মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৯ পি.এম
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : করাচির উপকূলীয় অঞ্চলের একটি স্থানে পেরেক ঠোকার সুরেলা আওয়াজ এবং করাতের ঘর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সেখানে গ্রীষ্মের ফ্যাকাশে আকাশের নিচে বিশাল মাছ ধরার কাঠের নৌকার কাঠামোর ওপর ছোট ছোট মানুষের অবয়ব দেখা যাচ্ছে। তারা নৌকা নির্মাণের কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
বন্দরনগরীর উপকণ্ঠের সামুদ্রিক জনপদ ইবরাহিম হায়দারি বহু শতাব্দী পুরোনো বলে ধারণা করা হয়। ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নৌকা নির্মাণের জন্য এই এলাকা বেশ পরিচিত।
করাচি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানাচ্ছে।
স্থানীয় জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করা পাকিস্তান ফিশারফোক ফোরামের মেহরান আলী শাহ মন্তব্য করেন, ‘এই এলাকাই করাচির জন্ম দিয়েছে। করাচির মৎস্য খাতও এখান থেকেই গড়ে উঠেছে।’
শিল্পভিত্তিক জাহাজ নির্মাণের প্রসার ঘটলেও কাঠের টুকরো জোড়া দিয়ে হাতে নৌকা তৈরির এই ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে।
নৌকা নির্মাতা ২২ বছর বয়সী মুহাম্মদ আসিফ জানান, তিনি কিশোর বয়সে বাবার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছেন। বর্তমানে তিনি নিজেই নৌকা তৈরি করতে সক্ষম, এ নিয়ে তিনি গর্বিত।
মুখ ও রোদে বিবর্ণ চুলে কাঠের গুঁড়ো লেগে থাকা অবস্থায় আসিফ এএফপিকে বলেন, ‘এই কাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। তাই আমি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সবসময়ই আমার আগ্রহের বিষয় ছিল। তাই আমি এই পেশা বেছে নিয়েছি।’
অন্য শ্রমিকদের মতো আসিফ প্রতিদিন সকাল ৭টায় কাজে আসেন এবং রাত ৭টার দিকে রাতের খাবারের জন্য বাড়ি ফেরেন।
দুপুরে দুই ঘণ্টার খাবারের বিরতি ছাড়া তিনি কাজের সরঞ্জাম হাতছাড়া করেন না।
সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে তিনি দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি রুপি (৯ ডলার) আয় করেন।
সারা বছর শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের প্রবল বৃষ্টিও তাদের সহ্য করতে হয়।
একজন জেলে প্রথমে নৌকার নকশা বেছে নেন। এরপর একজন দক্ষ কারিগর নকশার ছাঁচ তৈরি করেন। সেখান থেকে শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। বছরের পর বছর অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই নৌকা তৈরি করেন।
কারিগররা বিভিন্ন ধরনের কাঠ বেছে নেন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ইউক্যালিপটাস কাঠ। সমুদ্রের পানির ক্ষয় প্রতিরোধে আফ্রিকান সেগুন কাঠও ব্যবহার করা হয়।
ভারী কাঠের টুকরোগুলো পুরোনো উল্লম্ব করাতসহ বিভিন্ন করাত দিয়ে হাতে আঁকা পেন্সিলের দাগ অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে কাটা হয়।
এরপর মাটি থেকে ধাপে ধাপে নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠের টুকরো ও পেরেক একটির পর একটি বসিয়ে নৌকার কাঠামো দাঁড় করানো হয়। কাঠামো যত উঁচু হয়, শ্রমিকরা ততই নড়বড়ে মই বেয়ে ওপরে ওঠেন।
আসিফ জানান, এই সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ায় কয়েক মিটার দীর্ঘ একটি ছোট নৌকাও তৈরি করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। খরচ হতে পারে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (৩ হাজার ৬০০ ডলার)।
নির্মাণকাজ শেষ হলে আঙিনাজুড়ে থাকা নৌকাগুলোতে রঙের ছোঁয়া দেন চিত্রশিল্পী মুহাম্মদ ইসমাইল।
৩৮ বছর বয়সী ইসমাইলের হাতে ও নখে নীল রঙের দাগ। রোদ-বৃষ্টিতে ক্ষয়প্রাপ্ত নৌকার কাঠামোয় তিনি ফুলের পাপড়ি আঁকছিলেন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এমন বহু নৌকায় কাজ করেছেন।
এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ জেলে মাছের নকশার চেয়ে ফুলের নকশাই বেশি পছন্দ করেন।’
নৌকার মালিক তার আঁকা নকশার প্রশংসা করলে তিনি ‘খুবই তৃপ্তি’ পান বলেও জানান।
ইসমাইল আরও বলেন, ‘কেউ কেউ আমাকে নিজের ধারণা অনুযায়ী নকশা করতে বলেন। আবার কেউ কেউ ঠিক কী চান— তা আমাকে বলে দেন।’
কাছের একটি বন্দরে জেলে কাদির বক্স একটি ছোট নৌকায় বসে মাছ ধরার জাল মেরামত করছিলেন। নৌকাটি অন্তত দুই দশক ধরে তাদের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে।
শিগগিরই কাঠের নৌকাটির সংস্কার করার আশা করছেন তিনি।
ইসমাইল বলেন, ‘এটি খুব মূল্যবান কোনো কিছুর যত্ন নেওয়ার মতো। এমনকি নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়ার মতোও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।
তিনি উল্লেখ করেন, "যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।"
আজ সচিবালয়ে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। তিনি ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমরা জানিয়েছি চলতি অর্থ বছরে নির্বাচন হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সৌজন্য সাক্ষাতে রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ভারতের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই আমরা। এ বিষয়ে হাইকমিশনারের সাথে আলোচনা হয়েছে।"
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনেশ ত্রিবেদী এ সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদেরও শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ আট জনের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৬ অক্টোবর আদালত দিন নির্ধারণ করেছে।
আজ ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বিএম তারিকুল কবীর এই দিন নির্ধারণ করেন।
আজকের জন্য মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে আদালত রায় ঘোষণা থেকে বিরত থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৬ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করে।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর ইশতিয়াক আহমেদ বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। ঘটনার পরপরই ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ১৫ জুন নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে হওয়ায়, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে বাদ দিয়ে তার বাবা-মাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। তদন্তে প্রমাণিত হলে সোহেল রানাই ভবনের মূল দেখভালকারী ছিল, ফলে তাকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর, ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় দফায় ভবন মালিক সোহেল রানা ও তার বাবা-মাসহ ১৮ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
২০১৭ সালের ২১ মে রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে মোহাম্মদ আলী খানসহ আটজনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানের ওপর ‘কঠোরভাবে’ আঘাত হানার হুমকি প্রদান করেছেন।
এছাড়া, তার অর্থমন্ত্রী তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ছয় মাসের যুদ্ধ চলার পরও দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করতে অব্যাহত রয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর একটি ইরানি দ্বীপে হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ পর তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বড় ধরনের সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ফক্স নিউজের একজন প্রতিবেদকের সঙ্গে অল্প সময়ের কথোপকথনের পর ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এর জবাব দেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে ইরানের মাইন পুঁতে রাখা ঠেকাতে তারা লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে, ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তেহরান জানায়, হামলাগুলো মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
তবে সোমবার পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংলাপের আহ্বান জানান।
কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার পথ খুঁজে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে নয়, এ অঞ্চলের স্বার্থেও নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।”
ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন-
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রোববার লারাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছে।
ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
তবে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে। শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে এগুলোর উৎস সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি।
ইরান আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাদেরও তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে। পাশাপাশি, হরমুজের ওপর একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।
আবুধাবি জানিয়েছে, তারা দেশের জলসীমার ওপর একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে, তবে আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় আইআরজিসি জানায়, হরমুজের ওপর আরও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালাতে না পারে।
সোমবার রাতে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানায়, প্রণালী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হানে। এতে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।
-‘চাপ অব্যাহত থাকবে’-
কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর এই পাল্টাপাল্টি হামলা হলো। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
এর আগে, সোমবার ট্রাম্প ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে ও ‘তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
উত্তর ক্যারোলাইনায় জি-২০ বৈঠকে সাংবাদিকদের বেসেন্ট বলেন, “আমরা চাপ অব্যাহত রাখব। এখানে এরই মধ্যে আমরা খুবই ভালো আলোচনা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, এই চাপ প্রয়োগের কার্যক্রমে ‘কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে’ একটি মোড় আসতে পারে।
হরমুজ প্রণালী অবরোধের মাধ্যমে ইরানও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের জন্য পণ্যের দাম বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় জেলা ও মহানগর বিএনপি পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে, যা বিএনপির দলীয় কার্যালয় এবং নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.মজিবুর রহমান সরোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছেন। তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। ১৭ বছর ধরে তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বর্তমান সরকার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে তার দেখানো পথ অনুসরণ করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করছেন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাড.বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া প্রমুখ।
এ সময় নেতা কর্মীরা একটি আধুনিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
অপরদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল জেলা বিএনপি নগরীর অশ্বিনীকুমার হল প্রাঙ্গণে পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড.বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড.আবুল কালাম শাহিন।
এ সময় জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে একটি র্যালি বের হয়ে নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। সকাল থেকে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, প্লাকার্ড, ফেস্টুন, ঢোল ও বাঁশি নিয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ