বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:১০ পি.এম
বরিশালের বানারীপাড়ায় এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক এক শিক্ষার্থীর মাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন, জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধনের কথা বলে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোরশেদকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেছেন। তাকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে মোরশেদকে তার বাড়িতে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয়রা পিটুনি দেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে, আর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোরশেদ এর আগেও খুলনার একটি হোটেলে এক সহকারী শিক্ষিকাকে নিয়ে রাতযাপনকালে স্ত্রীর হাতে ধরা পড়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
এদিকে, মোরশেদের বিরুদ্ধে মামলার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খগোপতি রায়কে বিষয়টি অবহিত করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খগোপতি রায় বলেন, ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোরশেদ জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধনের কথা বলে এক শিক্ষার্থীর মাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত শিক্ষক মোরশেদকে আটক করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে বেশ কিছু আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর একাংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদন অনুসারে, কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি জেলার একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনের উপরের অংশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ভবনেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তিনি শুক্রবারকে কিয়েভের জন্য আনুষ্ঠানিক শোক দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
মেয়র ক্লিটসকো টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, সোলোমিয়ানস্কি ছাড়াও কিয়েভের আরও দুটি জেলায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এসব এলাকায় বেশ কিছু অনাবাসিক স্থাপনা, গুদামঘর, একটি স্কুল এবং একটি শিশু হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার পর কিয়েভে প্রায় ৯০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটইকে জানিয়েছে, তাদের প্রকৌশলীরা দ্রুত কাজ শুরু করে ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছেন।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং এয়ার ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আকাশপথে হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে ড্রোন তৈরির কারখানা, সামরিক ডিপো এবং লজিস্টিক হাব লক্ষ্য করে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মস্কোর রণকৌশল ও সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। যদিও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ চার বছর পূর্ণ namun, এখনও সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিনের পর জহুরুল ইসলাম (৫০) নামে একজন অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে, উপজেলার মাথাভাঙা মোড় সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ডোবা থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জহুরুল ইসলাম উপজেলার ৩নং গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরচর এলাকার মৃত তোফাজ্জল এর ছেলে।
জানা গেছে যে, দুপুরে মাথাভাঙা সড়কের পাশে ডোবায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন, এরপর দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অটোচালক গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর, মাদারগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় এ বিষয়ে জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন এই তারিখে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদি হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এরপর, গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।
এর আগে, ৬ জানুয়ারি গত বছরে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
তবে, ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদি। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ছয় জন পলাতক রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমির বিরোধের কারণে সংঘটিত হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং অনাদায়ে তাঁদের আরও ছয় মাসের জন্য সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোল্ল্যা সাইফুল আলম এই আদেশ প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্ত তিন ভাই হলেন— উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ব্যাপারির ছেলে আবদুল হালিম (৩৯), আবদুল হামিদ (৩৭) এবং মাহাবুর রহমান (৩৫)। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলা নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি সকালে সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর (বাড়াইকান্দি) গ্রামে আসামিরা একটি বিবাদমান জমির আইল উঠাতে গেলে তাঁদের ওয়ারিশ শাহাদাৎ হোসেন ও তাঁদের স্বজনরা তাঁদের বাধা দেয়। সেই সময় আসামিদের কোদাল ও লাঠির আঘাতে গুরতর আহত হন প্রতিপক্ষের শাহাদাৎ হোসেন, সাজেদা বেগম, সামছুল হক ও আবেদা বেগম। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। শাহাদাৎ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরদিন ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টা নাগাদ সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাৎ হোসেন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আতাউর রহমান ওই দিনই সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে থানার পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার বিকালে আদালত এ রায় প্রদান করে। রায়ে ১৩ আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, "মামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাক্ষ্য প্রমাণের শুনানি শেষে এই মামলায় তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দণ্ডিত করেছে আদালত। অনাদায়ে তাঁদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ