ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোদি সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি


মোদি সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি

ভারতের রাজধানী দিল্লি ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহর, যেমন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, কলকাতা, এসব স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাই নরেন্দ্র মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার নিজেদের সুর অনেকটাই নরম করেছে। তারা এখন আন্দোলনকারীদের ‘সুবিধাজনক যেকোনও সময়ে’ আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বুধবার থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য চারটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনরত গোষ্ঠীগুলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ‘যন্তর মন্তর’ কিংবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছে।

জিতেন্দ্র সিং আরো বলেন, “বুধবার দুপুর থেকে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার আপনাদের সুবিধামতো যেকোনও সময় সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মন্ত্রী আরও জানান, আলোচনার সময় তার সহকর্মী মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরও যোগ করেন, “আলোচনা জেপি নাড্ডার কার্যালয় বা বাসভবনে হতে পারে। আমরা অহমিকা বা মর্যাদার লড়াইয়ে বিশ্বাসী নই। আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং আমি উভয়েই উপস্থিত থাকব। ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাব। এটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই একটি অংশ। আমি আপনাদের সকলকে বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন এবং আলোচনায় বসুন।”

এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ককারোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি বা অফিসের পরিবর্তে, তারা যন্তর মন্তরে কিংবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকে বসবে। সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিট প্রশ্নফাঁস ও পুলিশের লাঠিচার্জ: আড়াই মাস পর ভারত সরকারের টনক নড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


নিট প্রশ্নফাঁস ও পুলিশের লাঠিচার্জ: আড়াই মাস পর ভারত সরকারের টনক নড়ল

গত ৩ মে ভারতে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে গত আড়াই মাস ধরে চলা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত চরম রূপ নিয়েছে। গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের মাধ্যমে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ রাজনৈতিক মহলে টনক নড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস মহাপাপ, এরজন্য দায়ীদের সাজা পেতে হবে।’

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা জবাবদিহিতা পাবেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা শিক্ষার্থীদের সাথে বসে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী বাসার সামনে ধর্নায় বসেছেন।

মূলত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ মে ব্যবহৃত পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ওপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিল। এর পর ২১ জুন কঠোর নিরাপত্তায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে, ৭ জুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করে নবগঠিত করোচ জনতা পার্টি। এরপর ২৮ জুন লাদাখের অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন শুরু করলে এই আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে সিজেপি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কর্মসূচি আটকাতে পুলিশ দুদিন আগে ভোরে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুক ১৯ জুলাই রাতেও জানিয়েছিলেন, সরকার হাসপাতালে তার সাথে দেখা করলে সংসদে আলোচনা আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙতে রাজি থাকবেন। কিন্তু সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০ জুলাই সোমবার ভোরে যখন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী যন্তর-মন্তরে সমবেত হয়েছেন, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা দুই ছাত্রনেতাকে ডেকে আলোচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়ার কারণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের উদ্দেশে বের হয়ে পড়ে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশি হামলার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অভিনেত্রী শাবানা আজমী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ সুশীল সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি ৭ জুনের পর সঠিক পদক্ষেপ নিত, তবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের রাজপথে মার খেতে হতো না। একেই বলে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে পারভীনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূ পারভীনা খাতুন, একই গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দীন জানিয়েছেন, দুপুরে তিনি গৃহস্থালির কাজ করার জন্য নিজ বাড়িতে ছিলেন। এ সময় পারভীনা খাতুন ঘরের একটি টিন সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত টিনটি বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যায়। এর ফলে টিনটি বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। এ বিষয় নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণদের সমাজসেবায় সম্পৃক্ততার আহ্বান, গাজীপুরে শুভসংঘের আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


তরুণদের সমাজসেবায় সম্পৃক্ততার আহ্বান, গাজীপুরে শুভসংঘের আলোচনা সভা

সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে গাজীপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘সমাজসেবায় তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজদিঘীর পাড়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় তরুণ-তরুণী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা শাখার সভাপতি মো. ইমরান হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'তরুণরাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সম্ভাবনা। একটি মানবিক, সচেতন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর, দায়িত্বশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।'

সংগঠনের জেলা শাখার ইভেন্ট সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই একজন তরুণ প্রকৃত নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে। শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই একজন প্রকৃত স্বেচ্ছাসেবকের জন্ম হয়’।

ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো মানবিক সংকটে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগ মোকাবিলা, ত্রাণ বিতরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন স্বেচ্ছাসেবকের সবচেয়ে বড় পরিচয়’。

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা সমাজসেবার বিভিন্ন দিক, তরুণদের দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্ব এবং সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বক্তারা বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতি তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হলে নিয়মিত এমন সচেতনতামূলক আলোচনা ও কার্যক্রম আয়োজনের বিকল্প নেই’।

এ সময় সংগঠনের জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক তানজিনা আক্তার জেরিন, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল বিপ্লব, ইভেন্ট সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রাকিব, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হোসেন, কার্যকরী সদস্য আনিকা তাবাসসুম, সিয়াম, আসলাম শিকদার রিফাত, মিথিলা, ইমা, সুমাইয়া, বিথী, রিমাসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভর্নমেন্ট কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘অনুভবে বর্ষা’ অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪১ পি.এম


গভর্নমেন্ট কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘অনুভবে বর্ষা’ অনুষ্ঠান

বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশজুড়ে রয়েছে ধূসর মেঘের আনাগোনা। প্রকৃতির বুকজুড়ে বর্ষার অপার সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের একটি হৃদয় জুড়ানো সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে উঠেছে এমন এক স্নিগ্ধ বিকালে, যেখানে গান, কবিতা, আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ এবং সমবেত সংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে।

বর্ষার সৌন্দর্য, বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং আন্তরিক মিলনমেলার আবহের মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখা আয়োজন করে ঘরোয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘অনুভবে বর্ষা’। বুধবার (২২ জুলাই) বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে, এবং গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত, আবেগঘন এবং স্মরণীয় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

বসুন্ধরা গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শাখার সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলা সাহিত্য, সংগীত এবং সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে বর্ষার রূপ, অনুভূতি এবং মানবিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়। আয়োজনের প্রতিটি পর্বে ছিল শিল্পচর্চার প্রতি ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং একে অপরের সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করার আন্তরিক প্রয়াস।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখার সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘বর্ষার দিনে’ অবলম্বন করে আবৃত্তি করেন। তাঁর কণ্ঠে কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তি যেন বর্ষার মেঘ, বৃষ্টি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে জীবন্ত করে তোলে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে সেই আবৃত্তিকে উপভোগ করেন।

এরপর সংগীত পরিবেশন করেন শঞ্চিতা সেতু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি বর্ষার আবেগ, প্রকৃতির আহ্বান এবং হৃদয়ের অনুভূতিকে সুরে তুলে ধরেন। তার পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সুরের আবেশ।

আবৃত্তি পর্বে রুদাবা আনসারী জনপ্রিয় ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ পরিবেশন করেন। শৈশবের স্মৃতি, বর্ষার আনন্দ এবং সহজ-সরল অনুভূতিতে ভরা এই পরিবেশনাটি উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফোটায় এবং অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সংগীতের ধারাবাহিকতায় লামিয়া সানজিদা পরিবেশন করেন ‘যাও বলো তারে, মেঘের ওপারে’। এরপর আফিয়া সাড়া খান কণ্ঠে তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী বর্ষার গান ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে’। দুই শিল্পীর হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনায় বর্ষার আবেগ, ভালোবাসা এবং প্রকৃতির রূপ যেন একাকার হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বর্ষার স্মৃতিচরণ’ পর্ব। এ সময় সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানা বর্ষাকে ঘিরে নিজের জীবনের নানা স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তার স্মৃতিচারণে উঠে আসে শৈশবের বর্ষা, বৃষ্টিভেজা দিন, পরিবারকে ঘিরে নানা মুহূর্ত এবং জীবনের আবেগঘন স্মৃতি। উপস্থিত সদস্যরাও নিজেদের অনুভূতি ভাগাভাগি করলে পুরো আয়োজনকে আরও আন্তরিক, প্রাণবন্ত এবং পারিবারিক আবহে রূপায়িত করে।

এরপর লাবণ্য মল্লিক আবৃত্তি করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শক্তিময় কবিতা ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’। নারী জাগরণ, আত্মমর্যাদা, সাহস এবং শক্তির প্রতীক হিসেবে এ কবিতার আবৃত্তি অনুষ্ঠানকে নতুন মাত্রা যোগ করে। তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠে কবিতার প্রতিটি শব্দ উপস্থিত দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে এবং পুরো পরিবেশ দীর্ঘ করতালির আওয়াজে মুখরিত হয়ে যেতে থাকে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে পরিবেশন করেন ‘পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে’ এবং ‘এই মেঘলা দিনে একলা’। সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া এই গান দুটি শুধুমাত্র সংগীত নয়, বরং পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে। সমবেত কণ্ঠের সে সুরে যেন বর্ষার সৌন্দর্য আরও গভীরভাবে ধরা পড়ে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লামিয়া সানজিদা, নাঈমা ইসলাম, তানিয়া তানজি, লামিয়া রওশন, জাকিয়া সুলতানা, নুরে জান্নাত, রাজমিন সুলতানা, সালমা হোসেন ইমু, আফনান নাবিলা, শাহানাজ পারভীন, সায়েবা সিদ্দিকী, মাহাবুবা মিতা, ফাহমিদা আঞ্জুম উনাইসা, আফিয়া সাড়া খান, বিপাশা বিথী, রুকাইয়া নাজাত, আফরিন নাহার নিঝু, শিমা রাণী সাহা, রুদাবা আনসারী, শঞ্চিতা সেতুসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের ফলে পুরো অনুষ্ঠান আরও বর্ণিল এবং প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠে।

সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধুমাত্র সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বিকাশে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। ‘অনুভবে বর্ষা’ তারই একটি অনন্য উদাহরণ। ভবিষ্যতেও বাংলা সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সংগীতকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে, আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%