মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৮ পি.এম
রাঙামাটির লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র এক্স-রে মেশিনের অভাবের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য সাধারণ ও হতদরিদ্র রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি সুবিধা না পাওয়ার কারণে তারা বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ খরচে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে তিন বছর ধরে আধুনিক এক্স-রে মেশিনটি পড়ে থাকলেও তা চালু করা হয়নি।
এই হাসপাতালটি ৩৫ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়ে দুর্গম লংগদু উপজেলার একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন দূর-দূরান্তের ইউনিয়ন থেকে শত শত হতদরিদ্র মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা না থাকায় অনেকেই অর্থসংকটে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে সরকারিভাবে হাসপাতালটিতে একটি এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে গত প্রায় ৩০ বছর ধরে হাসপাতালের ‘এমদাদ’ নামের এক্স-রে টেকনিশিয়ান (এক্স-রে ম্যান) কর্মরত থাকলেও মেশিনটি চালু না থাকায় তিনি কোনো সেবা দিতে পারছেন না। ফলে কারিগরি লোকবল থাকা সত্ত্বেও সরকারের দেওয়া সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসকসংকটও দেখা দিয়েছে। মঞ্জুরকৃত ২৮টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে কোনোমতে চিকিৎসাসেবা চলছে। এমনকি প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ—আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO)—দুটি পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেছেন, কষ্ট করে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েও হাসপাতালের চিকিৎসকদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। সাধারণ এক্স-রে করানোর জন্যও রোগীদের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের পক্ষে বাইরের খরচ বহন করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, "বিনামূল্যে এক্স-রে সেবা দিতে পারলে রোগীদের জন্য অনেক উপকার হতো।" তবে কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ অবিলম্বে এক্স-রে মেশিনটি চালু করার এবং শূন্য পদে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে অবহেলিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী ও কৃতী শিক্ষার্থীরা স্নাতক, মাস্টার্স, পিএইচডি এবং অন্যান্য উচ্চতর শিক্ষাক্রমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
চিকিৎসা, প্রকৌশল সহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, ইরান স্টাডিজ, মানবিক বিজ্ঞান এবং ইসলামিক স্টাডিজের আবেদনকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
স্নাতক বা অনার্স পর্যায়ে আবেদনের জন্য এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। মাস্টার্সে ভর্তির জন্য অনার্সে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ এবং পিএইচডি ও প্রফেশনাল ডক্টরেট পর্যায়ের জন্য মাস্টার্সে ন্যূনতম ৮০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন হবে।
বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইরানের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি উল্লেখ করে ঢাকায় অবস্থিত ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
যেসব নথি লাগবে
আবেদনকারীদের বয়সের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সীমা রয়েছে। অনার্স পর্যায়ে সর্বোচ্চ বয়স ২২ বছর, মাস্টার্সে ২৭ বছর এবং মেডিকেল অনার্সে ২২ বছর হতে হবে। স্পেশালাইজড ডক্টরেট, পোস্ট-ডক্টরেট এবং ফেলোশিপের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নম্বরপত্র বা ট্রান্সক্রিপ্ট এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি বৈধ পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব নথির বৈধ বা সরকারি ইংরেজি অনুবাদও জমা দিতে হবে। সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টে যথাযথ সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।
পাসপোর্টের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রথম পৃষ্ঠার পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণ করা হবে। মোবাইল ফোনে তোলা অস্পষ্ট বা অনানুষ্ঠানিক ছবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই ধরনের বৃত্তি
বৃত্তির ক্ষেত্রে দুই ধরনের সুবিধা রয়েছে। বৃত্তি ‘এ’ বা পূর্ণ বৃত্তির আওতায় বিনা মূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা বা স্বাস্থ্যবীমা, একক শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা এবং টিউশন ফি সহায়তা প্রদান করা হবে। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে আবেদনকারীদের পূর্ণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সাধারণত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বৃত্তি ‘বি’-এর আওতায় বিনা মূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা বা স্বাস্থ্যবীমা এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা রয়েছে।
আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স এবং অ্যাডমিশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পর্যালোচনাসহ পুরো প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ আবেদন ফাইল জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন ও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগে ০২৪১০২০৪২১-২৪ ফোন নম্বর ও [email protected] ঠিকানায় ই-মেইল পাঠিয়ে যোগাযোগ করা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গেগরি জে. সিমনস মন্তব্য করেছেন যে, ইসরায়েলকে সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তার দীর্ঘকালীন আধিপত্য ক্ষয় করছে।
তিনি ‘পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ, বিশ্ব গণতন্ত্র, নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন, যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয়।
গেগরি জে. সিমনস বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতকে শুধুমাত্র ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝা সম্ভব নয়। এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব, ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনও জড়িত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও, দুই দেশের স্বার্থ সব ক্ষেত্রে সমান নয়। যুক্তরাষ্ট্র মূলত তার দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বা ‘Pax Americana’ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত সেই প্রভাবকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরান প্রসঙ্গে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের যে বয়ান দেওয়া হচ্ছে, সেটি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গেগরি জে. সিমনস পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগও তোলেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও নৈতিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পশ্চিমা প্রতিক্রিয়ার তুলনা করেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগে রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন মানদণ্ড দেখা যাচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা বলা হলেও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ক্ষেত্রে এসব নীতির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েল যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, সেটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এ সময় তিনি ‘Greater Israel’ ধারণার কথাও উল্লেখ করেন।
সেমিনারে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নৈতিক জবাবদিহি, গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা আগামীকাল ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৬ অক্টোবর। এছাড়া, ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করা হবে।
আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে সম্প্রতি নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণ নিয়ে বিতর্ক চলছে, যা সড়ক প্রশস্তকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের আওতায় হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা , তুরস্কের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইহলাস নিউজ এজেন্সি (আইএইচএলএএস) -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মসজিদের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রতিবাদে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মুসলিম বাসিন্দারা সেখানে অবস্থান নেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসন ওই অংশ অপসারণের কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন, যার ফলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংঘর্ষের ঘটনায় সাতটি মামলা করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিপুলসংখ্যক পুলিশ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। উজ্জয়িনী প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো শাহী মসজিদ ভাঙা হচ্ছে না। সড়ক প্রশস্তকরণের নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়া মসজিদের একটি ছোট অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক রোশন সিং জানিয়েছেন, ওই অংশটি মসজিদ কমিটির সম্মতিতে সরানো হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, মসজিদের যে অংশটি প্রকল্পের আওতায় পড়েছে, তা মোট মসজিদ চত্বরের ১০ শতাংশেরও কম। মসজিদ কমিটি প্রথমে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ওই অংশ সরাতে সম্মত হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার দাবি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কেন মসজিদের অংশ সরানো হচ্ছে
উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের অংশ অপসারণের কাজটি একটি বড় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে শহরের সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ১৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সিংহস্থ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ উজ্জয়িনীতে আসবেন। তাদের চলাচল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও মসজিদের অংশ অপসারণের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করার সময় জননিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।
৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদ নিয়ে আপত্তি
মুসলিম প্রতিনিধিদের দাবি, শাহী মসজিদটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো এবং এটি ওয়াকফ সম্পত্তি। মসজিদের যে অংশটি সরানোর কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে নামাজের কক্ষের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উঁচু মিনার ও মাজহার চৌক এলাকার অংশ রয়েছে। মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা বলছেন, মসজিদ অক্ষত রেখে রাস্তার বিপরীত পাশ থেকে জমি নিয়ে সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার অংশ কেন সরাতে হবে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাকির বলেন, তারা মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাতভর মসজিদ এলাকায় অবস্থান করেন। ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, এর আগে সড়ক প্রশস্ত করার কাজে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আশপাশের দোকান ও অন্যান্য সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালতেও গড়িয়েছে বিরোধ
শাহী মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয় মসজিদ কমিটি। ৯ সেপ্টেম্বর আদালত ওই আবেদনগুলো খারিজ করে দেয়। আদালত বলেছে, উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, একই সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়িনীতে প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা-সংক্রান্ত নির্মাণের বিরুদ্ধেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেছে। আদালত আরও বলেছে, শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার কারণে কোনো স্থাপনা আইনসম্মত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবে—এমন নয়।
মুসলিম বাসিন্দাদের আপত্তি
স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা ও মসজিদ প্রতিনিধিরা অবশ্য মসজিদের অংশ অপসারণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, মসজিদ অক্ষত রেখে সড়কের বিপরীত পাশ থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার বিকল্প রয়েছে। মসজিদ রক্ষার দাবিতে স্থানীয় মুসলিমদের একটি অংশ রাতভর সেখানে অবস্থানও করেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর মসজিদ কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরানোর বিষয়ে সম্মত হলেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ অব্যাহত থাকে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উজ্জয়িনীর ঘটনা ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ও মুসলিমদের সম্পত্তি অপসারণ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিক্ষোভের পর ১২৮টি সম্পত্তি ভাঙার তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে মুসলিমদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থান ছিল। সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনায় অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অ্যামনেস্টি এসব ভাঙাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও শাস্তিমূলক উচ্ছেদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এটি সংস্থাটির নিজস্ব গবেষণা ও মূল্যায়ন—ভারতীয় কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত সরকারি পরিসংখ্যান নয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৫ সালের ভারতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কয়েকটি রাজ্যে মুসলিমদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাড়িঘর ভাঙার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দেয়।
সড়ক প্রশস্তকরণেও মসজিদ-মাজার অপসারণ
সড়ক প্রশস্তকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের সাম্প্রতিক আরও কিছু ঘটনা সংবাদে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সাধারণত সরকারি জমি, রাস্তার নির্ধারিত সীমানা বা কথিত অবৈধ নির্মাণ অপসারণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২০২৬ সালের জুনে গুজরাটের আহমেদাবাদে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় তিনটি মাজার ও একটি কবরস্থানের অংশ অপসারণের খবর প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস । প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে ছিল এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে ফরিদাবাদে সড়ক ও দ্রুতগতির রেলপথ প্রকল্পের জন্য একটি মসজিদ ও একটি মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের খবরও প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস । সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আগাম নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্থাপনাগুলোকে কথিত অবৈধ নির্মাণ হিসেবে উল্লেখ করে।
বারাণসীতেও সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদ অপসারণের ঘটনা সামনে এসেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে জানায়, একটি মসজিদের অংশ স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পে এর আগে আরও পাঁচটি মসজিদ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উজ্জয়িনীতে এখনো উত্তেজনা
শাহী মসজিদের অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর উজ্জয়িনীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার কথা বলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কিছু ভিডিও ছড়ানোর পর উত্তেজনা বেড়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে সড়ক প্রশস্তকরণের আওতায় পড়া মসজিদের একটি অংশই অপসারণ করা হচ্ছে।
তবে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের কাছে মূল বিষয় হলো ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটির অংশ সংরক্ষণ। অন্যদিকে প্রশাসন ২০২৮ সালের সিংহস্থকে সামনে রেখে উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে। আদালতও বর্তমানে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আইনগত প্রক্রিয়াকে অনুমোদন করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ