শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৩ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা সংঘটিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানার ওসির কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
রাতের বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ওসির কক্ষে গিয়ে সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে জানতে চান। সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার কারণে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে অভিহিত করেন।
এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে থানায় যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়াও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের জানান, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। কিন্তু সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার ফোন ধরেননি। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষই দেবে। এজন্য তার সঙ্গে হাজারো মানুষ এসেছেন এবং তারাই নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে নানা অভিযোগ তোলেন। অথচ আগের তুলনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটাই কমেছে। তার সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাদের এসব অভিযোগ শিখিয়ে এনেছেন।
ওসি আরও বলেন, সংসদ সদস্য তার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। মূলত, থানায় যে পরিমাণ পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তা দিয়ে থানার কার্যক্রম পরিচালনা করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওই সংসদ সদস্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা তখন কঠিন ছিল।
ওসি বলেন, সংসদ সদস্য গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে পারেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মেদ (৩৫) এর মরদেহ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে তার বাড়িতে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে তার মরদেহ সেখানে উপস্থিত হয়।
যখন স্বজনেরা তার মরদেহ নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাড়ির উঠানে দাদার কবরের পাশে শাহেদের কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। বিকেল ৫টায় স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে সকালে শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ আনতে তার স্ত্রী কাকলী বেগম ও দুই সন্তান যান। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে কাকলী এখন দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছেন।
শাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শাহেদ তার স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে। এই ঘটনায় শাহেদসহ অন্যান্যরা নিহত হন।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারা শাহেদের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে বাড়ির উঠানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের এই দুঃসময়ে মা-বাবা দুজনই দেশের বাইরে থাকায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শাহেদকে হারিয়ে তার পরিবার ও স্বজনেরা শোকস্তব্ধ। প্রিয়জনের এমন মর্মান্তিক বিদায় মেনে নিতে পারছেন না কেউ। বাড়ির উঠানে দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন শাহেদ। তিনি রেখে যাচ্ছেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে, যাদের সামনে এখন প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কঠিন বাস্তবতা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সন্তান ও স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লোভ কাজ করেছিল। এই নির্মম হত্যার ঘটনার ৩১ দিনের মধ্যে পুলিশ মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তবে, আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) মো. লুৎফর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই চার্জশিটে চারজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় এবং অপর অভিযুক্ত সিয়াম পুরো ঘটনার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইন অনুযায়ী তাদের গাজীপুর শিশু শোধনাগারে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোনটি নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বের হয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম। এরপর মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন কৌশলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে নিয়ে যায়। সেখানে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় সজোরে আঘাত করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইফোনটি নিয়ে খুনিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে আটক করা হয় এবং তার বাসা থেকেই অপ্রতিমের ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের দ্রুত সমাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের পরিবার। নিহত অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, "পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দেওয়ায় আমরা আশাবাদী। এখন আমাদের একমাত্র চাওয়া বিচার প্রক্রিয়া যেন দ্রুত শেষ হয় এবং আসামিরা যেন বয়সের ফারাকে আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। আমার একমাত্র সন্তানকে যারা এভাবে কেড়ে নিয়েছে, আদালত যেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সমুদ্র দূষণের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের কারিগরি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এমবি ইবা নামের ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু হয়।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, দূষণ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘিরে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শারজাহ ও আজমানেও তেলের গন্ধ পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ গন্ধে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উম্ম আল কুয়াইনের সৈকত ও উপকূলীয় এলাকাগুলো কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। জননিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণের পর এসব এলাকা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দূষণের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইতোমধ্যে তেল অপসারণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। পাশাপাশি উপকূলজুড়ে জরিপ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে দূষণের বিস্তৃতি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এর প্রভাব নিরূপণ করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল দূষণ নিয়ে উদ্বেগ
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলতি বছর তেল ছড়িয়ে পড়ার একাধিক ঘটনার পর নতুন এই দূষণ সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
গত জুনে ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের একটি ট্যাংকার ওমানের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে আটকে গিয়ে দেশটির দক্ষিণ উপকূলের পানিতে রুশ অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে দেয়। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, তেল ছড়িয়ে উপকূলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া গত ৩ আগস্ট হরমুজ প্রণালির কাছে মিনোয়ান পাইওনিয়ার নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের কেশম দ্বীপেও তেল দূষণ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, কেশম ও পার্শ্ববর্তী হেঙ্গাম দ্বীপের কাছে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জলভাগে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের তেল দূষণের পরিবেশগত প্রভাব দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। তেল উৎসস্থল থেকে বহুদূরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং দৃশ্যমান তেলের আস্তরণ মিলিয়ে যাওয়ার পরও ম্যানগ্রোভের শিকড় ও উপকূলীয় পলিতে আটকে থাকতে পারে।
উম্ম আল কুয়াইনে চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সামুদ্রিক জরিপের মাধ্যমে সর্বশেষ দূষণের প্রকৃত বিস্তৃতি এবং পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএনআই ও ইকোনমিক টাইমস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাহিত্য সংসদ সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঐতিহ্য কার্নিভালে সম্মাননা অর্জন করেছে। দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাহিত্য সংগঠনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঐতিহ্য প্রকাশনীর কার্নিভালের অষ্টম দিনে ‘ক্লাব-ডে: লিটারেচার ক্লাব সম্মাননা ও ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাব গেটটুগেদার’ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে অভিপ্সা দাস সম্মাননা গ্রহণ করেন। অন্যান্য সম্মাননাপ্রাপ্ত সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সাহিত্য সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিআইইউ রিডার্স ক্লাব এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইউএপি লিটারেচার ক্লাব।
অনুষ্ঠানে বুয়েট সাহিত্য সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন হাসান মামুন, রাফিদ আনজুম ও আহনাফ তারহাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কাসিরা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রাহমান, তারিন তাসনিম ও তানজিনা তাবাসসুম তন্দ্রা সম্মাননা গ্রহণ করেন।
ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’-এর পক্ষে সানজিদা হক এবং ইউএপি লিটারেচার ক্লাবের পক্ষে শাহনেওয়াজ শাহিন সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, "এই ধরনের স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। আমরা যারা সাহিত্যচর্চা করি, তাদের মধ্যে এ ধরনের সম্মাননা নতুন উদ্দীপনা ও উদ্যম তৈরি করে। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য নিয়ে আগ্রহ বা অনুরাগ কিছুটা কমে আসছে, সেখানে ঐতিহ্য প্রকাশনীর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন চমৎকার ও ভিন্নমাত্রার আয়োজনের জন্য ঐতিহ্য প্রকাশনীকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।"
এদিকে, আয়োজনের অংশ হিসেবে ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন হাসান মামুন, দ্বিতীয় হন রাফিদ আনজুম এবং তৃতীয় হন মাহবুবুল হাছান। বিজয়ীদের ঐতিহ্য প্রকাশনীর রচনাবলি উপহার দেওয়া হয়।
বিকেলে সাইফ বরকতুল্লাহ সম্পাদিত ‘সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। কার্নিভালের অষ্টম দিনের আয়োজনে সংগীতসন্ধ্যাও অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ