ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রকৃতি ও উন্নয়নকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী


প্রকৃতি ও উন্নয়নকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু মন্তব্য করেছেন যে, উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসাথে হাতে হাত রেখে চলবে।

মন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে উন্নয়ন প্রকৃতির সাথে সহাবস্থানে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানব কল্যাণ হবে একই পথের সহযাত্রী।

আজ শুক্রবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ব্র্যাক ব্যাংক এবং তরুপল্লব আয়োজিত 'দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫' অনুষ্ঠানে পদক প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন পরিবেশমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষের নিষ্ঠা ও উদ্যোগও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃতি রক্ষার এই প্রচেষ্টা সমাজ জুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে। মন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের ‘সবুজ ভবিষ্যতের নির্মাতা’ ও ‘নীরব পরিবেশ যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের এই নিষ্ঠা ও উদ্যোগ সমাজ জুড়ে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক -২০২৫ পেয়েছেন জীববৈচিত্র্য গবেষণায় অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান (নিসর্গ পুরস্কার), টেকসই কৃষি চর্চায় ‘প্রাণ বৈচিত্র্য খামার’ (জীববৈচিত্র্য পুরস্কার), তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে মো. বাদশা মিয়া (বৃক্ষসখা সম্মাননা), ডিজিটাল মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিতে উম্মে কুলসুম পপি (সবুজ সারথী সম্মাননা), প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভিদ গণনায় সুমাইয়া মারিয়ম (নবীন নিসর্গী সম্মাননা) এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবিব (পরিবেশ কীর্তিমান সম্মাননা)।

অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুপল্লবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পরিবেশবিদ, গবেষক এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ময়মনসিংহে যুবক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ময়মনসিংহে যুবক আটক

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিবেশী সুমন আহমেদ (২৫) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার করা যুবক মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের নিমুরিয়া (মধ্যপাড়া) এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছেন।

শিশুটির পরিবার, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকালে শিশুটি বাড়ির নিকট খেলছিল। সেই সময় সুমন তাকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার পর সুমন শিশুটিকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে কাউকে না বলার জন্য চাপ দেয়।

ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু হয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করলেও শিশুটি চুপ ছিল। পরে রাতে শিশুটির জ্বর চলে আসে।

প্রতিবেশী শিশুরা বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে খেলার জন্য ডাকতে এলে সে অসুস্থতার কথা জানায়। একসময়ে অন্য একটি শিশুকে ধর্ষণের বিষয়টি সে বলার সাহস পায়। ওই প্রতিবেশী শিশু অন্য কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে, এক পর্যায়ে বিষয়টি শিশুটির মায়ের কাছে পৌঁছায়। তখন মেয়েকে জিজ্ঞাসা করায় সে ঘটনা বিস্তারিত ভাবে জানায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সুমনকে আটক করে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে সুমনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

শিশুটির মা ওই ঘটনার পর বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তাগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটিকে জবানবন্দির জন্য শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিশুটির মা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ের পেটে ব্যথা। সে কিছু খেতে পারে না। কিন্তু সে ভয়ের কারণে আমাদের কিছু জানায়নি। গতকাল আমরা যখন ঘটনাটি জানতে পারলাম, তখন এলাকার লোকজন সুমনকে ধরে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেয়। আমার দুই মেয়ের মাঝে এই মেয়ে বড়। আমার মেয়ের সাথে যে অন্যায় হয়েছে, এর উপযুক্ত বিচার চাই।’

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। প্রথমে লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি ঘটনাটি কাউকে জানায়নি, তবে পরে খেলার ছলে আরেক শিশুকে বিষয়টি জানায়।

ওসি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামি সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগটি স্বীকার করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি অস্ত্রসহ খুলনায় আটক দুই ব্যক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


বিদেশি অস্ত্রসহ খুলনায় আটক দুই ব্যক্তি

খুলনা মহানগরের লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগাজিনসহ দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬, সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেফতারদের মধ্যে আছেন পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার মাদারশী এলাকার মো. শুক্কুর হাওলাদার (৩৫) এবং খুলনা মহানগরের লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকার মো. ইমরান খান (৩৭)।

র‍্যাব জানায়, অভিযান চলাকালে ইমরান খানের বসতঘরের তল্লাশি চালিয়ে তার নির্দেশ অনুসারে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেগুলো জব্দ করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্কুর হাওলাদারের বিরুদ্ধে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানায় এবং ইমরান খানের বিরুদ্ধে খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনার পর অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আলামতসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-৬।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজকের জন্য গাজাবাসীর চোখে জল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজকের জন্য গাজাবাসীর চোখে জল

 ফিলিস্তিনিরা দুঃখের যেন শেষ নেই। তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হলো কান্না। এই দুঃখের মধ্যেও তাদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছিলেন একজন মানুষ। বিশ্বকাপ ফুটবল যখন পুরো বিশ্বকে মাতোয়ারা করে রেখেছে, তখন তিনি গাজার উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের জন্য বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার আয়োজন করেছিলেন। হাজারো ফিলিস্তিনির মনে জায়গা করে নেওয়া সেই মানুষটাকেও হত্যা করেছে ইসরাইল।

বর্তমানে গাজা উপত্যকা ইসরাইলি হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে খাদ্য নেই, পানি নেই, নেই চিকিৎসা। খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে কোনোরকমে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন ২০ লক্ষাধিক মানুষ। এসব অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছিলেন মিশরীয় ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি।

গাজায় মিশরের প্রধান ত্রাণ সংস্থার এই সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে অনেকের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে পরিচিত মানবিক সহায়তাকর্মীদের একজন। গত মাসে ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হলে গাজাবাসীর জন্য তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।

ইসরাইলি হামলার মধ্যেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার সুযোগ হাজারো ফুটবলপ্রেমীকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল, কিন্তু সেই গাজা অন্তপ্রাণ মানুষটিকে হত্যা করা হলো ইসরাইলের হাতে।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলার প্রাক্কালে গাজার সাবরা এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে ৫৭ বছর বয়সি মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১০ ও ৮ বছর বয়সি দুই ভাইবোনও ছিলেন, যারা ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র (পিসিএইচআর) জানিয়েছে, হামলায় নিহত চতুর্থ ব্যক্তি ছিলেন ৩০ বছর বয়সি আহমেদ জিহাদ রজব দোগমুশ। তিনি ট্যাক্সি ভেতরে ছিলেন। তবে তিনি চালক ছিলেন নাকি যাত্রী, তা স্পষ্ট নয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা একজন হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল এবং নিরীহ ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত।

ইসরাইলি বিমান হামলায় ওয়াহিদির মৃত্যুতে গাজার সমগ্র অঞ্চলে মুহূর্তে গভীর শোকের ঢেউ বয়ে যায়। তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কাজের ছবি ও ভিডিওতে ভরে ওঠে। সেই সঙ্গে আসতে থাকে শত শত শোকবার্তা। বিশেষ করে যারা ত্রাণ বিতরণের সময় বা বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে থাকার সময় তার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের কাছ থেকে।

গাজাবাসীর অনেকেই বলেন, তিনি গোটা উপত্যকার আশ্রয়শিবিরগুলোতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তিনি অফিসে বসে কাজ করার বদলে মাঠপর্যায়ে থেকেও বেশি পছন্দ করতেন।

তার সাথে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি নিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থাকতেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন এবং তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা মেটানোর চেষ্টা করতেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল পরিবারগুলোকে, বিশেষত শিশুদের, যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে কিছুটা ছন্দময় অবসরে নিয়ে আসা।

মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি মূলত গাজায় মিসরীয় রিলিফ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক ছিলেন। যুদ্ধের সময় ধ্বংসস্তূপ সরানো, সড়ক চালু করা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়শিবির নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মিসরীয় রিলিফ কমিটি জানিয়েছে, আল-ওয়াহিদি সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মানুষের বিরোধ মীমাংসা করেছেন, অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় প্রদর্শন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মুখে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

গত বুধবার (৮ জুলাই) গাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গাজার হাজার হাজার মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন। দাফনের আগে আল-ওয়াহিদির মরদেহ ফিলিস্তিন ও মিসরের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো হয়। দিনভর প্রতিবেশী, বন্ধু ও স্বজনরা তার বাড়িতে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এদিন আল-ওয়াহিদির ছেলে ফাওয়াজ রয়টার্সকে ফোনে বলেন, ‘আমার বাবা বাস্তুচ্যুত মানুষ, যুদ্ধের শিকার পরিবার এবং গাজার কষ্টে থাকা মানুষের জন্য অন্তত কিছুটা আনন্দ এনে দিতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি তাদের তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের পাশে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন।’

ফাওয়াজ আরও বলেন, ত্রাণ সংস্থায় কাজ করা খুবই কঠিন ছিল। তবুও তার বাবা সবসময় বলতেন, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।

মিশরের দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আল-ওয়াহিদি ত্রাণ সংস্থার লজিস্টিক কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। এই সংস্থাটি গাজায় মিশর সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সূত্রগুলো আরও জানায়, মিশরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল-ওয়াহিদির মৃত্যুর বিষয়টি ইসরাইলের কাছে উত্থাপন করেছেন। তিনি গাজায় চলমান বিমান হামলা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মিশরের ম্যাচগুলো বিপুল দর্শক টেনেছে, যা এই দলটির প্রতি গাজার বহু ফিলিস্তিনির দীর্ঘদিনের ভালোবাসার প্রতিফলন — যারা দীর্ঘকাল ধরে প্রতিবেশী দেশ মিসরের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, আবেগগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছেন।

ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর মাঝে বড় পর্দার সামনে জড়ো হওয়া শিশু ও পরিবারগুলোর ভিডিও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে, যা এই সংঘাতের মধ্যেও আনন্দের বিরল দৃশ্য উন্মোচন করে। মিশর বনাম আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচ প্রদর্শনীর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আল-ওয়াহিদি নিহত হন, যা বহু ফিলিস্তিনির মনে ক্ষতির বেদনা আরও গভীর করে তোলে।

আল-ওয়াহিদির কাজের নথিপত্র রাখতেন ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ হুমাইদ। সহকর্মীর মৃত্যুতে তিনি লিখেছেন: ‘তিনি শুধু একটি মানবিক কমিটির ত্রাণকর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাস্তুচ্যুত ও সর্বস্বহারা মানুষের জন্য প্রতিদিন খুলে যাওয়া আশার একটি দুয়ার।’ তিনি আরও লেখেন, ‘যারা তাকে চিনতেন, তারা সবাই তার দয়া, সততা ও উদারতার কথা বলেন।’ ‘গাজায় যারা নিজেদের জীবন অন্যকে সাহায্য করার জন্য উৎসর্গ করেছেন, তারাও রেহাই পান না। কিন্তু ভালো কাজ কখনো মরে না। তা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।’

গাজায় মানবিক সহায়তাকর্মীরা এখনও মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করে চলেছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫৯৩ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ১০ মাস আগে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পরও আটজন নিহত হয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জ সীমান্তে কয়লা সংগ্রহে নেমেছেন স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


সুনামগঞ্জ সীমান্তে কয়লা সংগ্রহে নেমেছেন স্থানীয়রা

ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে সুনামগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় কয়লা কুড়ানোর হিড়িক দেখা গেছে। পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে শত শত টন কয়লা ভেসে এসেছে, যা সংগ্রহ করতে বিভিন্ন জনজীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরবেলা তাহিরপুরের কলাগাঁও সীমান্তের কলাগাঁও ছড়া দিয়ে ভেসে আসা ভারতীয় বাংলা কয়লা কুড়ানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয় লোকজন। মাছ ধরার ঠেলা, জালসহ আরও নানা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভেসে আসা ভারতীয় কয়লা তারা কুড়িয়ে তীরে নিয়ে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরের দিকে পাহাড়ি ঢলের পানির সঙ্গে মেঘালয় পাহাড় থেকে বাংলা কয়লা ভেসে আসতে থাকে। আশপাশের গ্রামের লোকজন দ্রুত সেই কয়লা কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য তীরে উঠতে থাকেন।

কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদ আলম সাদ্দাম জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলের পানির সাথে মেঘালয় পাহাড় থেকে প্রচুর বাংলা কয়লা ভেসে আসে। এলাকার বিভিন্ন লোক মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেই কয়লা কুড়ানোর চেষ্টা করেন এবং অনেকেই সফলভাবে কয়লা কুড়িয়ে নিয়ে তীরে তুলেছেন।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার জানান, ভারি বৃষ্টি হলে মেঘালয় পাহাড় থেকে বাংলা কয়লা ভেসে আসা শুরু হয়। পাহাড়ি ঢল ও বন্যাপ্রবণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কয়লার আগমনের সংখ্যা বাড়ে। এই কয়লা কুড়িয়ে নেওয়া দিয়ে সীমান্তের শত শত পরিবারের সংসার চলে। আজ পাহাড়ি ঢলের সাথে কয়লা আসায় লোকজন সেই কয়লা কুড়িয়ে জমা করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%