বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৪১ পি.এম
বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশজুড়ে রয়েছে ধূসর মেঘের আনাগোনা। প্রকৃতির বুকজুড়ে বর্ষার অপার সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের একটি হৃদয় জুড়ানো সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে উঠেছে এমন এক স্নিগ্ধ বিকালে, যেখানে গান, কবিতা, আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ এবং সমবেত সংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বর্ষার সৌন্দর্য, বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং আন্তরিক মিলনমেলার আবহের মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখা আয়োজন করে ঘরোয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘অনুভবে বর্ষা’। বুধবার (২২ জুলাই) বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে, এবং গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত, আবেগঘন এবং স্মরণীয় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
বসুন্ধরা গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শাখার সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলা সাহিত্য, সংগীত এবং সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে বর্ষার রূপ, অনুভূতি এবং মানবিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়। আয়োজনের প্রতিটি পর্বে ছিল শিল্পচর্চার প্রতি ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং একে অপরের সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করার আন্তরিক প্রয়াস।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখার সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘বর্ষার দিনে’ অবলম্বন করে আবৃত্তি করেন। তাঁর কণ্ঠে কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তি যেন বর্ষার মেঘ, বৃষ্টি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে জীবন্ত করে তোলে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে সেই আবৃত্তিকে উপভোগ করেন।
এরপর সংগীত পরিবেশন করেন শঞ্চিতা সেতু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি বর্ষার আবেগ, প্রকৃতির আহ্বান এবং হৃদয়ের অনুভূতিকে সুরে তুলে ধরেন। তার পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সুরের আবেশ।
আবৃত্তি পর্বে রুদাবা আনসারী জনপ্রিয় ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ পরিবেশন করেন। শৈশবের স্মৃতি, বর্ষার আনন্দ এবং সহজ-সরল অনুভূতিতে ভরা এই পরিবেশনাটি উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফোটায় এবং অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সংগীতের ধারাবাহিকতায় লামিয়া সানজিদা পরিবেশন করেন ‘যাও বলো তারে, মেঘের ওপারে’। এরপর আফিয়া সাড়া খান কণ্ঠে তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী বর্ষার গান ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে’। দুই শিল্পীর হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনায় বর্ষার আবেগ, ভালোবাসা এবং প্রকৃতির রূপ যেন একাকার হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বর্ষার স্মৃতিচরণ’ পর্ব। এ সময় সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানা বর্ষাকে ঘিরে নিজের জীবনের নানা স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তার স্মৃতিচারণে উঠে আসে শৈশবের বর্ষা, বৃষ্টিভেজা দিন, পরিবারকে ঘিরে নানা মুহূর্ত এবং জীবনের আবেগঘন স্মৃতি। উপস্থিত সদস্যরাও নিজেদের অনুভূতি ভাগাভাগি করলে পুরো আয়োজনকে আরও আন্তরিক, প্রাণবন্ত এবং পারিবারিক আবহে রূপায়িত করে।
এরপর লাবণ্য মল্লিক আবৃত্তি করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শক্তিময় কবিতা ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’। নারী জাগরণ, আত্মমর্যাদা, সাহস এবং শক্তির প্রতীক হিসেবে এ কবিতার আবৃত্তি অনুষ্ঠানকে নতুন মাত্রা যোগ করে। তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠে কবিতার প্রতিটি শব্দ উপস্থিত দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে এবং পুরো পরিবেশ দীর্ঘ করতালির আওয়াজে মুখরিত হয়ে যেতে থাকে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে পরিবেশন করেন ‘পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে’ এবং ‘এই মেঘলা দিনে একলা’। সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া এই গান দুটি শুধুমাত্র সংগীত নয়, বরং পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে। সমবেত কণ্ঠের সে সুরে যেন বর্ষার সৌন্দর্য আরও গভীরভাবে ধরা পড়ে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লামিয়া সানজিদা, নাঈমা ইসলাম, তানিয়া তানজি, লামিয়া রওশন, জাকিয়া সুলতানা, নুরে জান্নাত, রাজমিন সুলতানা, সালমা হোসেন ইমু, আফনান নাবিলা, শাহানাজ পারভীন, সায়েবা সিদ্দিকী, মাহাবুবা মিতা, ফাহমিদা আঞ্জুম উনাইসা, আফিয়া সাড়া খান, বিপাশা বিথী, রুকাইয়া নাজাত, আফরিন নাহার নিঝু, শিমা রাণী সাহা, রুদাবা আনসারী, শঞ্চিতা সেতুসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের ফলে পুরো অনুষ্ঠান আরও বর্ণিল এবং প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠে।
সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধুমাত্র সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বিকাশে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। ‘অনুভবে বর্ষা’ তারই একটি অনন্য উদাহরণ। ভবিষ্যতেও বাংলা সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সংগীতকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে, আশা প্রকাশ করেছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বর্তমানে কেবল ক্রীড়ার শহর নয়, বরং এটি একটি বিশাল উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস এর চারপাশে মূল ভেন্যুর পাশাপাশি পুরো শহরের ধারে ধারে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, শিল্পকলা এবং বিনোদনের নানা আয়োজন।
গেমস উপলক্ষে ১১ দিনকাল ধরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল’। এই ফেস্টিভ্যালে স্কটিশ ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার, শিল্পকলা এবং উন্মুক্ত স্থানগুলোতে সংগীত আয়োজনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলো, রাজপথ এবং নদীর তীরবর্তী এলাকা বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। গেমসের আবহে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
গ্লাসগো একটি সীমিত বাজেটে এই আসর আয়োজন করছে। এবারের কমনওয়েলথ গেমস প্রায় ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই কম খরচে গেমস আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গেমসের বাইরের আকর্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত। গ্লাসগোর বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে বিনামূল্যে এবং টিকিটের মাধ্যমে লাইভ কনসার্ট, থিয়েটার ও স্ট্রিট পারফরম্যান্সের আয়োজন করা হয়েছে।
ফেস্টিভ্যাল জোন: শহরের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে তৈরি করা হয়েছে ফেস্টিভ্যাল জোন। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় খাবার ও পানীয়ের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্কটিশ সংস্কৃতি ও প্রদর্শনী: গ্লাসগো স্কুল অব আর্টসহ বিভিন্ন গ্যালারিতে স্কটিশ সংস্কৃতি এবং কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাস প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
কমনওয়েলথ মাইল: সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে এক মাইল দীর্ঘ বিশেষ ট্রেইল। ক্লাইড প্লেস কোয়ে থেকে শুরু হওয়া এই রুটে রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থাপনা এবং নির্দেশনা।
শহরের শিল্পকর্ম: গ্লাসগোর বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা দেয়ালচিত্র এবং পাবলিক আর্ট রয়েছে। কিংসটন ব্রিজের নিচে স্থাপনকৃত ‘ইয়ার্ডওয়ার্কস’ ইনস্টলেশন ও কুইন্স ডকের লাইটিং বিশেষ নজর কাড়ছে।
মাসকট ‘ক্লাইড’-এর প্রত্যাবর্তন: ২০১৪ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের জনপ্রিয় মাসকট ‘ক্লাইড’ আবারও শহরের রাস্তায় ফিরে এসেছে। এটি দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন: শহরের বিভিন্ন স্থান ও জাদুঘরে শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে ‘মিনি কমনওয়েলথ গেমস’। এটি পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদনের একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি করেছে।
‘অল ইন’ কর্মসূচি: গেমস উপলক্ষে স্কটল্যান্ডজুড়ে ‘অল ইন’ নামে একটি গণসম্পৃক্ততা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় স্কুল, ক্রীড়া ক্লাব ও কমিউনিটিগুলো বিভিন্ন উৎসব ও পারিবারিক আয়োজন করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস শুরু হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিটি এসইসি ভেন্যুতে বোলস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এবারের কার্যক্রম শুরু হয়।
সাধারণত, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়া ইভেন্ট শুরু হয়ে থাকে, তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় গত সপ্তাহে বোলসের একটি অতিরিক্ত সেশন যোগ করা হয়েছে। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই মাঠে গড়াতে পারে প্রতিযোগিতা।
বৃহস্পতিবার এই দিনটিকে আয়োজকরা নাম দিয়েছেন ‘ডে জিরো’। পুরুষ একক ও নারী জোড়া বিভাগ দিয়ে শুরু হয়েছে বোলসের লড়াই। চারটি রিঙ্কে একসঙ্গে খেলাগুলি চলেছে।
গ্যালারিতে দর্শকের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের গ্যারি কেলি প্রথম দিনেই জয় অর্জন করেছেন। তিনি নিয়ের ফ্রেডেরিক তাফাতুকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন।
জয়ের পর গ্যারি কেলি বলেন, ‘আমাদের খেলাটিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার এটি দারুণ সুযোগ। এই গেমসে অংশ নেওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও ম্যানেজারের জন্যই এটি সম্মানের।’
অস্ট্রেলিয়ার নারী জোড়া দল ডন হেইম্যান ও কেলসি কটরেলও জয় দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করেছে। তারা জাম্বিয়ার ফস্টার বান্ডা ও গারট্রুড সিয়ামেকে পরাজিত করে।
প্রথমবার কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়া ডন হেইম্যান বলেন, ‘আমি এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করছি। অন্য কোনো খেলা শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নামতে পারাটা দারুণ অনুভূতির।’
ওয়ার্ল্ড বোলসের সভাপতি ব্রেট ও’রাইলি বলেন, কমনওয়েলথ গেমসের প্রথম খেলা হিসেবে বোলসের শুরু হওয়া খেলাটির জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। এবারের আসরে বোলসে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা রেকর্ডে পৌঁছেছে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্লাসগোর ওভিও হাইড্রোতে অনুষ্ঠিত হবে কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে কেটি টানস্টল, নাথান ইভান্স, ক্যালাম বিটি ও নিনা নেসবিটসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী পারফর্ম করবেন।
এবারের কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিচ্ছে ৭৪টি দেশ। প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলিট ১০টি খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং মোট ২১৫টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই হবে।
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরের আলাউদ্দিন আহমেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে এসব মালামাল ভ্যানে করে নেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়ের গুদামঘরে সংরক্ষিত প্রায় ১০ মণ পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বলে জানা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া–রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের পূর্ব পাশে একটি টিনশেড গুদামঘর রয়েছে। সেখানে কিছু ভাঙা বেঞ্চ ও পুরোনো রড পড়ে থাকলেও দরজার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি রড এবং একটি লোহার দরজা নেই।
বিদ্যালয়ের একটি সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, মঙ্গলবার রাতে প্রধান শিক্ষক, নৈশ্যপ্রহরী ও একটি ভ্যান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিছু সময় পর প্রায় আধাঘণ্টার জন্য সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার ফুটেজে একটি ভ্যানে মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়, তবে চালকের পরিচয় স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব দাবি করেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তিনি বিদ্যালয়ের গুদামঘরের সামনে প্রধান শিক্ষক, নৈশ্যপ্রহরী এবং এক ভ্যানচালককে রড ভ্যানে তুলতে দেখেছেন। তাঁর ভাষ্য, এর আগেও রাতের বেলায় বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন পুরোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাহাত ঘটনাটি সম্পর্কে বলেন, ওই রাতে বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে গেলে প্রধান শিক্ষক তাঁদের কিছু সময়ের জন্য সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি ভ্যানে করে রড নিয়ে যেতে দেখেন বলেও দাবি করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর অনুরোধ করা হলে বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া ফুটেজ দেখানো সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার সময় কিছুক্ষণ সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আগের ও পরের ফুটেজে কিছু দৃশ্য দেখা গেলেও সবকিছু স্পষ্ট নয়।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের খোঁজখবর নিতে রাতে যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নৈশ্যপ্রহরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত নৈশ্যপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, তার স্বামী বাড়িতে নেই। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এবং খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শামসুন্নাহার হাই স্কুল সংলগ্ন খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান। পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু জানান, পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে, যা অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ। একই সাথে, খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাহান্দার আলী জাহান বলেন, মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের শিকার হয়ে এসেছে। অতীতে কিছু খাল বরাদ্দ দেওয়ার কারণে অনেক খালের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ নেই বলে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। তাই, খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের মাধ্যমে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা হবে। এই সময় মাদারীপুর পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু, পৌরসভার প্রকৌশলী, জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, পৌরসভার কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ