মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৪ পি.এম
বরিশাল, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় জেলা ও মহানগর বিএনপি পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে, যা বিএনপির দলীয় কার্যালয় এবং নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.মজিবুর রহমান সরোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছেন। তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। ১৭ বছর ধরে তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বর্তমান সরকার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে তার দেখানো পথ অনুসরণ করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করছেন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাড.বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া প্রমুখ।
এ সময় নেতা কর্মীরা একটি আধুনিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
অপরদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল জেলা বিএনপি নগরীর অশ্বিনীকুমার হল প্রাঙ্গণে পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড.বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড.আবুল কালাম শাহিন।
এ সময় জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে একটি র্যালি বের হয়ে নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। সকাল থেকে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, প্লাকার্ড, ফেস্টুন, ঢোল ও বাঁশি নিয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনেনি, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রও এই দলের হাত ধরে এসেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ।
তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, "আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।"
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, "তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।"
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, "এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।"
আন্দা ফিলিপ আরও বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, "তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চব্বিশের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজমিস্ত্রী বাবুল মৃধা আন্দোলনের সময় তার ছেলেকে খুঁজতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে বাবুল মৃধা মারা যান। এই ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
আজ যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান ইরফান গত ১৩ আগস্ট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা ও মহিউদ্দিন মহারাজ, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদullah আল-মামুন এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাবুল মৃধা চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তার কলেজ পড়ুয়া বড় ছেলে আবু তালেবকে খুঁজতে ঘর থেকে বের হন।
এ সময় যাত্রাবাড়ী লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পিঠে গুলিবিদ্ধ হন বাবুল মৃধা। পরে পথচারীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে গত ২২ আগস্ট সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে মো. বাবুল মৃধা মারা যান। এ ঘটনার পর তার স্ত্রী সীমা বেগম ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গতকাল সোমবার র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের ৪ জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৫২ সদস্য।
মঙ্গলবার র্যাব-৬ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল সোমবার সুন্দরবনে সক্রিয় ৪টি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫২ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন র্যাবের কাছে।
র্যাব-৬ এর মিডিয়াসেল সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, দুলাভাই ও আফজাল বাহিনীর ১৫ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্য।
র্যাব-৬ এর সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবনকে নিরাপদ ও জলদস্যুমুক্ত রাখতে র্যাব দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে। সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য সরাসরি এই বনের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবি ও স্থানীয়দের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে পূর্ববর্তী সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য ইতিপূর্বে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন দস্যুর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক তৎপরতার ঘটনাও সামনে আসে।
এ প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে র্যাব এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে। র্যাব-৬ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দস্যু বাহিনীগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা র্যাবের অন্যতম অগ্রাধিকার। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে র্যাব-৬ এর আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। তিন মাসের এ নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।
সুন্দরবন পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্যের আত্মসমর্পণ বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ, পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অবৈধভাবে কাঠ ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর অপরাধ প্রতিরোধেও তা সহায়ক হবে।
সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা এবং দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে র্যাব সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই মন্তব্য করেছেন পারস্পরিক স্বার্থ, সহযোগিতা এবং জনগণের কল্যাণকে ভিত্তি করে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিস কক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে, হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়, বিশেষ করে মুক্তবাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে, পিপল-টু-পিপল যোগাযোগকে আরও জোরদার করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্থানীয় সরকার খাতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভারতের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের হায়দ্রাবাদে অবস্থিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তিনি দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী এবং আলোচনা সাপেক্ষে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো শহীদুল হাসান, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান কুমার তুলশি দাসসহ মন্ত্রণালয় ও হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ