প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশজুড়ে রয়েছে ধূসর মেঘের আনাগোনা। প্রকৃতির বুকজুড়ে বর্ষার অপার সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের একটি হৃদয় জুড়ানো সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে উঠেছে এমন এক স্নিগ্ধ বিকালে, যেখানে গান, কবিতা, আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ এবং সমবেত সংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বর্ষার সৌন্দর্য, বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং আন্তরিক মিলনমেলার আবহের মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখা আয়োজন করে ঘরোয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘অনুভবে বর্ষা’। বুধবার (২২ জুলাই) বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে, এবং গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত, আবেগঘন এবং স্মরণীয় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
বসুন্ধরা গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শাখার সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলা সাহিত্য, সংগীত এবং সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে বর্ষার রূপ, অনুভূতি এবং মানবিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়। আয়োজনের প্রতিটি পর্বে ছিল শিল্পচর্চার প্রতি ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং একে অপরের সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করার আন্তরিক প্রয়াস।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখার সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘বর্ষার দিনে’ অবলম্বন করে আবৃত্তি করেন। তাঁর কণ্ঠে কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তি যেন বর্ষার মেঘ, বৃষ্টি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে জীবন্ত করে তোলে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে সেই আবৃত্তিকে উপভোগ করেন।
এরপর সংগীত পরিবেশন করেন শঞ্চিতা সেতু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি বর্ষার আবেগ, প্রকৃতির আহ্বান এবং হৃদয়ের অনুভূতিকে সুরে তুলে ধরেন। তার পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সুরের আবেশ।
আবৃত্তি পর্বে রুদাবা আনসারী জনপ্রিয় ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ পরিবেশন করেন। শৈশবের স্মৃতি, বর্ষার আনন্দ এবং সহজ-সরল অনুভূতিতে ভরা এই পরিবেশনাটি উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফোটায় এবং অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সংগীতের ধারাবাহিকতায় লামিয়া সানজিদা পরিবেশন করেন ‘যাও বলো তারে, মেঘের ওপারে’। এরপর আফিয়া সাড়া খান কণ্ঠে তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী বর্ষার গান ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে’। দুই শিল্পীর হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনায় বর্ষার আবেগ, ভালোবাসা এবং প্রকৃতির রূপ যেন একাকার হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বর্ষার স্মৃতিচরণ’ পর্ব। এ সময় সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানা বর্ষাকে ঘিরে নিজের জীবনের নানা স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তার স্মৃতিচারণে উঠে আসে শৈশবের বর্ষা, বৃষ্টিভেজা দিন, পরিবারকে ঘিরে নানা মুহূর্ত এবং জীবনের আবেগঘন স্মৃতি। উপস্থিত সদস্যরাও নিজেদের অনুভূতি ভাগাভাগি করলে পুরো আয়োজনকে আরও আন্তরিক, প্রাণবন্ত এবং পারিবারিক আবহে রূপায়িত করে।
এরপর লাবণ্য মল্লিক আবৃত্তি করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শক্তিময় কবিতা ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’। নারী জাগরণ, আত্মমর্যাদা, সাহস এবং শক্তির প্রতীক হিসেবে এ কবিতার আবৃত্তি অনুষ্ঠানকে নতুন মাত্রা যোগ করে। তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠে কবিতার প্রতিটি শব্দ উপস্থিত দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে এবং পুরো পরিবেশ দীর্ঘ করতালির আওয়াজে মুখরিত হয়ে যেতে থাকে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে পরিবেশন করেন ‘পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে’ এবং ‘এই মেঘলা দিনে একলা’। সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া এই গান দুটি শুধুমাত্র সংগীত নয়, বরং পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে। সমবেত কণ্ঠের সে সুরে যেন বর্ষার সৌন্দর্য আরও গভীরভাবে ধরা পড়ে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লামিয়া সানজিদা, নাঈমা ইসলাম, তানিয়া তানজি, লামিয়া রওশন, জাকিয়া সুলতানা, নুরে জান্নাত, রাজমিন সুলতানা, সালমা হোসেন ইমু, আফনান নাবিলা, শাহানাজ পারভীন, সায়েবা সিদ্দিকী, মাহাবুবা মিতা, ফাহমিদা আঞ্জুম উনাইসা, আফিয়া সাড়া খান, বিপাশা বিথী, রুকাইয়া নাজাত, আফরিন নাহার নিঝু, শিমা রাণী সাহা, রুদাবা আনসারী, শঞ্চিতা সেতুসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের ফলে পুরো অনুষ্ঠান আরও বর্ণিল এবং প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠে।
সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধুমাত্র সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বিকাশে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। ‘অনুভবে বর্ষা’ তারই একটি অনন্য উদাহরণ। ভবিষ্যতেও বাংলা সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সংগীতকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে, আশা প্রকাশ করেছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন