ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা শয্যা বৃদ্ধির জন্য


দেশের সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা শয্যা বৃদ্ধির জন্য

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সব হাসপাতালকে শয্যা বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই নির্দেশনায় রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্ত্বরে নির্মিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর জন্য বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল থেকে জাতীয় বার্ন ইউনিটে কিছু রোগী স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সভার পর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম জানান, সভায় হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে বার্ন ইউনিটে কিছু রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ঢাকা মেডিকেল স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়েও চিন্তা-ভাবনা চলছে।

নুরুল ইসলাম আরও বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীর জন্য শয্যা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে রাজধানীর বাইরের ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীর সংখ্যা ঢাকা শহরে বেশি হওয়ায়, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের বেড বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।

পরিচালক জানান, সংকটকালীন সময়ে সরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দেয় না। তবে, রোগীর সংখ্যা শয্যা সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে রোগীদের বিভিন্ন ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। সেই ভোগান্তি কমাতে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৮১ জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩২ জন এবং নারী ১৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

চলতি বছরে ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, বরিশাল বিভাগে ২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ লাখ টাকায় স্ত্রীকে বিক্রি করে দেন আশিকুর, পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


৪ লাখ টাকায় স্ত্রীকে বিক্রি করে দেন আশিকুর, পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং থেকে এক গৃহবধূকে উদ্ধার করার পাশাপাশি মানব পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তার স্বামীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা স্ত্রীকে ৪ লাখ টাকায় ভারতে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে জাফলংয়ের ‘প্রজাপতি রিসোর্ট’ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা ওই গৃহবধূকে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

গোয়াইনঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব রায়সহ পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন তথ্য পেয়ে সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানে পাচারের শিকার হতে যাওয়া নারীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার আওলাতলী গ্রামের ভুক্তভোগীর স্বামী আশিকুর রহমান, নিশ্চাম গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম, পালগাঁও গ্রামের কাওছার এবং গোবুদিয়া গ্রামের মো. সাগর মিয়া।

সোমবার দিবাগত রাতে উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী খুকি আক্তার মীম বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার চক্রের উচ্ছেদ এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার আসামিদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’ - ড. এম এ মুহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’ - ড. এম এ মুহিত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মন্তব্য করেছেন যে, নীতিনির্ধারকরা হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়া পৃথিবীর কোথাও দেখা যায় না। তিনি চিকিৎসক হিসেবে এ ধরনের কাজকে মেনে নিতে অক্ষম বলে জানান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যের শুরুতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০টা দেশে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমতে। আমি পৃথিবীর কোথাও এ বিষয়টা দেখিনি যে, একটি হাসপাতালে আমরা নীতি-নির্ধারকরা যখন যাই, সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বিদগ্ধ এবং প্রিয় গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা হুরহুর করে ঢুকে পড়ি।"

তিনি আরও বলেন, "গিয়ে সেখানে বিভিন্ন পরিস্থিতি দেখতে পাই। একদিকে পেশেন্টরা থাকেন, পেশেন্টের অ্যাটেনডেন্টসরা থাকেন, সঙ্গে আমরা ডাক্তার সাহেবদেরকে নিয়ে যাই। এইটা আমি আমার জনস্বাস্থ্য কর্মজীবনে পৃথিবীর কোনো দেশে, কোনো পলিসি মেকারকে এই কাজটা করতে আমি দেখিনি।"

ড. এম এ মুহিত বলেন, "বারবার বলছি, আমি চিকিৎসক—এই পরিচয় আমি চাইলেও আমার গা থেকে মুছে ফেলতে পারব না। তাই এ বিষয়টা আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না। আমি সাত মাস হলো দায়িত্বে আছি, অনেক সেমিনারে গিয়েছি, অনেক জনসভায় বক্তব্য দিয়েছি, ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "সুতরাং লক্ষাধিক মানুষের জনসভায়ও আমরা বক্তব্য রেখেছি। কিন্তু এই কাজটি কখনোই করা যাবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যারা যে অবস্থান থেকে এই কাজটি করছেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে, নীতি-নির্ধারক হিসেবে এই কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এই কাজগুলোর কনসিকোয়েন্স হচ্ছে, আজকে সকালে যে পরিস্থিতি আমরা দেখছি, এই কাজগুলোর কনসিকোয়েন্স হচ্ছে জনগণ, রোগী এবং চিকিৎসক—তাদেরকে সবাইকে আজকে মুখোমুখি করে দেয়া হয়েছে। সবকিছুরই একটা কজ-ইফেক্ট রিলেশনশিপ আছে।"

তিনি উল্লেখ করেন, "এই কাজগুলো আমরা যখন করি, তখন আমরা ভাবি না যে, বাংলাদেশের এই ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য যে চিকিৎসকদেরকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে হাত-পা বেঁধে দায়িত্বে নামিয়েছি, নাকি লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটতে দিচ্ছি? কি পরিস্থিতিতে তারা কাজ করছে?"

বিগত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাত দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "বিশেষ করে বিগত ১০ বছর বা ওদের শেষ ৫ বছর, আমি সারা বাংলাদেশে ঘুরে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছি দায়িত্ব নেয়ার পর, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "ঢাকার ইনস্টিটিউটগুলোর হাসপাতালগুলোতে দেখেছি, মেডিকেল কলেজে গিয়েছি সরকারি এবং বেসরকারি সব। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিগত বছরগুলোর দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায় থেকে একেবারে শীর্ষস্থানীয় ইনস্টিটিউট পর্যন্ত বেশিরভাগ জায়গা—অলমোস্ট এভরিহোয়ার ৫০% পদ শূন্য রয়ে গেছে।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমি চিকিৎসক দিচ্ছি প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক এবং একইভাবে প্রত্যেকটি হাসপাতালে, প্রত্যেকটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দ্বিগুণ, প্রায়শই তিনগুণ রোগী বসবাস করছে।"

তিনি বলেন, "তাহলে তিনগুণ রোগী দিচ্ছি, অর্ধেক ডাক্তার দিচ্ছি—অর্থাৎ মাথাপিছু একজন ডাক্তারকে ৬ গুণ, তার ক্ষমতার বাইরে ৬ গুণ রোগী প্রত্যেকদিন তাকে ডিল করতে হয়। সেই ধন্যবাদ আমরা দিতে পারিনি আপনাদেরকে।"

চিকিৎসকরা অত্যন্ত বাজে পরিস্থিতিতে কাজ করেন উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, "কিছু কিছু দেশে আমাদের মতো প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়। সেই দেশগুলোর সংখ্যা খুব কম। সেই দেশগুলো মূলত কোনো না কোনো যুদ্ধপীড়িত দেশ, যুদ্ধাক্রান্ত দেশ, দুর্ভিক্ষাক্রান্ত দেশ।"

তিনি বলেন, "কিন্তু স্বাভাবিক শান্ত পরিস্থিতির কোনো দেশে এইরকম চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্যে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্সদের কথা বলেন, সারাটা দিন-রাত তারা পরিশ্রম করছে।"

তিনি আরও জানান, "অধিকাংশ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি আছে, সেই যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য যে টেকনিশিয়ানদের দরকার, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দরকার, তাদেরকেও কিন্তু আমরা সঠিকভাবে রাখতে পারিনি।"

ড. এম এ মুহিত বলেন, "আমরা একটা সরকার হিসেবে মাত্র ৬-৭ মাস হলো দায়িত্বে এসেছি। আমরা এসে এই ১৫ বছরের জঞ্জাল এবং অব্যবস্থাপনা আমাদের গায়ে এসে পড়েছে, আমরা সেটাকে হ্যান্ডেল করছি।"

তিনি বলেন, "ডাক্তারদেরকে এই অবস্থায় ঠেলে দিয়ে এবং ডাক্তারদের সঙ্গে জনগণকে মুখোমুখি করে দিয়ে আসলে এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না।"

তিনি উল্লেখ করেন, "সেখানেই সেই কার্যকারণের কথা চলে আসে—এই কাজগুলো কি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে? কেউ কি চাচ্ছেন যে, আমাদের এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো দীর্ঘদিন ভেঙে থাকুক?"

তিনি বলেন, "কেউ কি চাচ্ছেন এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা বজায় থাকলে আজকে আমাদের যে তরুণ শিক্ষার্থীরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে, চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা চিকিৎসক হতে এসেছেন, তারা তো আর এই ব্যবস্থায় কাজ করবেন না!"

তিনি আরও বলেন, "তারা—আমরা জানি, তাদের অনেকেই ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার থেকেই USMLE বা PLAB-এর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তারা চলে যাবেন এই দেশটিকে ছেড়ে।"

তিনি বলেন, "এই দেশটিকে মেধা শূন্য করা হবে, এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, এদেশের রোগীরা পার্শ্ববর্তী, দূরবর্তী বিভিন্ন দেশে চলে যাবে—এইটাই হয়তো সেই সমস্ত গোষ্ঠীর লক্ষ্য যারা আজকে এই অস্থির পরিবেশটা তৈরি করছে।"

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভীষণ চাপের মধ্যে আছে বলেও মন্তব্য করেন ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছেন।"

তিনি বলেন, "এখন এই বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব কিন্তু আমাদের। আর সেই বাজেটটা বাস্তবায়ন যদি আমাকে করতে হয়, সামান্য যতটুকু লেখাপড়া করেছি—একটা পিএইচডি আছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়েছি, এইটুকু বুঝি যে শুধু টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য হয় না।"

তিনি বলেন, "শুধু ডান্ডা পিটিয়ে স্বাস্থ্য হয় না, শুধু ক্যামেরার সামনে বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিক করা যাবে না।"

তিনি বলেন, "এটাকে ঠিক করতে হলে আপনাদেরকে আস্থায় আনতে হবে, আপনাদের আমাদের ওপর আস্থা আসতে হবে, কেবল তখনই জনগণ আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।"

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু মোকাবেলাসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উত্তরণে সেবার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমরা রোগ প্রতিরোধের ওপরে জোর দেব। আমরা যদি মৃত্যুর হার কমাতে চাই, আক্রান্তের হার কমাতে চাই, প্রথম কাজটি হচ্ছে প্রিভেনশনের জন্য কাজ করতে হবে।"

তিনি বলেন, "সেই প্রিভেনশনের জন্য একদিকে যেমন আমাদের চেষ্টা করতে হবে, আমাদের এই মশার যেখানে প্রজনন হয়, সেই লার্ভাকে আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে হবে, এবং সেই কাজটি করতে গেলে আমাদের জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততা লাগবে।"

তিনি বলেন, "পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে, শুধুমাত্র সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এই সারা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করতে পারবে না।"

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ. কে এম শামসুল কবির বাবু এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল শাখা ড্যাবের সভাপতি ডা. এ কে এম মাসুদ আক্তার জিতু বক্তব্য রাখেন।

এতে কী-নোট বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা ও মুগদা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে তিন দিনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে তিন দিনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে তিন দিনের ‘অন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে খেলাধুলার পাশাপাশি প্রতিযোগিতাকে ঘিরে হলে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় হল প্রাঙ্গণে ‘তারাদের ক্রীড়ানন্দন’ শীর্ষক আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হলের প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন।

উদ্বোধনের আগে হলের জিমনেসিয়াম এবং শিক্ষার্থীদের আঁকা ‘জুলাইয়ের ক্যানভাস’ শীর্ষক দেয়ালপত্রিকার উদ্বোধন করা হয়। পরে হল প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ক্যারাম, দাবা, বাস্কেটবল নিক্ষেপ, টেবিল টেনিস, লুডু ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ইভেন্টে হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, "লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব, তবে নিজেদের গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই।" উপাচার্য বলেন, হলে থাকার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, "এই হল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের মনে করে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।"

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, "বীর প্রতীক তারামন বিবির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের জন্য গৌরবের।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, "তার নামে নামাঙ্কিত এই হলের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের দক্ষতা, পেশাগত জ্ঞান ও মানবিক গুণাবলি দিয়ে দেশকে গৌরবান্বিত করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদেরও সমান ও বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল।" নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নিজেদের আগে সৎ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, "শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং একাডেমিক ও কো-কারিকুলার কার্যক্রমের সার্বিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় পাশে রয়েছে।" তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতায় রূপ নিতে দেওয়া যাবে না।" তিনি আরও বলেন, "বরং নিজেদের বিবেক ও দায়বদ্ধতার জায়গায় অটল থাকতে হবে।" নেতিবাচকতা পেছনে ফেলে ইতিবাচক দিকগুলো লালন করার আহ্বান জানান তিনি। কোষাধ্যক্ষ বলেন, "নিজেদের স্বচ্ছতা ও সততার মাধ্যমে আমাদের ছাত্রীরা একদিন দেশ ও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজের একদিন পর হলুদ ক্ষেতে মিলল ব্যবসায়ী সুপ্রভাত মদকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


নিখোঁজের একদিন পর হলুদ ক্ষেতে মিলল ব্যবসায়ী সুপ্রভাত মদকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ

পাবনার বেড়ায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর হলুদ ক্ষেতে পুলিশ সুপ্রভাত মদক নামে এক ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আমিনপুর থানার আহম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি হলুদের ক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুপ্রভাত মদক সত্য চন্দ্র মদকের পুত্র। তিনি কাশীনাথপুরের দাদাভাই খবার হোটেলের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে সুপ্রভাত কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যান। এরপর রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে পরে আমিনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা। অভিযোগ পাওয়ার পর আমিনপুর থানার পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সুপ্রভাতের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু করে। রাত ১২টার দিকে তার মোবাইল ফোনটি চালু অবস্থায় পাওয়া যায়, কিন্তু একাধিকবার ফোন করার পরও তিনি কল ধরেননি। পরে তার নম্বর থেকে আবারও ফোন এলেও অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এরপর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পেছনের হলুদ ক্ষেতে সুপ্রভাতের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, সুপ্রভাতের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%