ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি পেলো জবি সাহিত্য সংসদ


সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি পেলো জবি সাহিত্য সংসদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাহিত্য সংসদ সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঐতিহ্য কার্নিভালে সম্মাননা অর্জন করেছে। দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাহিত্য সংগঠনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঐতিহ্য প্রকাশনীর কার্নিভালের অষ্টম দিনে ‘ক্লাব-ডে: লিটারেচার ক্লাব সম্মাননা ও ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাব গেটটুগেদার’ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে অভিপ্সা দাস সম্মাননা গ্রহণ করেন। অন্যান্য সম্মাননাপ্রাপ্ত সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সাহিত্য সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিআইইউ রিডার্স ক্লাব এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইউএপি লিটারেচার ক্লাব।

আরও পড়ুন: মাভাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জব ফেয়ারসহ দিনব্যাপী আয়োজন করেছে প্রসাশন

অনুষ্ঠানে বুয়েট সাহিত্য সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন হাসান মামুন, রাফিদ আনজুম ও আহনাফ তারহাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কাসিরা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রাহমান, তারিন তাসনিম ও তানজিনা তাবাসসুম তন্দ্রা সম্মাননা গ্রহণ করেন।

ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’-এর পক্ষে সানজিদা হক এবং ইউএপি লিটারেচার ক্লাবের পক্ষে শাহনেওয়াজ শাহিন সম্মাননা গ্রহণ করেন।

সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, "এই ধরনের স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। আমরা যারা সাহিত্যচর্চা করি, তাদের মধ্যে এ ধরনের সম্মাননা নতুন উদ্দীপনা ও উদ্যম তৈরি করে। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য নিয়ে আগ্রহ বা অনুরাগ কিছুটা কমে আসছে, সেখানে ঐতিহ্য প্রকাশনীর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন চমৎকার ও ভিন্নমাত্রার আয়োজনের জন্য ঐতিহ্য প্রকাশনীকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।"

এদিকে, আয়োজনের অংশ হিসেবে ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন হাসান মামুন, দ্বিতীয় হন রাফিদ আনজুম এবং তৃতীয় হন মাহবুবুল হাছান। বিজয়ীদের ঐতিহ্য প্রকাশনীর রচনাবলি উপহার দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: সরকারি ছুটিতে কবি নজরুল কলেজের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান

বিকেলে সাইফ বরকতুল্লাহ সম্পাদিত ‘সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। কার্নিভালের অষ্টম দিনের আয়োজনে সংগীতসন্ধ্যাও অনুষ্ঠিত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন পে স্কেল প্রদান, সরকারের সময়োপযোগী প্রশংসনীয় উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


নতুন পে স্কেল প্রদান, সরকারের সময়োপযোগী প্রশংসনীয় উদ্যোগ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষণা একটি সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরিজীবীরা আর্থিক চাপে জীবনযাপন করে আসছিলেন। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে নবম পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ বর্তমান সরকারের জনবান্ধব নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো যত শক্তিশালী হবে, সেই রাষ্ট্রের উন্নয়নও তত বেশি টেকসই হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশাসনের প্রাণশক্তি। তাদের কর্মস্পৃহা, দক্ষতা, সততা ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করে সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের সফলতা। তাই তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। নতুন পে স্কেল সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটাল রূপান্তর, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিও আন্তরিক মনোযোগ দিয়েছে। নবম পে স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে সরকার শুধু বেতন বৃদ্ধি করেনি, বরং সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতি সম্মান ও আস্থারও বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীরা রাষ্ট্রের প্রতিটি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, বিচার বিভাগ, প্রকৌশল, কর প্রশাসনসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকলে তাদের বাস্তব আয় কমে যায়। ফলে কর্মক্ষমতা ও মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নতুন পে স্কেল এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে, নগর জীবনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে একজন সরকারি কর্মচারীকে আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন পে স্কেল শুধু যৌক্তিকই নয়, বরং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।

একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য দক্ষ জনবল ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্য ও মেধাবী তরুণরা যাতে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহী হন, সেজন্য প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো অপরিহার্য। বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে সরকারি চাকরিতেও উপযুক্ত আর্থিক প্রণোদনা থাকতে হবে। নতুন পে স্কেল সেই লক্ষ্য পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। নতুন পে স্কেল ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়, এটি যথাসময়ে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পৃথক ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি যেমন বাড়বে, তেমনি তাদের কর্মদক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মানও উন্নত হবে। একজন আর্থিকভাবে নিরাপদ কর্মচারী অধিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ফলে জনগণও উন্নত ও দ্রুত সরকারি সেবা লাভ করবে। অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের সুফল শুধু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন পে স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক মর্যাদা ও কর্মপ্রেরণা বৃদ্ধি করবে। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন সেই রাষ্ট্রের কর্মচারীরা নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যেমন প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন আর্থিক নিরাপত্তা। একজন কর্মচারী যদি প্রতিনিয়ত সংসারের ব্যয় নির্বাহ নিয়েই উদ্বিগ্ন থাকেন, তবে তাঁর কাছ থেকে সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা আশা করা কঠিন। নতুন পে স্কেল সেই উদ্বেগ অনেকাংশে দূর করতে সহায়ক হবে।

বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ দেশ নির্দিষ্ট সময় পরপর সরকারি বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে। কারণ অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশও এখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী করা সময়ের দাবি ছিল। সরকারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে তারা দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনের মানবসম্পদ উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, পর্যাপ্ত আর্থিক প্রণোদনার অভাবে দক্ষ জনবল সরকারি চাকরি থেকে আগ্রহ হারিয়ে বেসরকারি খাতে চলে যান। ফলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবল হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। নতুন পে স্কেল এই প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে। মেধাবীরা সরকারি চাকরিতে আগ্রহী হবেন এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তারাও আরও উৎসাহের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। তারা সন্তানদের উন্নত শিক্ষা, পরিবারের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে অধিক সক্ষম হবেন। এর ইতিবাচক প্রভাব সমাজ ও অর্থনীতিতেও পড়বে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে বাজারে চাহিদা বাড়ে, উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কর্মচারীদের যৌক্তিক প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে নবম পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি। সরকারের এই উদ্যোগ প্রশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সুফল কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশাসনিক সেবার গুণগত মান উন্নত হলে সাধারণ মানুষও দ্রুত, কার্যকর এবং মানসম্পন্ন সেবা পাবেন। ফলে রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। একটি দক্ষ, দায়িত্বশীল ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্রশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে এর সুফল বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তখন সরকারি প্রশাসন আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব রূপ লাভ করবে। নবম পে স্কেল তাই কেবল একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার গুণগত উন্নয়ন, কর্মসংস্কৃতির বিকাশ এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে। একজন সন্তুষ্ট কর্মচারী তাঁর দায়িত্ব পালনে অধিক মনোযোগী হন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী থাকেন এবং জনগণকে উন্নত সেবা প্রদানে আন্তরিক ভূমিকা রাখেন। তাই উন্নত প্রশাসন গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো একটি বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন, অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অগ্রযাত্রার পেছনে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হিসেবে নবম পে স্কেল কার্যকর করা হলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বার্থ, ন্যায্যতা এবং বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করাও জরুরি। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো কর্মক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন পে স্কেল প্রদান সরকারের শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত মানুষের প্রতি সম্মান, দায়িত্বশীলতা এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। তাই দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো যায়, যারা সময়ের দাবি অনুধাবন করে নবম পে স্কেল প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং প্রশাসনে নতুন কর্মউদ্দীপনার সৃষ্টি হবে।

আশা করা যায়, সরকার দ্রুত নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা আরও দৃঢ় হবে।

দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অভিযাত্রাকে আরও বেগবান করতে নবম পে স্কেল কার্যকর করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

নতুন পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। আর সেই বাস্তবায়নের ভিত্তি হতে হবে জাতীয় বাজেটে নবম পে স্কেলের জন্য পৃথক ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ। সরকারের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি জনগণও আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারি সেবা লাভ করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব লিটন এরশাদ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকায় রাজধানীর শাহজাহানপুর আমতলা মোড়ে রাস্তা পারাপারের সময় একটি বেপরোয়া লেগুনার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি লেগুনা তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

পরে তাকে রাজধানীর ইসলামী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মাথার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ছয়টি সেলাই দেন এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এটি কি নিছক একটি সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত কোনো হামলার অংশ?

নিসচার নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং অবৈধ ও বেপরোয়া লেগুনা চলাচল বন্ধের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, জনসচেতনতা কার্যক্রম ও বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছে।

সম্প্রতি সরকারও বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সংগঠনের মহাসচিবের ওপর লেগুনার ধাক্কায় এ ধরনের ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা নিয়ে সংগঠনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

নিসচার একাধিক নেতা জানান, যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো মহল এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত লেগুনাটি শনাক্ত করে চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বলেছে, দেশের সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে তাদের আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পাশাপাশি মহাসচিব লিটন এরশাদের ওপর সংঘটিত এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ বা সন্দেহের বিষয়টি বর্তমানে নিসচার নেতৃবৃন্দের পর্যবেক্ষণ ও আশঙ্কার ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৮৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ পি.এম


ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৮৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে ঝিনাইগাতী উপজেলার গারোকোনা লেবুবাগান এলাকায় এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়, যা ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) হলদিগ্রাম ক্যাম্পের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই অভিযানের ফলে মালিকবিহীন অবস্থায় ৮৪ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজীম বায়েজিদ বুধবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জব্দ করা ভারতীয় মদের সিজার মূল্য ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


নকলায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নকলায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী।

তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই নজরুল বর্ষ উদযাপনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র গোপ, নকলা শাহরিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আজিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব খোরশেদুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এমপি এবং অন্যান্য অতিথিরা। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%