প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পদস্থগিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার সময় উপজেলা সদরের কামালপুরে নিজ বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ ওই রাতেই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে এবং করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা থেকে অপর দুজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারদের মাঝে রয়েছেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৩২), এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানালেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা স্বীকার করেছেন যে, পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। তবে কারা নেপথ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর কারণ কী, সেই ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মিঠামইন থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান নেপথ্যের কারিগরদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তিন হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘নিহত জাহাঙ্গীর বিএনপির জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তার জীবনাবসান পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন। শান্তির হাওরে একজন ভালো মানুষকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হলো, এটি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’
জানা গেছে, বুধবার রাতে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর মিঠামইন বাজারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে পৌঁছালে, আগে থেকেই অপেক্ষা করা তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থল থেকেই চাপাতিসহ হেলালকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা।
গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবী, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মিঠামইন বেড়িবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ স্থগিত করেছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন