০২:০১ পি.এম
বান্দরবানের পার্বত্য জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে, কারণ এখানে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৬৭টিতে ২ হাজার ৫৮২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্যোগের কারণে লামা উপজেলায় পাহাড়ধসে মারা গেছেন ৫ জন এবং পানিতে ডুবে মারা গেছেন আরও ২ জন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস এসব তথ্য প্রদান করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক আরও জানান, ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানে মোট ৫১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ৪৮ মিটার নিচে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৩ দশমিক ৭১ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখনও সময় প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এছাড়াও, সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলমান দুর্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৪৭টি ভূমিধস ঘটেছে, যার মধ্যে ১১টি বড় আকারের। পাহাড়ধস এবং গাছ পড়ে ২১টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সেগুলি সচল করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি সচল করা হয়েছে এবং বাকি তিনটির সংস্কার কাজ চলছে।
কৃষি খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে, যা প্রায় ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষকের ক্ষতি করেছে।
ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৪০০ টন চাল, ২০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৬০ ব্যাগ ত্রাণ, ৮৭৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ৩ লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বান্দরবান পৌরসভার উদ্যোগে প্রতিদিন দুবার করে প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ জন দুর্গত মানুষকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে আরও ৩ হাজার ব্যাগ ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, রেড ক্রিসেন্ট, ব্র্যাক, গ্রাউস, ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অতিরিক্ত বিজিবি তাদের ক্যাম্পে ১৩০টির বেশি পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে।
পর্যটন পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বন্যার সময় থানচিতে ১৬৭ জন এবং রুমায় ৩৭ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। সর্বশেষ ৪ জন পর্যটককে আমিয়াখুম থেকে বিজিবির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
আগামী পরিকল্পনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষকে দ্রুত বাড়িতে ফেরানো হবে। প্রত্যাবর্তনের সময় তাদের অন্তত দুই দিনের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩ হাজার টাকা গৃহ মেরামত সহায়তা দেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। একইসাথে বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন