প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাঙামাটির লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র এক্স-রে মেশিনের অভাবের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য সাধারণ ও হতদরিদ্র রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি সুবিধা না পাওয়ার কারণে তারা বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ খরচে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে তিন বছর ধরে আধুনিক এক্স-রে মেশিনটি পড়ে থাকলেও তা চালু করা হয়নি।
এই হাসপাতালটি ৩৫ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়ে দুর্গম লংগদু উপজেলার একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন দূর-দূরান্তের ইউনিয়ন থেকে শত শত হতদরিদ্র মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা না থাকায় অনেকেই অর্থসংকটে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে সরকারিভাবে হাসপাতালটিতে একটি এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে গত প্রায় ৩০ বছর ধরে হাসপাতালের ‘এমদাদ’ নামের এক্স-রে টেকনিশিয়ান (এক্স-রে ম্যান) কর্মরত থাকলেও মেশিনটি চালু না থাকায় তিনি কোনো সেবা দিতে পারছেন না। ফলে কারিগরি লোকবল থাকা সত্ত্বেও সরকারের দেওয়া সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসকসংকটও দেখা দিয়েছে। মঞ্জুরকৃত ২৮টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে কোনোমতে চিকিৎসাসেবা চলছে। এমনকি প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ—আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO)—দুটি পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেছেন, কষ্ট করে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েও হাসপাতালের চিকিৎসকদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। সাধারণ এক্স-রে করানোর জন্যও রোগীদের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের পক্ষে বাইরের খরচ বহন করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, "বিনামূল্যে এক্স-রে সেবা দিতে পারলে রোগীদের জন্য অনেক উপকার হতো।" তবে কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ অবিলম্বে এক্স-রে মেশিনটি চালু করার এবং শূন্য পদে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে অবহেলিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন