প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানের ওপর ‘কঠোরভাবে’ আঘাত হানার হুমকি প্রদান করেছেন।
এছাড়া, তার অর্থমন্ত্রী তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ছয় মাসের যুদ্ধ চলার পরও দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করতে অব্যাহত রয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর একটি ইরানি দ্বীপে হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ পর তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বড় ধরনের সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ফক্স নিউজের একজন প্রতিবেদকের সঙ্গে অল্প সময়ের কথোপকথনের পর ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এর জবাব দেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে ইরানের মাইন পুঁতে রাখা ঠেকাতে তারা লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে, ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তেহরান জানায়, হামলাগুলো মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
তবে সোমবার পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংলাপের আহ্বান জানান।
কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার পথ খুঁজে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে নয়, এ অঞ্চলের স্বার্থেও নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।”
ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন-
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রোববার লারাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছে।
ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
তবে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে। শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে এগুলোর উৎস সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি।
ইরান আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাদেরও তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে। পাশাপাশি, হরমুজের ওপর একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।
আবুধাবি জানিয়েছে, তারা দেশের জলসীমার ওপর একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে, তবে আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় আইআরজিসি জানায়, হরমুজের ওপর আরও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালাতে না পারে।
সোমবার রাতে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানায়, প্রণালী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হানে। এতে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।
-‘চাপ অব্যাহত থাকবে’-
কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর এই পাল্টাপাল্টি হামলা হলো। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
এর আগে, সোমবার ট্রাম্প ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে ও ‘তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
উত্তর ক্যারোলাইনায় জি-২০ বৈঠকে সাংবাদিকদের বেসেন্ট বলেন, “আমরা চাপ অব্যাহত রাখব। এখানে এরই মধ্যে আমরা খুবই ভালো আলোচনা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, এই চাপ প্রয়োগের কার্যক্রমে ‘কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে’ একটি মোড় আসতে পারে।
হরমুজ প্রণালী অবরোধের মাধ্যমে ইরানও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের জন্য পণ্যের দাম বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন