ নভেম্বর বড় ধরনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন