প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সমুদ্র দূষণের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের কারিগরি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এমবি ইবা নামের ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু হয়।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, দূষণ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘিরে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শারজাহ ও আজমানেও তেলের গন্ধ পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ গন্ধে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উম্ম আল কুয়াইনের সৈকত ও উপকূলীয় এলাকাগুলো কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। জননিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণের পর এসব এলাকা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দূষণের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইতোমধ্যে তেল অপসারণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। পাশাপাশি উপকূলজুড়ে জরিপ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে দূষণের বিস্তৃতি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এর প্রভাব নিরূপণ করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল দূষণ নিয়ে উদ্বেগ
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলতি বছর তেল ছড়িয়ে পড়ার একাধিক ঘটনার পর নতুন এই দূষণ সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
গত জুনে ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের একটি ট্যাংকার ওমানের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে আটকে গিয়ে দেশটির দক্ষিণ উপকূলের পানিতে রুশ অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে দেয়। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, তেল ছড়িয়ে উপকূলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া গত ৩ আগস্ট হরমুজ প্রণালির কাছে মিনোয়ান পাইওনিয়ার নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের কেশম দ্বীপেও তেল দূষণ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, কেশম ও পার্শ্ববর্তী হেঙ্গাম দ্বীপের কাছে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জলভাগে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের তেল দূষণের পরিবেশগত প্রভাব দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। তেল উৎসস্থল থেকে বহুদূরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং দৃশ্যমান তেলের আস্তরণ মিলিয়ে যাওয়ার পরও ম্যানগ্রোভের শিকড় ও উপকূলীয় পলিতে আটকে থাকতে পারে।
উম্ম আল কুয়াইনে চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সামুদ্রিক জরিপের মাধ্যমে সর্বশেষ দূষণের প্রকৃত বিস্তৃতি এবং পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএনআই ও ইকোনমিক টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন