মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৬ পি.এম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে কাতার বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি ক্রেতা দেশে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে কাতারএনার্জি কর্তৃক ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইতালির শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি এডিসন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সূত্রে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
এডিসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের কারণে প্রথমবার এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কাতারএনার্জি ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নোটিশ জারি করে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় দফায় দফায় সেই নোটিশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইতালির প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগে তারা কাতার থেকে কোনো এলএনজি কার্গো পাচ্ছে না।
এদিকে, এশিয়ার বাণিজ্যিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলোকে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত কাতার থেকে এলএনজি না পাওয়ার বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ইরান সংঘাতের সার্বিক প্রভাবের কারণে কাতার বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টে কাতার ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত তারা মাত্র ১৮টি কার্গো পাঠাতে পেরেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, শীত মৌসুমের প্রাক্কালে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সীমিত মজুত নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে, ইতালির প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরও ৬টি চালান বাতিল করায় মোট সরবরাহ না পাওয়া চালানের সংখ্যা এখন ৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। সংকট মোকাবেলা করতে প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প হিসেবে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে।
কাতারএনার্জির সঙ্গে এডিসনের ২০০৯ সাল থেকে ২৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নাগরিকরা এখন ঘরে বসে দ্রুত ও সহজ উপায়ে পুলিশি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। অনলাইন জিডি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো সময় অভিযোগ দাখিল করা, আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ করা এবং জিডির সার্টিফাইড ডিজিটাল কপি সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে, এই ব্যবস্থা সময়, যাতায়াত খরচ ও হয়রানি কমিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন ইউনিটে পর্যায়ক্রমে চালুর পর ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পুলিশের ২৪টি থানায় অনলাইন জিডি সুবিধা সম্প্রসারিত করা হয়। বর্তমানে দেশের সবকটি থানায় এ সেবার পূর্ণাঙ্গ আওতা তৈরি হয়েছে।
অনলাইন জিডি ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে কথা বলেছেন রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা মাহিরা নূর। তিনি জানান, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদ হারিয়ে যাওয়ার পর ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জিডি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে তার কোনো ভোগান্তি বা বাড়তি যাতায়াত খরচের মুখে পড়তে হয়নি।
একই অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, "আমার মানিব্যাগ হারিয়ে গেলে ক্রেডিট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে জিডির দরকার পড়ে। অফিসে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে অনলাইন জিডি সম্পন্ন করতে পেরেছি এবং পরবর্তীতে অনলাইনে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও জিডির কপি সংগ্রহ করতে পেরেছি।"
অনলাইন জিডির সার্বিক বিষয়ে এডিশনাল আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, "অনলাইন জিডি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময় সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ পাঠাতে পারছেন। হারানো বা প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়সহ নানা ধরনের অভিযোগ এতে সহজে দাখিল করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সময় ও যাতায়াত উভয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।"
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, "ডিএমপির ৫০টি থানায় সরাসরি জিডি গ্রহণের পাশাপাশি অনলাইনেও সমানভাবে জিডি নেওয়া হচ্ছে। মানুষের কর্মব্যস্ততা ও যাতায়াত ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সরকার বাসা, অফিস বা সুবিধাজনক স্থান থেকে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে এ সেবা সুনিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"
যেভাবে মিলবে অনলাইন জিডি সেবা
অনলাইনে জিডি করতে সেবাগ্রহীতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং লাইভ ছবির প্রয়োজন হয়। গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘অনলাইন জিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে প্রথমবার নিবন্ধন করতে হবে। একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পরে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়েই লগইন করা যায়। পরিচয় নিশ্চিত করতে মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপি ব্যবহার করতে হবে।
অ্যাপে ঢুকে অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট জেলা ও থানা বাছাই করতে হবে। এরপর ঘটনার স্থান, সময় ও বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। প্রয়োজনে অভিযোগের স্বপক্ষে ছবি বা প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি যুক্ত করে সাবমিট করা যাবে।
আবেদন সাবমিটের পর নিজ অ্যাকাউন্ট থেকেই যেকোনো সময় জিডির সর্বশেষ অবস্থা ট্র্যাক করা যাবে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যাবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত সরফভাটা এলাকায় ‘কর্ণফুলী পানি শোধনাগারের তৃতীয় প্রকল্প’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই প্রকল্পটির নাম ‘কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩’ এবং এর মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির অর্থায়ন করবে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।
ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং নগরায়ণের কারণে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাপ মোকাবেলার জন্য বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুরোনো সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী পানি শোধনাগারে অতিরিক্ত ১০ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জাইকার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানিয়েছেন, ‘কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩’-এ অর্থায়নে জাইকা সম্মত হয়েছে। তাদের একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং তারা প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ দ্রুত শুরু করবে। এজন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন শোধনাগারটির একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, এই প্রকল্পের পানি চট্টগ্রাম নগরীতে সরবরাহের জন্য নতুন কোনো আলাদা পাইপলাইন স্থাপনের প্রয়োজন হবে না। ‘কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২’-এর বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবহার করেই পরিশোধিত পানি চট্টগ্রাম নগরীতে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প-৩ রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন সরফভাটা এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। একই এলাকায় বর্তমানে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২-এর কার্যক্রম চলছে। নতুন প্রকল্পের জন্য জাইকার একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সম্ভাব্য এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং প্রকল্পের প্রাক ফিজিবিলিটি স্টাডি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ শুরু হবে। এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কত টাকা ব্যয় হবে তা জানা যাবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, ২০১৬ সালে জাইকা রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার গোডাউন এলাকায় দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার পানি উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ এ অর্থায়ন করেছিল। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৮৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছিল।
২০২১ সালের ১৬ মার্চ থেকে রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে এই প্রকল্পের পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর পাইপ লাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদে রিজার্ভার এবং হালিশহরে এলিভেটেড ট্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এক বছর পর ২০২২ সালের ১৬ মার্চ এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার দুটি প্রকল্প রয়েছে, একটি কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-১ এবং দ্বিতীয়টি কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২।
কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-১ এর পানি উৎপাদন হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে। অন্যদিকে, কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ এর পানি উত্তোলন হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার গোডাউনস্থ সরফভাটা এলাকা থেকে। কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩ এর পানিও সরফভাটা কর্ণফুলী নদী থেকে উত্তোলন করা হবে।
প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম আরও জানান, ‘কর্ণফুলী পানিশোধনাগার প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গুনিয়ায় স্থাপিত ফেইস-১ ও ফেইস-২ শোধনাগার ২টি ওয়াসার মেগা প্রকল্প। শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এগুলোর অবস্থান। কর্ণফুলী নদী থেকে পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরীতে গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। এই ২টি প্রকল্প থেকে বর্তমানে দৈনিক ২৮ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। এর জন্য কর্ণফুলী নদী থেকে দৈনিক ৩০ কোটি লিটার পানি তোলা হচ্ছে। আগে সিস্টেম লস ছিল ৩৩ শতাংশ, বর্তমানে তা কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সিস্টেম লস কমাতে পারলে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে। তবে ওয়াসা মূলত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে সেবা ঠিকমতো দিতে পারছি কিনা। তবে আমরা যথাযথ সেবা দিয়ে ভালো পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পেরেছি যা থেকে খরচ মেটানোর পরও লোন পরিশোধ করে ওয়াসার ফান্ডে টাকা জমা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র এক্স-রে মেশিনের অভাবের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য সাধারণ ও হতদরিদ্র রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি সুবিধা না পাওয়ার কারণে তারা বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ খরচে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে তিন বছর ধরে আধুনিক এক্স-রে মেশিনটি পড়ে থাকলেও তা চালু করা হয়নি।
এই হাসপাতালটি ৩৫ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়ে দুর্গম লংগদু উপজেলার একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন দূর-দূরান্তের ইউনিয়ন থেকে শত শত হতদরিদ্র মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা না থাকায় অনেকেই অর্থসংকটে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে সরকারিভাবে হাসপাতালটিতে একটি এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে গত প্রায় ৩০ বছর ধরে হাসপাতালের ‘এমদাদ’ নামের এক্স-রে টেকনিশিয়ান (এক্স-রে ম্যান) কর্মরত থাকলেও মেশিনটি চালু না থাকায় তিনি কোনো সেবা দিতে পারছেন না। ফলে কারিগরি লোকবল থাকা সত্ত্বেও সরকারের দেওয়া সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসকসংকটও দেখা দিয়েছে। মঞ্জুরকৃত ২৮টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে কোনোমতে চিকিৎসাসেবা চলছে। এমনকি প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ—আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO)—দুটি পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেছেন, কষ্ট করে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েও হাসপাতালের চিকিৎসকদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। সাধারণ এক্স-রে করানোর জন্যও রোগীদের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের পক্ষে বাইরের খরচ বহন করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, "বিনামূল্যে এক্স-রে সেবা দিতে পারলে রোগীদের জন্য অনেক উপকার হতো।" তবে কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ অবিলম্বে এক্স-রে মেশিনটি চালু করার এবং শূন্য পদে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে অবহেলিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী ও কৃতী শিক্ষার্থীরা স্নাতক, মাস্টার্স, পিএইচডি এবং অন্যান্য উচ্চতর শিক্ষাক্রমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
চিকিৎসা, প্রকৌশল সহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, ইরান স্টাডিজ, মানবিক বিজ্ঞান এবং ইসলামিক স্টাডিজের আবেদনকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
স্নাতক বা অনার্স পর্যায়ে আবেদনের জন্য এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। মাস্টার্সে ভর্তির জন্য অনার্সে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ এবং পিএইচডি ও প্রফেশনাল ডক্টরেট পর্যায়ের জন্য মাস্টার্সে ন্যূনতম ৮০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন হবে।
বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইরানের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি উল্লেখ করে ঢাকায় অবস্থিত ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
যেসব নথি লাগবে
আবেদনকারীদের বয়সের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সীমা রয়েছে। অনার্স পর্যায়ে সর্বোচ্চ বয়স ২২ বছর, মাস্টার্সে ২৭ বছর এবং মেডিকেল অনার্সে ২২ বছর হতে হবে। স্পেশালাইজড ডক্টরেট, পোস্ট-ডক্টরেট এবং ফেলোশিপের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নম্বরপত্র বা ট্রান্সক্রিপ্ট এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি বৈধ পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব নথির বৈধ বা সরকারি ইংরেজি অনুবাদও জমা দিতে হবে। সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টে যথাযথ সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।
পাসপোর্টের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রথম পৃষ্ঠার পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণ করা হবে। মোবাইল ফোনে তোলা অস্পষ্ট বা অনানুষ্ঠানিক ছবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই ধরনের বৃত্তি
বৃত্তির ক্ষেত্রে দুই ধরনের সুবিধা রয়েছে। বৃত্তি ‘এ’ বা পূর্ণ বৃত্তির আওতায় বিনা মূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা বা স্বাস্থ্যবীমা, একক শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা এবং টিউশন ফি সহায়তা প্রদান করা হবে। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে আবেদনকারীদের পূর্ণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সাধারণত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বৃত্তি ‘বি’-এর আওতায় বিনা মূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা বা স্বাস্থ্যবীমা এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা রয়েছে।
আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স এবং অ্যাডমিশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পর্যালোচনাসহ পুরো প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ আবেদন ফাইল জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন ও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগে ০২৪১০২০৪২১-২৪ ফোন নম্বর ও [email protected] ঠিকানায় ই-মেইল পাঠিয়ে যোগাযোগ করা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ