প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা সংঘটিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানার ওসির কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
রাতের বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ওসির কক্ষে গিয়ে সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে জানতে চান। সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার কারণে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে অভিহিত করেন।
এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে থানায় যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়াও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের জানান, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। কিন্তু সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার ফোন ধরেননি। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষই দেবে। এজন্য তার সঙ্গে হাজারো মানুষ এসেছেন এবং তারাই নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে নানা অভিযোগ তোলেন। অথচ আগের তুলনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটাই কমেছে। তার সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাদের এসব অভিযোগ শিখিয়ে এনেছেন।
ওসি আরও বলেন, সংসদ সদস্য তার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। মূলত, থানায় যে পরিমাণ পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তা দিয়ে থানার কার্যক্রম পরিচালনা করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওই সংসদ সদস্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা তখন কঠিন ছিল।
ওসি বলেন, সংসদ সদস্য গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে পারেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন